ক‌রোনা ইস্যু: স্কুল-ক‌লেজ বন্ধ থাক‌লেও না.গ‌ঞ্জে মাদরাসা খোলা

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ঢালা তোসকে গাদাগাদি করে বসার আসন। সিট গুলোও তেল চিটচিটে। আশপাশে জামা কাপর ছড়ানো ছিটানো। পাটাতনে ময়লার স্তুপ। দস্তর খানাও দোয়া মুছার বালাই নেই।

নারায়ণগঞ্জের বেশির ভাগ কওমী মাদ্রাসা গুলোতেই এটি একটি সাধারণ চিত্র। সোজা কথায় নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর আদর্শ পরিবেশ।

অনেকে এই পরিবেশে থেকে করোনার প্রধান লক্ষন জ্বর কিংবা কাশির মতো রোগে অসুস্থ্য হলেও রাখা হচ্ছে অন্য শিক্ষার্থীদের পাশে। এতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দ্বীনি শিক্ষা লাভ করছে শিক্ষার্থীরা।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার লক্ষে গত ১৬ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আনোয়ারুল হক স্বাক্ষরিত এক স্মারকে বলা হয়, ১৮ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সকল ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার গুলো বন্ধ থাকবে।

১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) বিভিন্ন কওমী মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন লাইভ নারায়ণগঞ্জ’র স্টাফ করেসপন্ডেন্ট হামিদুল ইসলামআলী হোসেন টিটু। তারা দেখতে পান শহরের মাদরাসা গুলোতে পূর্বের নিয়মেই চলছে পাঠদান কার্যক্রম। আবাসিক থেকে অনাবাসিক সকল পর্যায়ের ছাত্ররাই উপস্থিত ছিল মাদরাসা গুলোতে। ছাত্ররাও জানেন না, সরকারী ভাবে ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়েছে নারায়ণগঞ্জসহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাদের মধ্যে নেই কোন প্রকারের সচেতনতার ছোঁয়াও। প্রতিষ্ঠান পরিচালকরা বলছেন, ‘স্কুল বন্ধ করতে বলা হয়েছে মাদরাসা না’।

চাষাড়া নবাব সলিমুল্লাহ রোডের দারুল উলুম বাগে জান্নাত মাদরাসায় গিয়ে দেখা যায়, সব ধরনের ছাত্রদের উপস্থিতিই ছিল মাদরাসাটিতে। মাদরাসার মক্তব বিভাগেও চলছিল পাঠদান কার্যক্রম। মসজিদের দ্বিতীয় তলাও চলছিল বড়দের কোরআন তিলাওয়াত। আবাসিক ছোট ছাত্রদের রুমে প্রবেশ করে ৪০জন ছাত্রের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়।

ব্যাপারটি নিয়ে মাদরাসাটির শিক্ষা সচিব আব্বাস উদ্দিন বলেন, কওমি মাদরাসা বোর্ড থেকে ক্লাস বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হলেও মাদরাসা বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়নি। আগামী ২৮মার্চ থেকে ৪এপ্রিল বার্ষিক পরীক্ষা রয়েছে, এরপরই বন্ধ হয়ে যাবে মাদরাসা। সে জন্য এখন বন্ধ দেয়া হয়নি।

উত্তর চাষাড়ার একেএম শামসুজ্জোহা রোডের মারকাজু দাওয়াতিল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় দেখা গেছে আরও ভয়াবহ চিত্র। গত দু’দিন যাবত মাদ্রাসাটিতে দুই শিশু জ্বরে ভুগছেন। পাশেই গদবাধা ভাবে পড়ানো হচ্ছে ছাত্রদের। মাদ্রাসাটিতে হোম কোয়ারেন্টাইনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলা হলেও ওয়াশরুমে ছিল না সাবান।

মাদ্রাসাটির পরিচালক হাফেজ মাওলানা রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, কওমি বোর্ডের নির্দেশনায় চলছে প্রতিষ্ঠান। বোর্ড থেকে ক্লাস বন্ধ করার কথা বলা হলেও, মাদরাসা বন্ধের কথা বলা হয়নি। তাই হোম কোয়ারেন্টাইনের মাধ্যমে পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে। প্রতিদিন ফজর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলে এই পাঠদান কার্যক্রম। অসুস্থ্য শিক্ষার্থীদের বাড়িতে নিতে অভিভাবকে বলা হয়েছে, তারা আসবেন।

আমলাপাড়া কে.বি.সাহা বাইলেনে অবস্থিত জামিয়াতুল আশরাফিয়া রহমতুল্লাহ মাদরাসায় প্রবেশ করে দেখা যায়, আঙ্গিনা পরিষ্কারে ব্যস্ত ছাত্ররা। দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়, করোনা ভাইরাসে সচেতন হয়েই এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন তারা। অন্যদিকে চলছিল পাঠদান কার্যক্রম এবং সকল ছাত্ররাই উপস্থিত ছিলেন মাদরাসায়। ছোট ছাত্ররাও ঘুমিয়ে ছিলেন এবং বড়রা কোরআন তিলাওয়াত করছিলেন।

প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মাওলানা আব্দুল কাদির বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানে সকল ক্লাস বন্ধ রয়েছে। কওমি বোর্ডের কাছে আমি প্রশ্ন করেছিলাম মাদরাসার ছাত্রাবাস কি খালি থাকবে? বোর্ড বলেছেন, যথাসময়েই যেহেতু পরীক্ষা হবে, যারা চলে যেতে চায় যাবে। আর যারা ছাত্রাবাসে থাকতে চায়, তারা থাকবে। ৭০০ ছাত্র থাকলেও সরকারের নির্দেশনার পর বর্তমানে ৩০০ ছাত্র রয়েছে।

এছাড়াও দেওভোগের বাংলাবাজার রোডে অবস্থিত দারুল আরকাম ক্বওমী মাদরাসা, উত্তর গোয়ালবন্দের কাশীপুর খিল মার্কেটে অবস্থিত মাদরাসাটিতে প্রবেশ করে একইরকম দৃশ্য চোখে পড়ে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে; তাদের বাহিরে আর কিছুই বলার নেই। এরকমই আরও অভিযোগ আমার কাছে রয়েছে। প্রাথমিক থেকে শুরু করে সকল প্রকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এমনকি কোচিং সেন্টারও বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেখানে মাদরাসা এর বাহিরে নয়। সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসকের সহযোগীতায় পরবর্তীতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহেরা ববি বলেন, আজকেও কয়েকটি মাদ্রাসা বন্ধ করেছি। পর্যায় ক্রমে সকল মাদ্রাসা বন্ধ করা হবে।

0