গ্রেডিং সিস্টেম না বদলে মান উন্নয়নের আবদার না.গঞ্জের শিক্ষাবিদদের

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: দেশের বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এর বদলে সিজিপিএ-৪ (কিউমুলেটিভ গ্রেড পয়েন্ট অ্যাভারেজ) করার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রনালয়।
বুধবার (১৩ জুন) আন্ত. শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বৈঠকে তিনি সিজিপিএ পুনর্বিন্যাস করে একটি খসড়া উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। ফলশ্রুতিতে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) এবং হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় আর জিপিএ ৫ পাওয়ার সুযোগ থাকছে না। আগামী জেএসসি পরীক্ষা থেকেই – সিজিপিএ ৪-এর মধ্যে ফল প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
আন্ত. শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক জানান, ‘আন্ত. বোর্ডের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠকে সিজিপিএ ৫-এর পরিবর্তে ৪-এর মধ্যে ফল প্রকাশে সবাই একমত হয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে আমরা বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে বৈঠক করব। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ফল পর্যালোচনা করব। এরপর আগামী এক মাসের মধ্যে সিজিপিএ ৪-এর মধ্যে কিভাবে ফল দেওয়া যায় সে ব্যাপারে একটি খসড়া শিক্ষামন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করব। যদি সম্ভব হয় তাহলে চলতি বছরের জেএসসি থেকেই আমরা সিজিপিএ ৪-এর মধ্যে ফল প্রকাশ করতে চাই।’
এইদিকে, শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের এই উদ্যোগটি নিয়ে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন শিক্ষাবিদদের মধ্যে নানা আলাপ-আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। তবে, অধিকাংশের মতে, ‘গ্রেডিং ব্যবস্থায় পরিবর্তন না এনে শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নানা উদ্যোগ নেওয়া উচিত। ’
এব্যাপারে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও চেঞ্জেস স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জিএম ফারুক বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা যে করুণ হয়েছে যে, কোন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর রেসাল্ট কাগজপত্রে ভালো দেখালেও সত্যিকার অর্থে সে তেমন কিছুই জানে না। যা সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায় ভার্সিটি পরীক্ষার সময়ে। গ্রেডিং সিস্টেম পরিবর্তনে শিক্ষা মন্ত্রনালয় এ জিপিএ-৫ দশা থেকে সিজিপিএ-৪ করার চেষ্টা করছে। এটা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য কতটুকু ভালো হবে, সিজিপিএ-৪ ব্যবস্থা চালু হলে তা বোঝা যাবে।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বেইলি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা কাসেম জামাল বলেন, আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ফল নির্ভর না হয়ে জ্ঞান নির্ভর হতে হবে। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কীভাবে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যথেষ্ট শিক্ষক রয়েছেন কিনা, তারা মানসম্মত শিক্ষক কিনা এই সব বিষয় আগে দেখতে হবে। শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
জানা গেছে, বাংলাদেশে ২০০১ সাল থেকে পাবলিক পরীক্ষায় গ্রেড পদ্ধতি চালু হয়। সেখানে ৮০ থেকে ১০০ নম্বর প্রাপ্তদের গ্রেড পয়েন্ট ৫, লেটার গ্রেড এ প্লাস। এটাই সর্বোচ্চ গ্রেড। এরপর ৭০ থেকে ৭৯ নম্বর প্রাপ্তদের গ্রেড পয়েন্ট ৪, লেটার গ্রেড এ। ৬০ থেকে ৬৯ নম্বর প্রাপ্তদের গ্রেড পয়েন্ট ৩.৫০, লেটার গ্রেড এ মাইনাস। ৫০ থেকে ৫৯ নম্বর প্রাপ্তদের গ্রেড পয়েন্ট ৩, লেটার গ্রেড বি। ৪০ থেকে ৪৯ নম্বর প্রাপ্তদের গ্রেড পয়েন্ট ২, লেটার গ্রেড সি। ৩৩ থেকে ৩৯ নম্বর প্রাপ্তদের গ্রেড পয়েন্ট এক, লেটার গ্রেড ডি। আর শূন্য থেকে ৩২ পাওয়া শিক্ষার্থীদের গ্রেড পয়েন্ট জিরো, লেটার গ্রেড এফ। জিপিএ ১ অর্জন করলেই তাকে উত্তীর্ণ হিসেবে ধরা হয়। কোনো বিষয়ে এফ গ্রেড না পেলে চতুর্থ বিষয় বাদে সব বিষয়ের প্রাপ্ত গ্রেড পয়েন্টকে গড় করেই একজন শিক্ষার্থীর লেটার গ্রেড নির্ণয় করা হয়। তবে সব বিষয়েই ৮০-র ওপরে নম্বর পাওয়া ফলকে অভিভাবকরা গোল্ডেন জিপিএ ৫ বলে থাকেন। কিন্তু শিক্ষা বোর্ডগুলোর ফল নির্ধারণ পদ্ধতিতে গোল্ডেন জিপিএ নামে কোনো গ্রেড নেই।

বর্তমানে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গড়ে সব বিষয়ে ৮০-এর ওপরে নম্বর পেলে সিজিপিএ ৪ ও লেটার গ্রেড হয় ‘এ প্লাস’। এরপর ৭৫ থেকে ৮০-এর মধ্যে সিজিপিএ ৩.৭৫ ও লেটার গ্রেড ‘এ’; ৭০ থেকে ৭৫-এর মধ্যে গ্রেড পয়েন্ট ৩.৫০ ও লেটার গ্রেড ‘এ মাইনাস’; ৬৫ থেকে ৭০-এর মধ্যে পয়েন্ট ৩.২৫ ও লেটার গ্রেড ‘বি প্লাস’; ৬০ থেকে ৬৫-এর মধ্যে পয়েন্ট ৩ ও লেটার গ্রেড ‘বি’; ৫৫ থেকে ৬০-এর মধ্যে পয়েন্ট ২.৭৫ ও লেটার গ্রেড ‘বি মাইনাস’; ৫০ থেকে ৫৫-এর মধ্যে পয়েন্ট ২.৫০ ও লেটার গ্রেড ‘সি প্লাস’; ৪৫ থেকে ৫০-এর মধ্যে পয়েন্ট ২.২৫ ও লেটার গ্রেড ‘সি’; ৪০ থেকে ৪৫ নম্বর পেলে পয়েন্ট ২ ও লেটার গ্রেড ‘ডি’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর ৪০-এর কম নম্বর পেলে ফেল, এর লেটার গ্রেড ‘এফ’, এতে কোনো গ্রেড পয়েন্ট নেই।

0