ক্লুলেস হত্যাকান্ডের ৩ আসামি গ্রেপ্তার

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: রূপগঞ্জে সংগঠিত চাঞ্চল্যকর, ক্লুলেস ও নৃশংস সাব্বির আহমেদ হত্যাকান্ডের ৩ হত্যাকারীকে রূপগঞ্জের পূর্বাচল ১৩ নম্বর সেক্টর থেকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১।

বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান র‍্যাব ১১ এর সিপিসি ১ এর কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার এ কে এম মুনিরুল আলম।

২১ নভেম্বর ২০২১ তারিখে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন পূর্বাচল ১৩ নম্বর সেক্টরে নির্মানাধীন পুলিশ টাওয়ার এর ৭ম তলায় নির্মাণ শ্রমিক কুড়িগ্রামের কচাকাটা আষ্টআশিচরের শফকুল ইসলামের ছেলে মোঃ সাব্বির আহমেদ (১৭) এর হাত ও চোখ-মুখ বাঁধা অবস্থায় লাশ পাওয়া যায়। উক্ত ঘটনায় একই স্থানে নির্মাণ শ্রমিক ও নিহতের মামা মোঃ মহেমুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় ছায়া তদন্ত করে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন পূর্বাচল ১৩ নম্বর সেক্টর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলা রুজু হওয়ার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে নির্মাণ শ্রমিক মোঃ সাব্বির আহমেদ (১৭) এর নৃশংস ৩ হত্যাকারী কুড়িগ্রামের উলিপুরের রসুলপুরের ইব্রাহিম মন্ডলের ছেলে আশরাফুল ইসলাম, মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে আনিসুর রহমান এবং ইব্রাহীম আলীর ছেলে মিজানুর রহমানকে সনাক্ত ও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

প্রাথমিক অনুসন্ধান ও গ্রেফতারকৃত আসামিদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত ৩ জন আসামি পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভিকটিম মোঃ সাব্বির আহমেদকে হত্যা করে। গ্রেফতারকৃত ৩ জন হত্যাকারী ও ভিকটিম মোঃ সাব্বির আহমেদসহ কুড়িগ্রাম জেলার মোট ১৫ জনের একটি দল দীর্ঘদিন যাবত নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করে আসছিল। গত ২০ নভেম্বর চুক্তি অনুযায়ী উল্লেখিত নির্মাণাধীন ভবনে তাদের কাজ শেষ হয় এবং ২১ নভেম্বর মজুরী গ্রহণ পূর্বক তাদের যার যার মত বাড়ীতে যাওয়ার কথা ছিল। উল্লেখ্য ভিকটিম সাব্বির একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ব্যবহার করত।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের দেয়া ভাষ্যমতে উক্ত মোবাইল ফোনটি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে গত ২০ নভেম্বর তাদের নির্মাণ কাজ শেষে সন্ধ্যার পর আশরাফুল, আনিস ও মিজান ৩ জনে মিলে ভিকটিম সাব্বিরকে হত্যার পরিকল্পনা করে। অতঃপর পারস্পারিক যোগসাজসে তারা হত্যায় ব্যবহৃত লোহার ছোট রড ও জিআই তার জোগাড় করে ফাঁস বানায়। এরপর আনুমানিক রাত ৮ ঘটিকার দিকে হত্যাকারী আশরাফুল ভিকটিম সাব্বিরকে মোবাইল ফোনে কল করে ডেকে ৭ম তলায় নিয়ে যায় এবং অপর দুই হত্যাকারী আনিস ও মিজান তাদের পিছুপিছু ৭ম তলায় যায়। অতঃপর কথোপকথনের এক পর্যায়ে অতর্কিত ভাবে তারা ভিকটিম সাব্বিরকে হামলা করে এবং একজন ভিকটিম এর গলায় থাকা গাঁমছা দিয়ে ভিকটিম এর মুখ, নাক ও চোখ বেঁধে ফেলে, একজন ভিকটিমের পরিধেয় শার্ট দিয়ে হাত বেঁধে ফেলে এবং অপর জন লোহার রড ও জিআই তার দিয়ে বানানো ফাঁস ভিকটিম এর গলায় পেঁছিয়ে ভিকটিমের শ্বাসরোধ করে পারস্পারিক সহযোগিতায় ভিকটিমের মৃত্যু নিশ্চিত করে। অতঃপর তারা লাশটি টেনে একই তলার অন্য একটি কক্ষে নিয়ে প্লেইন শীট দিয়ে ঢেঁকে রাখে। ঘটনার পরের দিন ভিকটিম সাব্বিরকে তার সহনির্মাণ শ্রমিকরা দেখতে না পেয়ে সবাই মিলে খোঁজাখোজি শুরু করে এবং দুপুর আনুমানিক দেড়টায় উল্লেখিত নির্মাণাধীন ভবনের ৭ম তলায় সাব্বিরের লাশ খুঁজে পায়।

পরবর্তীতে, গ্রেফতারকৃত ৩ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী র‌্যাব-১১ এর আভিযানিক দলটি অত্র হত্যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হত্যায় ব্যবহৃত রডের সাথে পেঁচানো জিআই তার ও ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃত ০৩ হত্যাকারীকে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার হস্তান্তর করা হয়েছে।