ঘুঘুর ফাঁদ দেখা শুরু করেছি: সংবাদ সম্মেলনে তৈমূর আলম

নায়ারণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারী) সকালে নগরীর নবাব সলিমুল্লাহ সড়কের একটি বাসায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তৈমুর আলম এসব কথা বলেন।

স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, ‘ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ভূমিকা সম্পর্কে আপনাদের অবগত করেছি। নির্বাচন কমিশন শুরু থেকেই আমাকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দেয়নি। ১৬ ডিসেম্বর ২০ হাজার নেতাকর্মীর একটা র‍্যালিতে আমার সভাপতিত্ব করার কথা ছিল। নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে আমি সে সমাবেশে যাইনি। কিন্তু আমার বার বার অভিযোগের পরেও সরকারি দল এমপি ও বড় বড় নেতাদের এনে উস্কানিমূলক ও ভয়ভীতি ছড়ানোর মত কথাবার্তা বলেন। একজন সম্মানিত মেহমান বলেছেন, তৈমূরকে মাঠে নামতে দেয়া হবে না। আরেকজন সম্মানিত নেতা অতি দায়িত্বশীল তিনি বলেছেন, তৈমূর ঘুঘু দেখেছে ফাঁদ দেখেনি। তিনি ২৪ ঘন্টায় আমাকে রেজাল্ট দেখানোর করা বলেছেন।

এই ঘোষণার ২৪ ঘন্টা পার না হতেই আমি ঘুঘু এবং ঘুঘুর ফাঁদ দেখা শুরু করেছি। আপনারা জানেন জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি আমার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক। তার হাতে দায়িত্ব ছিল এজেন্ট ও নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ পরিচালনা ও সহযোগীতা করা। কালকে যখন আমি জানতে পারলাম রবিকে গ্রেফতার করা হয়েছে তৎক্ষনাৎ এসপি অফিসে যাই। তিনি অফিসে নেই। টেলিফোনে বললাম রবিকে গ্রেফতার করা হয়েছে কেন, তারা বললেন তার নামে ওয়ারেন্ট আছে।

তিনি বলেন, বিএনপির এমন কোন নেতাকর্মী নেই যাদের নামে ওয়ারেন্ট নেই। আমি বললাম যেদিন আমি নমিনেশন ক্রয় করি জমা দেই এমনকি বাছাই ও প্রতীক বরাদ্দের দিনও আমার সাথে ছিল রবি। আপনি তাকে এতদিন গ্রেফতার করেননি। ঘুঘু দেখানোর জন্য সম্মানিত নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক সাহেব যখন বললেন তারপর থেকেই কেন আপনারা আমাকে ফাঁদ দেখানো শুরু করেছেন। আপনারা কী চান না নারায়ণগঞ্জে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হোক? আপনাদের দুঃখের সাথে জানাচ্ছি আমার ওয়ার্ড বিএনপির নেতা মোশাররফ হোসেন জানিয়েছে তার বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি করেছে। মাজহারুল ইসলাম জোসেফের বাড়িতে তল্লাশি হয়েছে, তাকে গ্রেফতারের আপ্রান চেষ্টা করেছে। সে যুবদলের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছে।

‘বন্দর থেকে ধামগড় ইউনিয়নের কামাল হোসেন চেয়ারম্যান আমাকে সমর্থন করা তার বাড়িতে তল্লাশি হয়েছে। তার কেয়ারটেকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এভাবেই আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে।

তৈমূর বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই তিনি এ নির্বাচনটা দিয়েছেন। তারা সর্বক্ষণ বলে থাকে বিএনপি নির্বাচনে আসে না, ভয় পায়। এখন আপনারা দেখেন রাজনৈতিক দলগুলো কেন নির্বাচন বয়কট করে। কেন তারা আসতে চায় না এর জলজ্যান্ত প্রতিচ্ছবি আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। জনগনের রায়ই চুড়ান্ত রায়। তারা যে ঘুঘু দেখানোর কথা বলেছে সে ঘুঘু যদি দেখানো হয় তাহলে আমি মনে করি এখানে সবচেয়ে বেশি ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। হয়ত তিনি বিষয়টা জানেন না বা তার নজরের বাইরে গিয়ে এ ধরনের জুলুম অত্যাচার করা হচ্ছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি অবশ্যই আপনি নারায়ণগঞ্জের জনগনের আশা আকাংখার প্রতিফলন ঘটাবেন।

”থানায় যখন আমরা খোঁজ নেই তারা বলে আমরা কিছু জানি না। এসপি সাহেবকে বলতে চাই আপনি যদি এর ব্যবস্থা না নেন তাহলে আপনার অফিসের সামনে বসে পড়া ছাড়া আমার অন্য কোন উপায় থাকবে না।’

তৈমূর আরো বলেন, এই নির্বাচনে যদি আপনি পুলিশ দিয়ে এভাবে হয়রানি করেন তাহলে আপনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমি মনে করি। সরকারের অনেক বড় বড় কর্মকর্তাদের বিলেত যাওয়ার ভিসা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এতে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। আপনার নিজের ভাবমূর্তির প্রশ্নে বিষয়টা বিবেচনায় রাখবেন।