গণবিদ্যা নিকেতন স্কুলের শিক্ষকদের তুলোধুনো ডিসি’র

0

নারায়ণগঞ্জ করেসপন্ডেট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে ৭ বীরশ্রেষ্ঠ না জানতে চাইলে, শিক্ষকরা কেউ পারেনি। এতে ডিসি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আপনারা যদি না পারেন তাহলে শিক্ষার্থীরা জানবে কিভাবে? প্রধান শিক্ষক সহ শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই স্কুলের কোন কোন শিক্ষায় শিক্ষার্থী ভালো, ২জনের নাম বলেন? এতেও তারা কোন উত্তর দিতে পারেনি। এরপর শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে ডিসি বলেন, স্কুলের বাথরুমগুলো পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা রাখতে হবে। তা না হলে তারা বাথরুমে নাক ধরে থাকবে, সেটা হবে স্বাস্থ্যর জন্য ক্ষতিকারক।

একজন শিক্ষিকা ছাড়া কেউ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শতবার্ষিকী জন্মদিন উৎসবের কাউন্ট ডাউন্ট তারিখও বলতে পারেনি। এর ছাড়াও গণবিদ্যা নিকেতন হাইস্কুল কত সালে স্থাপিত হয়েছে, তাতেও শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা কেউ বলতে পারেনি। শিক্ষার্থীদের সাথে কোন শিক্ষক-শিক্ষিকা খারাপ আচরণ করবেন না, গরীব পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অবহেলা করবেন না।

ইভটিজিং নিয়ে এক শিক্ষার্থীর চিরুকুটে উত্তরে ডিসি বলেন, ইভটিজিং রোধে শিক্ষকদের অবহেলা বরাদ্ধ করা হবে না। এই দেশকে এগিয়ে নিতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। মুক্তিযোদ্ধাদের ভালোবাসতে হবে, তাদের সংখ্যা দিন দিন কমছে। এই স্কুলে এক সময় সাড়ে ৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ছিলো, সেখানে আজকে মাত্র ১২’শ শিক্ষার্থী রয়েছে। দিনে দিনে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমছে, এর মধ্যে মাত্র ৪/৫’শ শিক্ষার্থী ক্লাস করে।

তিনি বলেন, স্কুলের যে সকল সমস্যা রয়েছে তা দূর করতে হবে। স্কুলের ফান্ডের ৬০ লক্ষ টাকা ছিলো এখন রয়েছে মাত্র ৩৭ লক্ষ। এ সময় তিনি অভিভাবকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন তাদের সঠিক শিক্ষা পায় সেই ব্যবস্থা আমরা করবো। কোন ছাত্রী যেন ইভটিজিং এর শিকার না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাই কারন শিক্ষার জন্য যে পরিবেশ দরকার সেটা তোমাদের দিতে পারিনি। এদেশকে বাঁচাতে হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁচাতে হবে।

যে স্কুলে একসময় সাড়ে ৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ছিলো সেখানে আজকে মাত্র ১২’শ শিক্ষার্থী রয়েছে এবং এর মধ্যে মাত্র ৪/৫’শ শিক্ষার্থী ক্লাস করে।

২২ জানুয়ারি বিকাল ৪টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আফরোজা বানু, বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুদ্দিন আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহর আলী চৌধুরী, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মুকুল, প্রধান শিক্ষক এম.এ কাইউম সহ স্কুলের অভিভাবক ও শিক্ষক, শিক্ষিকা ও ছাত্র ছাত্রী বৃন্দ।

0