খানপুর ৩‘শ শয্যা হাসাপাতালে ১৯ কোটি টাকা দুর্নীতি!

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: খানপুর ৩‘শ শয্যা হাসপাতালের ঢুকতেই চোখে পড়বে বিভিন্ন ব্যানারে লেখা ‘আমি ও আমার প্রতিষ্ঠান দূর্নীতি মুক্ত’। এবার সেই দূর্নীতি মুক্ত স্লোগান দেওয়া হাসপাতালেই যন্ত্রপাতি ক্রয়ে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করার অভিযোগ উঠেছে। তবে, বর্তমানে হাসপাতালটিতে দায়িত্ব প্রাপ্তরা বলছেন, অভিযোগটি তদন্তে রয়েছে, প্রমানিত হলে ব্যবস্থা নিবে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ ৩‘শ শয্যা হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনায় যার বেশিরভাগই নিম্নমানের এবং অব্যবহৃত। ২০১৭-১৮ অর্থ বছর হাসপাতালটি ১৯ কোটি ১৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকার নিম্ন মানের ব্যবহার অনুপযোগী যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়। এ সব যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে চাহিদাপত্র ছাড়াই। ‘এ’ ক্যাটাগরির যন্ত্রপাতির মূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে ‘সি’ ক্যাটাগরির যন্ত্রপাতি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, উচ্চ পর্যায়ের গাফিলতি না থাকলে এতো বড় অঙ্কের দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ সম্ভব নয়।

ব্যাপারটি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ জানান, নারায়ণগঞ্জ ৩‘শ শয্যা হাসপাতালটি আমার অধিনে নয়, তাই ব্যাপারটি নিয়ে হাসপাতালটির তত্তাবধায়কের সাথে যোগাযোগ করুন।

এদিকে, হাসপাতালটির চিকিৎসা তত্তাবধায়ক ডা. মো. আবু জাহের বলেন, আমি এসেছি ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে। আর ঘটনাটি ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের। তাই ব্যাপারটি তত্বকালিন দায়িত্ব প্রাপ্তদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে উর্ধতন কর্মকর্তারা তদন্ত করছে, অপরাধী প্রমানিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, খাতটির প্রতিটি স্তরে দুর্নীতির কারণে স্বাস্থ্যখাতে টেকসই সেবার মানোন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে না। এই লুটপাট প্রক্রিয়াটা প্রতিষ্ঠানের আভন্তরীণ যে সব ঘাটতি আছে সেগুলো অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা দরকার।

স্বাস্থ্যখাতের এমন চিত্র দুদকের নজরে আসলে দুদক কমিশনার মোজাম্মেল হক খান বলেন, এক্ষেত্রে রোগের চিকিৎসা না, যিনি ক্রয়কারী তার স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য কেনা হয়েছে। দুর্নীতির সব ক্ষেত্রে আমরা সর্বদা সেটা মোকাবেলা করার চেষ্টা করি। আমরা যদি সুযোগ পাই তাহেলে অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসব। সরকারি অর্থ লুটে যারা জড়িত তাদের পদবি দেখা হবে না।

0