মানুষ ঠকাতে বাবার হাতিয়ার শিশু শাহজাদা

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ইউসুফ খান এবং তার পুত্র শাহজাদা ইমরান খান। তারা অভিনব কায়দায় মানুষ ঠকিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। কোথাও বাবা, কোথাও চাচা, আবার কোথাও ভাই ও মামা পরিচয় দিয়ে আবেদন করছেন সাহায্যের। তাদের সাহায্যের উপলক্ষ থাকছে বিভিন্ন রোগ-ব্যাধির। এর প্রমাণ তুলে ধরতে উপস্থাপন করা হচ্ছে জাল-জালিয়াতি করা প্রেসক্রিপশন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাপ-ছেলের সঙ্গে কাজ করছে একটি বড় সংঘবদ্ধ চক্র। যেটির স্থান সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড়ে। সেখানে তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মাদকের আড্ডাখানাও। জানা গেছে, গত ২০ জুন ইউসুফ আলমের কিডনি অপারেশনের কথা বলে বিভিন্ন স্থানে সাহায্যের আবেদন করেন ইউসুফ খান। সঙ্গে যুক্ত করা হয় চিকিৎসকের পরামর্শপত্র। আবেদনে তিনি নিজেকে ইউসুফ আলমের বাবা পরিচয় দেন। তবে সেখানে নিজের নাম দেখান ইউসুফ হারুন বলে।

আবেদনে বলা হয়, ‘আলমের একটি কিডনি সম্পূর্ণ নষ্ট, অপরটি দুর্বল। জরুরি ভিত্তিতে অপারেশনের মাধ্যমে কিডনি বদলাতে হবে। যার জন্য চার লাখ টাকা প্রয়োজন। এ পর্যন্ত অভাবের সংসারে তিনি ৪৪ হাজার টাকা ধার করেছেন। এতে আরও বলা হয়, ‘অসুস্থ এগারো বছরের ইউসুফ আলম সিদ্ধিরগঞ্জ ক্যাডেট হাইস্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। বর্তমানে সে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের কিডনি বিভাগের প্রধান ডা. নাসির আহমেদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন।’ অনুসন্ধান পর্বে বিষয়টি সম্পর্কে জানার জন্য যোগাযোগ করা হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে। সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক অফিস সূত্র জানায়, ওই এলাকায় সিদ্ধিরগঞ্জ ক্যাডেট হাইস্কুল নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। একই কথা জানান স্থানীয়রাও।

এরপর ডা. নাসির আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আবেদনে যে প্রেসক্রিপশন আর ওষুধের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তা তারই এবং তার হাতের লেখা। এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু ইউসুফ আলমকে তিনি এই প্রেসক্রিপশন দেননি। দিয়েছেন ৬৫ বছরের বেশি বয়স্ক এক ব্যক্তিকে। আবেদনে সংযুক্ত প্রেসক্রিপশনটিতে ওই ব্যক্তির নাম, বয়স ও দিন পরিবর্তন করে ইউসুফ আলমের নাম যুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রেসক্রিপশনটিতে সিএবিজে নামে একটি অপারেশনের এবং একটি ওপেন হার্ট সার্জারির কথা উল্লেখ করেছি। যেটি করা হয়েছিল ২০১১ সালে। আর ওইসব অপারেশন কখনো ১১ বছরের শিশুকে করা সম্ভব হয় না। এখানে বড় ধরনের জালিয়াতি করা হয়েছে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছে, একটি চক্র এভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে আবেদন করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অথচ প্রকৃত রোগীরা এ থেকে হচ্ছেন বঞ্চিত। তারা বলছেন, এসব আবেদন ছাপানোর আগে অবশ্যই পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। আর যারা সাহায্য করবেন, তাদের অবশ্যই রোগী দেখে বুঝেশুনে সাহায্য করতে হবে।

0