চলছে ধর্মঘট, জানেন না শ্রমিকরা!

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: সরকারের কাছে ১৫ দফা দাবি পেশ করে সারাদেশে ধর্মঘট পালন করছে বাংলাদেশ কাভার্ডভ্যান-ট্রাক-প্রাইমমুভার পণ্যপরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রাকচালক শ্রমিক ফেডারেশন। মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘট আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ভোর ৬টা পর্যন্ত চলবে।


বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ডভ্যান ও প্রাইমমুভার পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুকবুল আহমেদ ও মহাসচিব চৌধুরী জাফর আহমেদ জানান, এর আগে এসব দাবি নিয়ে সরকারপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। তবে সেখান থেকে সাড়া না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে দাবি আদায়ে কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ধর্মঘটের কথা জানে না অনেক পণ্য পরিবহনের চালকরা। সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে ট্রাকে পণ্য আনা-নেওয়া করতে দেখা গেছে।

ট্রাকচালকরা বলছেন, সকালে এসে শুনেছেন আজ ধর্মঘট। কিন্তু কারা কী কারণে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন, তারা কিছুই জানেন না। তাদের সংগঠনের নেতারা এ বিষয়ে তাদের কিছুই জানায়নি বলে দাবি করেন।

নিতাইগঞ্জে ট্রাকের ট্রাকের চালক মতিউর রহমান জানান, রাস্তায় থাকি। টিভি বা পেপার কিছুই দেখি না। তাই ধর্মঘট কারা ডেকেছে আমাদের জানা নেই। সকালে এসে শুনছি আজ ধর্মঘট।

ফতুল্লা ট্রাক স্ট্যান্ডের চালক আব্দুল্লাহ জানান, পণ্য পরিবহন মালিক শ্রমিকদের একাধিক সংগঠন রয়েছে। এদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যেসব দাবিতে ধর্মঘটের ডাকা হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করার দাবি জানিয়ে আসছি দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু আমাদের দাবির কথা সরকার কানে তুলছে না।

তিনি আরও বলেন, সকল মালিক শ্রমিক সংগঠন একত্রে বসে যদি আন্দোলননের ডাক দেয় তবেই সুফল মিলবে। অন্যথায় বিচ্ছিন্নভাবে ধর্মঘট পালন করে দাবি আদায় সম্ভব নয়।

১৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- *মোটরযান মালিকদের ওপর আরোপিত অগ্রিম আয়কর বা বর্ধিত আয়কর অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। *ইতোমধ্যে আদায় করা বর্ধিত কর স্ব স্ব মালিককে ফেরত দিতে হবে। *পুলিশের ঘুষ বাণিজ্যসহ সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। *গাড়ির কাগজপত্র চেকিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করতে হবে। *যেসব চালক ভারী মোটরযান চালাচ্ছে তাদের সহজ শর্তে ও সরকারি ফি’র বিনিময়ে অবিলম্বে ভারী ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে হবে।

*সব শ্রেণির মোটরযানে নিয়োজিত সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মতো রেশনিং সুবিধার আওতায় আনতে হবে। *চট্টগ্রামে অবস্থিত ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মনোনীত প্রতিনিধি এবং সব ড্রাইভার ও সহকারীকে চট্টগ্রাম বন্দরে হয়রানিমুক্ত প্রবেশের সুবিধার্থে বাৎসরিক নবায়নযোগ্য বায়োমেট্রিক স্মার্টকার্ড দিতে হবে। *প্রতি ৫০ কিলোমিটার পরপর পণ্যপরিবহন শ্রমিকদের জন্য দেশের সড়ক-মহাসড়কের নিরাপদ দূরত্বে বিশ্রামাগার ও কার্ভাডভ্যান-ট্রাক-প্রাইমমুভার টার্মিনাল নির্মাণ করতে হবে।

*সারাদেশের জন্য একই পরিমাণ ওজন নির্ধারণ করে অতিরিক্ত (ওভারলোড) পণ্য পরিবহন বন্ধে লোডিং পয়েন্ট তথা পণ্যপরিবহনের উৎসস্থলে সরকার নির্ধারিত ওজন নিশ্চিত করে পণ্যবাহী গাড়িগুলোতে মালামাল লোড করতে হবে এবং লোড করা গাড়িগুলোকে উৎসস্থলে পণ্যের ওজনস্লিপ দিতে হবে।

0