খানপুরে প্রেমে বাধা ধর্ম, প্রেমিক যুগলের পলায়ন

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: প্রায় ৩ বছর আগে পরিচয় হয় দুই তরুণ-তরুণীর। এরপর মাঝে মাঝে আলাপ। ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক রূপ নেয় ভালোবাসায়। কিন্তু সেই ভালোবাসায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় তাদের ধর্ম। সমাজে কেউই মেনে নিতে চায়নি। এ অবস্থায় পালিয়েছে অজানা গন্তব্যে।

শুক্রবার (৫ মে) রাতে নগরীর খানপুর ব্রাঞ্চ রোডে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে, মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে ‘অপহরণ’ অভিযোগের পর শনিবার দুপুরে ছেলের মাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।

পালিয়ে যাওয়া তরুণ তরুণীরা হলেন; নগর খানপুর এলাকার শিল্পপতি মাসুদ সাহেবের বাড়ির ভাড়াটিয়া জীবন আন্দের মেয়ে সমাপ্তি (২০) ও ছেলে খানপুর ব্রাঞ্চ রোড এলাকার লতিফ মিয়ার ছেলে ইমরান (২৩)।

ছেলের বাড়ির প্রতিবেশীরা জানান, ঘটনার আন্দাজ করে মাঝ রাতেই ছেলের বাড়ি চলে আসে সমাপ্তির পরিবার। সাথে ছিলো এলাকার লোকজন ও পুলিশ। মেয়ের পারিবার বিত্তশালী বলে নানা হুমকি ধামকি দিয়ে যায়। মেয়েকে খুঁজে বের করে দেয়ার জন্য দিয়ে যায় ১৬ ঘন্টার আল্টিমেটাম। তবে, সময় পাড় না হতেই দুপুরে চলে আসে পুলিশ। নিয়ে যায় ইমরানের মাকে।

সমাপ্তির মা কল্পনা রাণী বলেন, ছেলে বখাটে। নানা বাজে আড্ডার সাথে ছিলো। গত সাড়ে তিন বছর আগে আমার ছোট ছেলে জয়ন্ত এর পইতা পরা অনুষ্ঠানে ভিডিও ম্যান হিসেবে এসেছিলো ইমরান। সেখানে থেকেই পরিচয় হয়। সমাপ্তি বলতো এই ছেলে আমার মেয়ের পিছু নেয়। আমার মেয়েকে জোর করে নিয়ে গেছে।

ছেলের বাবা লতিফ বলেন, ২ মে সকালে নিজের ছোট ভাইয়ের সাথে পানি নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর ওর কাজে বের হয়ে যায়। আর ভিডিওর কাজ করায় মাঝে মাঝেই ২-৩ দিন বাহিরে থাকে। শুক্রবার রাতে হঠাৎ করে এক লোক পুলিশ নিয়ে এসে বলে, আমার মেয়েকে কোথায় রাকসো বের করো। আর আরো হুমকি দেয়। সকালে আমি কাজে গেলে দুপুরে পুলিশ এসে আমার স্ত্রীকে নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে সদর মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা ঘটনার তদন্তের জন্য ছেলের পরিবারের কাছে রাতেই গিয়েছি। আজ দুপুরে জিজ্ঞাসা করার জন্য ছেলের মাকে আমাদের হেফাজতে রাখি ছিলাম। জিজ্ঞাসা শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মেয়ের পরিবার অপহরণের মামলা দিয়েছে। তবে আমরা সন্দেহ করছি এটা প্রেমের বিষয়। আমরা তাদের উদ্ধারের কাজ চালাচ্ছি।

0