ঘূর্ণিঝড় বুলবুল: নীরব শহর, ফাঁকা রাস্তাঘাট

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: দুপুর পৌনে ৩টা। নগরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা ২নং রেল গেইট মোড়। সড়কের দুই পাশই প্রায়ই ফাঁকা। যেন বেমানান লাগছে।

নিত্যযানজটের এই মোড়টিতে ট্রেন আসলেই সাধারণত পেরোতে আধা ঘণ্টার ওপরে সময় নষ্ট হয়, সেখানে শুধু দু-একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আর মাঝেমধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাস (প্রায় যাত্রীশূন্য) চলছে।

রোববার (১০ নভেম্বর) ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে নগরের ফাঁকা রাস্তাঘাটের এ দৃশ্য দেখা যায়।

ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিনে এমনিতেই শহর ছিল ফাঁকা। বন্ধের দিন ও বৃষ্টি হওয়ায় শহরের অন্যতম প্রধান বঙ্গবন্ধু সড়কেরও যানবাহনের চাপ দেখা যায়নি। ফলে রাস্তার ছিল ফাঁকা। হাতে গুনা কয়েকটি রিকশা ও সিএনজি ছাড়া তেমন কোন যানবাহনও দেখা যায়নি। নগরীর ব্যস্ততম ফুটপাতও ছিলও ফাঁকা। খাবারের দোকানগুলো ছাড়া তেমন কোন বড় দোকানও খোলা দেখা যায়নি।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে সব থেকে বিপাকে পড়েছে নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দর এলাকার বাসিন্দারা। ঝড়ের কারণে সকাল থেকেই নৌকা চলাচলে ব্যাহত হয়েছে। এতে করে জরুরী প্রয়োজনে আসা যাত্রীরাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা খেয়াঘাটে অপেক্ষা করেন। তাছাড়া অতিরিক্ত ভাড়ায় অনেকেই নদী পার হয়েছেন। একই অবস্থা শীতলক্ষ্যা নদীর আরো অন্যান্য খেয়াঘাটগুলোতেও।

অন্যদিকে শুক্রবার বিকেল থেকে বন্ধ হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া নৌ যান চলাচল এখনও চালু হয়নি। এতে করে দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। দু রাত টার্মিনালে অপেক্ষা করলেও রোববার সকলে যানবাহনের গন্তব্যে পৌঁছাতে যাত্রা শুরু করেছেন।

বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুব বেশি না হলেও দিনভর নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদফতর।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল নিয়ে সারাদেশের লাখ লাখ মানুষের মধ্যে নানা শঙ্কা ও ভয় থাকলেও বিপদ কেটে গেছে। তবে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার কারণে জনজীবনে নেমে এসে দুর্ভোগ।

0