গাজীপুরের ১ বছরের উন্নয়ন ধরতে না.গঞ্জ সিটির লাগবে ৩০ বছর!

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: রাজধানীর পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ জেলার দারিদ্র্যের হার দেশের অন্য যে কোন জেলার চেয়ে কম। জনসংখ্যার দিক দিয়েও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের চেয়ে ৩ লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস এই নারায়ণগঞ্জ সিটিতে। তারপরেও নারায়ণগঞ্জ সিটির থেকে প্রায় ২ বছর পর প্রতিষ্ঠিত হওয়া গাজীপুর সিটি করপোরেশন  ৩০ গুণ বেশি বাজেট ঘোষণা করেছে এবার।

স্থানীয়রা বলছেন, ‘বর্তমান নারায়ণগঞ্জের মেয়র পুরোপুরি ব্যর্থ। স্বাস্থ, শিক্ষা এবং জীবনযাত্রার মান নিয়ে কাজ না করলেও কিছু ফ্ল্যাট-দোকান দিয়ে নাগরীক প্রতিনিধিদের মুখ বন্ধ করে রেখেছেন।’

শিল্প অধ্যুষিত জেলা নারায়ণগঞ্জের ৩টি পৌরসভা বিলুপ্ত করে ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সিটি করপোরেশন। তার প্রায় ২ বছর পর ২০১৩ সালে পাশের জেলা গাজীপুরে সিটি করপোরেশন গঠনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন হয়। অথচ, মাত্র ৮ বছরের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জ সিটি থেকে সেই গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বাজেট এখন প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। যেখানে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের এবারের বাজেট মাত্র ৬৮৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, চলতি বছরের ২৯ আগস্ট গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের জন্য ২০ হাজার ৯৮৬ কোটি ২৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এ বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ হাজার ৬৮৮ কোটি ৮৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। বাজেটে উদ্বৃত্ত রাখা হয়েছে ২৯৭ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার টাকা।

অথচ, অর্থ, সামর্থ ও সুযোগ থাকার পরেও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে মাত্র ৬৮৮ কোটি ২৩ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেতে পেরেছেন। প্রস্তাবিত এ বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৭৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ৩৪০ টাকা। বাজেটে উদ্বৃত্ত রাখা হয়েছে ১০ কোটি ৭৩ লাখ ৪৪ হাজার ১৬ টাকা।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন নিয়ে ২০১৬ সালের নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী এড. শাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘আপনার দেখবেন গত ৭ বছর আগেও গাজিপুর সিটি কর্পোরেশনের বাজেট, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বাজেট থেকে কম ছিলো। এখন গাজীপুরের বাজেটের ৫০ ভাগও না নারায়ণগঞ্জ সিটির বাজেট। বাস্তবতা হচ্ছে, বড় দাগে কোনো উন্নয়ণ হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। সিটিতে কোনো মেডিকেল কলেজ নাই, কদম রসূল ব্রীজ হয়নি, নবীগঞ্জ ব্রীজও হয়নি, জলবদ্ধতা আছে এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই খারাপ, রাস্তা ঘাটে সব সময় যানজট থাকে, ধুলাবালির শহর, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা খারাপ। সত্যি কথা বলতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারায়ণগঞ্জের যে অবদান, সে অনুযায়ী সরকার থেকে বাজেট আনতে ব্যর্থ হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের এই মেয়র। অথচ, তারপরেও মেয়রের কিছু লোকজন প্রচার করে আইভী অনেক কাজ করছেন।’

এ ব্যাপারে ২০১১ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী এড. তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে ছিলাম একটি নিরাপদ শহর গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। যেখানে নাগরিকরা সুবিধা ভোগ করবে, তবে করের বোঝা থাকবে না। স্বাস্থ্য সম্মত নগরী হবে, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু ১০ বছরেও সেটি হয়নি এখনো। মেয়রের কাজ ছিল পর্যাপ্ত পাঠাগার নির্মাণ করা, ব্যায়ামাগার করা, চিকিৎসা কেন্দ্র করা, মাত…সদন করা, খেলাধুলার মাঠ করা, বয়স্কদের বিশ্রামাগার করা। এলাকায় এলাকায় পত্রিকা স্ট্যান্ড থাকবে, প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারে সহায়তা করা, সিটিতে সবুজায়ণ করারও দায়িত্ব ছিল। সেই হিসেবে নারায়ণগঞ্জ সিটিতে কিছুই হয়নি। কিন্তু সেগুলো না হলেও সিটি কর্পোরেশন থেকে শুধু কিছু ফ্লাট তৈরী করেছে। বর্তমান মেয়র নাগরিক সুবিধা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

অন্যদিকে, ২০১৬ সালে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক মেয়র প্রার্থী মাহবুবুর রহমান ইসমাইল বলেন, নারায়ণগঞ্জ জনসাধারণের জন্য যে সকল সুবিধা দেওয়া দরকার ছিল, সে গুলো সিটি কর্পোরেশন করতে পারেনি। শুধু টেক্স বৃদ্ধি পেয়েছে, সেবার মান বৃদ্ধি পায়নি। মেয়র এখনো পানি সমস্যার সমাধান, জলবদ্ধতা নিরসন, রাস্তায় চলাচলে স্বচ্ছলতা, নারায়ণগঞ্জে একটি মেডিকেল কলেজ ও একটি ইউনিভার্সিটি করতে পারেনি। বিভিন্ন কালচারাল পয়েন্ট ধরে কাজ করতে পারেনি। শ্রমজীবীদের জন্য হাসপাতালও করতে পারেনি। নারায়ণগঞ্জে নাগরিক সুবিধা অন্য জেলা থেকে পিছিয়ে, নামেই একটা সিটি কর্পোরেশনে আছি, কাজে আমরা একটা পৌর সভার থেকেও পিছিয়ে। মেয়র রাজনীতির এপিট ওপিট নিয়ে ব্যস্ত থাকে। নির্বাচন হয়েছে মূলত টাকার খেলা, ২০১৬ সালে টাকার নির্বাচন হয়েছে নারায়ণগঞ্জে। সেই নির্বাচনে কোটি কোটি টাকার বণ্যা হয়েছে। সাধারণ মানুষ তার মত দিবে কিভাবে।

0