গাজীর পরশে বজলুর শ্রমে বদলে গেছে চনপাড়া

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়গঞ্জ: সকালে উঠেই খাবার পানি সংগ্রহে যেতে হতো বহুদুর। এরপর মাটির চুলায় লাকড়ি ঠেলে কোন রকম রান্না শেষে তড়িঘড়ি করে চলে যেতে হলো কাজে। প্রায় দিনই দেরি হতো, আর তাতে শোনতেন মালিকের নানা কথা। সন্ধ্যায় আবারও বাসায় ফিরে অন্ধকারের যন্ত্রনা। আলোর অভাবে ছেলে-মেয়েরাও পড়তে বসতো না। গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির এমন নিদারুন কষ্টের দিনালিপি নিত্যসঙ্গি ছিল চনপাড়া পূর্নবাসন কেন্দ্রের।

এমন চিত্র ২০০৯ সালের। কেন্দ্রে বসবাসকারী সবাই শ্রমজীবী। কেউ পোষাক শ্রমিক কেউবা পরিবহন, কেউবা দিনমজুর কেউবা দোকান কর্মচারি। এলাকায় কৃষি জমি নেই, নেই পুকুর কিংবা খামার। তাই, নারী- পুরুষ সবাই খেটে খাওয়া দিনমজুরি-শ্রমিক। সেই সাথে তাদের শিশু-সন্তারাও ছিল শিক্ষা থেকে বঞ্চিত।

সেই চিত্র এখন আর নেই। মাত্র ১১ বছরের মাথায় ওয়ার্ডটিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এখন ঘরে ঘরে গ্যাস লাইন, শতভাগ বিদ্যুতায়ন, গলিতে গলিতে গভির নলকূপ। আর শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যায়লয় নির্মাণ হয়েছে।

আর এ সবই হয়েছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বজলুর রহমানের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং মন্ত্রী গোলাম দস্তগির গাজীর পরশে।

স্থানীয়রা জানায়, চনপাড়া পূর্নবাসন কেন্দ্রের একটি বড় অংশে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধা ও তার সন্তানরা বসবাস করেন। কিন্তু কোন ভোটাধিকার ছিল না। স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারতেন না তারা। পরে ব্যাপারটি নিয়ে এমপি গোলাম দস্তগির গাজীর দারস্ত হন তৎকালীন কায়েতপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বজলুর রহমান। ভোটের অধিকার আদায়ে মামালা করা হয় কোর্টে। ২০১০ সালে হাইকোর্টের নির্দেশে ভোটার হন পূর্নবাসন কেন্দ্রের প্রতিটি মানুষ। ওই সময় মামলা পরিচালনাসহ সমস্ত ব্যয়ের অর্থ সহযোগিতা দেন এমপি গাজী।

২০১১ সালে অনুষ্ঠিত হয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। সেখানে এলাকার মানুষের অনুরোধে প্রার্থী হয়ে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য নির্বাচিত হন বজলুর রহমান বিপুল ভোটে।

নির্বাচিত হওয়ার পর চনপাড়া পূর্নবাসন কেন্দ্রের মানুষ তাদের দুঃখ-দুদর্শা তুলে কথা জানাতে থাকেন জনপ্রতিনিধি বজলুর রহমানের কাছে। বজলুর রহমানও সে কথা বুঝাতে সক্ষম হয় এমপি গোলাম দস্তগীর গাজীকে। পরে সরকারি অনুদানের পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নে গোলাম দস্তগীর গাজী ওয়ার্ডটির চিত্রই পাল্টে দেন। গাজীর সহযোগিতা পেয়ে বজলু রাত দিন পরিশ্রম করে সকল সমস্যার সমাধান করতে থাকেন।

প্রায় ২৪ হাজার ভোটারের এই ওয়ার্ডে লক্ষাধীক মানুষের বসবাস। এই বিশাল মানুষের ঘরে ঘরে এখন গ্যাস রয়েছে। শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া পানির সমস্যার সমাধানে বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে ২৬টি গভির নলকুপ স্থাপন করা হয়েছে। এলাকায় সরকারি- বেসরকারী একাধিক স্কুল নির্মান করা হয়েছে। জড়ার্জিন প্রাথমিক স্কুল ভবনকে মন্ত্রী গাজীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে করা হয়েছে বহুতল ভবন। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়।

কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য বজলুর রহমান বলেন, আমাদের এমপি পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগির গাজীর ভাষ্য, ‘বঙ্গবন্ধুর দেখানো স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধে জাপিয়ে পরে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছেন। এখন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাজ করছেন।’ আমরা শুধু মানুষের দুঃখ-দুদর্শার কথা গুলো তাঁর কাছে পৌছে দিয়েছি। আর উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি নিজেই। সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগেও বহু উন্নয়ন করেছেন। এখনও কাজ করে চলেছেন।

বজলুর রহমান আরও বলেন, চনপাড়া এমন বৈপ্লবিক পরিবর্তনে মানুষের ভালোবাসা যা পেয়েছি, আমি ধণ্য। আর সবই সম্ভব হয়েছে আমাদের নেতা, গণমানুষের আস্থা-ভরসাস্থল বীর প্রতীক গোলাম দস্তগির গাজী। আমার এমন কর্মকান্ডে রাজনৈতিক কিছু প্রতিপক্ষের মাথা নস্ট। তারা আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তবে, জনতার ভালোবাসায় সব কিছুই তুচ্ছ। জয় সত্যের।

0