খানপুর ও ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল নিয়ে ক্ষোভ, ‘স্লোগান’ এর হুশিয়ারী!

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: করোনাভাইরাসের মহামারি এ সময়ে অনেকের অনেক কিছুই স্বচ্ছ চিত্র ফুটে উঠেছে। যেমন নারায়ণগঞ্জের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার করুন হাল সবচেয়ে বেশি প্রকাশ পেয়েছে। বর্তমান এই দুঃসময়ে জেলার প্রধান দুটি হাসপাতাল খানপুরের ৩’শ শয্যা ও সদর জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) এর নিয়ে অভাব-অভিযোগের অন্ত নেই। এমন নানা অভিযোগ কেন? কি নেই? কেন সংশ্লিষ্ট উপর মহলে জানিয়ে সমাধান করা হয় না? কার স্বার্থ দেখা হয় হাসপাতালে? এমন অসংখ্য প্রশ্ন মানুষের মাঝে।

জনপ্রতিনিধি কিংবা রাজনীতিবিদদের এই প্রশ্ন শুনতে হয় প্রতিনিয়ত। এবার সেই প্রশ্নের উত্তর খুজতে মাঠে নামার হুশিয়ারী দিয়েছেন ‘স্লোগান’ নামক সংগঠনের পক্ষ থেকে শেখ সাফায়েত আলম সানি। রাজনৈতিক পরিবারের ছেলে সানি। বাবা ছিলেন জনপ্রতিনিধি, বড় ভাইও জনপ্রতিনিধি। নিজের স্ত্রী ও শ্বশুরও জনপ্রতিনিধি। নেতৃত্ব দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ। তাই, নানা শ্রেনী মানুষের ক্ষোভ আর মনে কথাই খুব ভালো করেই বুজেন। তাইতো চুপ থাকতে পারলেন না। হাসপাতাল দুটোতে কি হয়, কিভাবে হয়, কেন হয়, সব কিছুই মনিটরিং করতে চান স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে।

বৃহস্পতিবার (১৪মে) দুপুরে নিজের ফেসবুক ওয়ালে এমনই একটি পোস্ট করেন। পোস্ট করার পর একমত পোষণ করে অসংখ্য লাইক-কমেন্টস আসতে থাকে।

পাঠকের জন্য সানির করা পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

“আল্লাহ্ যদি হায়াত দান করেন, বাংলাদেশ থেকে করোনা মুক্ত হওয়ার পরে স্লোগান সংগঠনের পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জ “খানপুর হাসপাতাল” ও নারায়ণগঞ্জ “ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে” সরকারি ভাবে ওষুধ পত্র ও অন্যান্য সামগ্রী কি কি প্রেরণ করা হয়? এবং কোন কোন খাতে তারা এগুলো ব্যয় করেন? আমরা সচেতন নাগরিক হিসেবে স্বেচ্ছাসেবক হয়ে এগুলো তদারকি করার দায়িত্ব চাইবো?

না এর জন্য আমাদের কোনো বেতন দিতে হবে না, হাসপাতালগুলোতে খাবার সাপ্লাই এর টেন্ডারও চাইবো না, বিভিন্ন মেডিকেল এক্সোসরিজ সাপ্লাই এর টেন্ডারও চাইবো না। আগেই বলে নিয়েছি স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে, নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বার্থে কাজ করবো। কিন্তু এটার জবাব দিতে হবে কেন আধুনিক যন্ত্রপাতি গুলো নষ্ট করা হলো? কি পরিমাণ সরকারি ওষুধ এবং অন্যান্য সামগ্রী আসে, এবং কোথায় কোথায় তারা এটা খরচ করে?

ছোটবেলায় শুনেছি এবং দেখেছিও নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতাল, বাংলাদেশের মধ্যে অত্যাধুনিক কয়েকটা হাসপাতালের অন্যতম একটা হাসপাতাল ছিলো। তৎকালীন সাংসদ মরহুম আলহাজ্ব একেএম নাসিম ওসমান সাহবের সুযোগ্য নেতৃত্বের ফলে নারায়ণগঞ্জের এই সরকারি হাসপাতালটি তৈরি হয়। জাপানিরা এই হাসপাতালটি তৈরি করেন।
কিন্তু একি হায়!!! দিনের পর দিন আধুনিক যন্ত্রপাতি সম্পন্ন হাসপাতালটা একটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চেয়েও ভঙ্গুর অবস্থায় পরিণত হলো কেন? এখানে একটা ব্লাড টেস্ট পর্যন্ত করা যায় না কেন? এখানে দায়িত্বরত ডাক্তাররা একবারও কি এই ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করেছেন? নাকি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার গুলো থেকে কমিশন খেয়ে মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছিলেন?
কাউকে হেয় করার জন্য বলছি না সময় হয়েছে একজন সুনাগরিক হিসেবে এগুলোকে তদারকি করে দেশের স্বার্থে কাজ করার। তাহলেই রাজনীতি সার্থক হবে বলে মনে করি।

#স্লোগান
#সোনার_বাংলা_গড়তে_হলে_সোনার_মানুষ_হই

শেখ সাফায়েত আলম সানি
সাবেক সভাপতি
নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ”

0