গুরু আখ্যা দেওয়া ব্যক্তিরাই ষড়যন্ত্র শুরু করেছে: আনোয়ার

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারাণগঞ্জ: ‘এটা (নামফলক ভাঙ্গা) কিন্তু আমার নতুন কিছু নয়, এরপূর্বেও যাদেরকে আমি রাজনীতি শিখিয়েছি, যাদেরকে রাজনীতি হাতে খড়ি দিয়েছি, তাদের দ্বারাও আমি নিগৃহীত হয়েছি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে মানুষের কথা বলায় নিগৃহীত হয়েছি। শেখ হাসিনা সেই স্বীকৃতি স্বরূপ আমাকে মহানগর সভাপতি ও জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে বসিয়েছেন।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের কর্ম বিরতির সমাপ্ত অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে এ কথা বলেছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন।

তার ভাষ্য, ‘আমার দীর্ঘ ৫০ বছরের রাজনীতির জীবন। এই সময়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। নিজের দলের ভিতরে যারা অন্যায় করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়িয়েছি। মানুষের স্বার্থে কথা বলেছি। এটাই আমার অপরাধ। তাই অনেক নির্যাতন, জেল জুলুম সহ্য করতে হয়েছে।’

গত ১৭ নভেম্বর সোনারগাঁ জি.আর ইনস্টিটিউশন স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান ফটকে সাঁটানো নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের নামে লাগানো নামফলকটি ভাঙ্গা হয়। এ ঘটনায় অভিযোগের আঙ্গুল তোলা হয় নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার বিরুদ্ধে। এর পরের দিন থেকেই ঘটনায় আওয়ামী লীগ বিক্ষোভ করেছেন। একই ঘটনায় জেলা পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও ৩ দিনের কর্ম বিরতি পালন করছিল।

সমাপনী অনুষ্ঠানে আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘শামীম আমার অনেক ছোট, সেলিম ওসমান আমার শিষ্য। এমপি বাবু আমার অনেক ছোট। নারায়ণগঞ্জে যত গুলো এমপি রয়েছে, সবাই আমাকে গুরু বলে সম্বোধন করেন। অনেককেই রাজনীতির হাতে-খড়ি দিয়েছি, রাজনীতি কাকে বলে, সেই শিক্ষা আমি দিয়েছি। কিন্তু সন্ত্রাস, মস্তান আর ভূমিদস্যুতার আদর্শ-শিক্ষা তাদের দেই নাই। এটাই আমার দু:খ, যাদের আমি রাজনীতির শিক্ষা দিলাম, তারাই আমার উপর চড়াও হয়। তারাই আমার নামফলক ভাঙ্গে। যারা এক সময় গুরু আখ্যা দিয়েছে, তারাই আজ এই সমস্ত ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। কারণ আনোয়ার হোসেন একজন রাজনৈতিক কর্মী, আমি কোন সন্ত্রাসী করি না, আমি কোন মস্তানি করি না, আমি কোন ক্যাডার নিয়ে চলি না।’

আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘অনেকেই আমার সাথে বেয়াদবি করে, আবার বাড়ি গিয়ে পা ধরে মাপ চায়। নারায়ণগঞ্জে যারা এমপি রয়েছেন, সকলেই আমার ছোট। সবাই আমাকে গুরু বলে সম্বোধন করে। খোকা তুমিও আমার ছোট। তোমাকেও হয়তো কোন দিন ক্ষমা চাইতে হবে।’

0