‘গণমানুষের সমর্থন হারিয়েছেন আইভী’

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: সিটি মেয়র আইভীর আহ্বায়নে নারায়ণগঞ্জে শান্তির পক্ষে সম্প্রীতির মানববন্ধন সফল হয়নি। নগরবাসী থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ ও অংগ সংগঠনের অধিকাংশ নেতা-কর্মী যোগ দেননি এই কর্মসূচীতে। হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া কেউই ছিলেন না। চাটুকার দু একজন ছাড়া স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ও এ কর্মসূচী বর্জন করেছে। স্বাচিপের বিদ্রোহী অংশের কয়েকজন, শ্রমিকলীগের বিদ্রোহী অংশের কয়েকজন কর্মসূচীতে অংশ নিলেও মূলধারার কেউই আসেনি। যদিও মেয়র নিজে এসব সংগঠনের নাম বলে সবাই উপস্থিত আছেন বলে মিথ্যচার করেছেন বলে নেতারা অভিযোগ করেছেন। আর মেয়র আইভীর সম্প্রীতির সমাবেশ সুপার ফ্লপ করায় অনেকেই মন্তব্য করেছেন, গণমানুষের সমর্থন আইভরি প্রতি আর নেই। যার প্রমাণ এই সুপার ফ্লপ কর্মসূচী।

দলীয় নেতা-কর্মীরা জানায়, দেশের সব থেকে বড় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এ দলের জন্ম জেলা নারায়নগঞ্জ। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাও মনে করেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রাণকেন্দ্র। নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতির ইতিহাসে সব সময় সাহসী নেতৃত্ব ভূমিকা পালন করেছে ওসমান পরিবারের সদস্যরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত ওসমান পরিবারকে ভালোবাসেন। জনসমূক্ষে প্রধানমন্ত্রী সেটি প্রকাশ করেছেন একাধিকবার।

সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবারের নামে কুৎসা রটিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চায় দলেরই একটি পক্ষ। আওয়ামী লীগের লেবাস থাকলেও সাংগঠনিক কোন কর্মকান্ডে সক্রিয়ভাবে দেখা যায় না তাদের। দলীয় কর্মসূচীতেও তাদের উপস্থিতি থাকেনা খুব একটা। নারায়নগঞ্জের সাধারণ মানুষের মন্তব্য ‘ দেশ বা দলের দূর্যোগকালে তাদের দেখা না গেলেও সুবিধাজনক সময়ে গর্ত থেকে বেড়িয়ে আসে তারা’।

বর্তমান সময়ে কুমিল্লায় পূজা মন্ডপে পবিত্র কোরআন শরীফ রেখে একটি কুচক্রিমহল দেশে অরাজকতা তৈরীর পায়তারা করেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্নস্থানে হামলা, আগুনসহ তান্ডব চালানো হয়েছে। যদিও নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সর্বোচ্চ সতর্কতার কারণে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কুমিল্লার ঘটনার পর থেকে প্রভাবশালী সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান স্বশরীরে মাঠে ছিলেন। তারই নির্দেশে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগসহ অংগসংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পাহাড়া দিয়েছেন। জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যাবস্থা জোরদারের পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে দফায় দফায় আলেম ওলামা ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সাথে বৈঠক করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ জায়েদুল আলম। প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহযোগীতা নিয়ে প্রতিটি মন্ডপে হিন্দু ধর্মলম্বীরা উৎসবের আমেজে শারদীয় দূর্গাপূজা পালন করেছে। স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জের হিন্দু ধর্মালম্বীরা।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি হয়েও এই কঠিন দূর্যোগকালে ঘরে বসেছিলেন। এতে হিন্দু ধর্মালম্বীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ছায়া পরেছে। অবশেষে নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্প্রীতি ও শান্তির পক্ষে নাটকীয় মানববন্ধন করেন। নগরীর চাষাড়া থেকে মন্ডলপাড়া পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন করার ঘোষনা দিলেও হিন্দু সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন মহল আইভীর ডাকে সাড়া দেয়নি। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কয়েকজন উপস্থিত থাকলেও অধিকাংশ নেতা-কর্মীকেই দেখা যায়নি এই কর্মসূচীতে। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে অনেকেই মন্তব্য করেছেন ‘ দেশের অবস্থা স্বাভাবিক হইছে, মেয়রও গর্ত থেকে বের হইছে। নাম মাত্রই মাঠে নামে তিনি’। মেয়র আইভীর আহ্বায়নে শান্তি ও সম্প্রীতির কর্মসূচী সুপার ফ্লপ হয়েছে।

এতেই বুঝা যায়, আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল হলেও, সেই দলের নেত্রী হয়ে মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর প্রতি গণমানুষের সমর্থন নেই। নামেই মাঠে নেমেছে আইভী, তবুও পায়নি গণমানুষের সমর্থন।

 

নিউজ পড়তে ক্লিক করুন

আইভীর সেই জনপ্রিয়তা আর নাই