চাঁদাবাজদের‌ রোষান‌লে মামলার আসামী ব্যবসায়ীরা, এস‌পি বল‌লেন ‘দুঃখজনক’

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: চাঁদাবাজীর সময় হাতেনাতে ২ যুবককে আটক করলেও পুলিশে দেওয়া হয়নি এলাকার বেশ কয়েকজনের অনুরোধে। পরবর্তীতে সেই অভিযুক্ত চাঁদাবাজরা উ‌ল্টো ব্যবসায়ী‌দের বিরুদ্ধে করেছে মামলা। এ অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতায় ফেরারি ব্যবসায়ীরা। তবে ওসি বলছে, মামলা নেওয়া হলেও ঘটনাটি তদন্তাধীন। রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর এস‌পি বলে‌ছেন, ঘটনা‌টি ‘দুঃখজনক’।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. ইকবাল হোসেনের নাম ব্যবহার করে সাহেবপাড়া বাজারের অস্থায়ী দোকান থেকে দৈনিক চাঁদার নিয়ম চালু করেন স্থানীয় বেশ কয়েকজন যুবক। এরমধ্যে কয়েক দিন টাকা তুলেছে। দৈনিক চাঁদার ব্যাপারটি নিয়ে বাজার কমিটিকে জানান অস্থায়ী দোকানীরা। পরে বাজার কমিটির বেশ কয়েকজন গত ২৭ জুন কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করেন। কিন্তু ইকবাল তাদের বলেদেন, ‘এরা আমার কোন লোকই নয়। এরপরে আসলে মারধর করে পুলিশে তুলে দিবেন’।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন লাইভ নারায়ণগঞ্জকে জানান, ‘অভিযুক্তদের কাউকেই আমি চিনি না। আর ওয়ার্ড সচিব ছাড়া আমার কোন লোকও নেই। তাছাড়া আমার লোক হলেও আমি বলে দিয়েছি, চাঁদাবাজী করতে গেলে ধরে পুলিশে দিয়ে দিতে।’

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গত ২৮ জুন আবারও চাঁদা তুলতে আসে স্থানীয় যুবক আসলাম হোসেন রুবেল, ডিজে রুবেল, বাসেদ, সোহেল, রাসেল, মিজানুর রহমান ও শুভ। বাজার কমিটির পক্ষ থেকে টাকা চাঁদা উত্তলনের সময় বাঁধা দিলে হামলার চেষ্টা করে। এ সময় আশপাশের স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানীরা আসলাম হোসেন রুবেল ও ডিজে রুবেলকে আটক করে মারধর করেন। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বাকিরা। পরে অভিযুক্ত আসলাম হোসেন রুবেলের বাবা এলাকায় আওয়ামীলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত রুকন, মনির, হাকিম ও রাসেলকে নিয়ে ছেলেকে ছাড়াতে আসেন। ছেলের ভবিষ্যতের কথা বলে বাজার কমিটিকে অনুরোধ করেন, আসলাম হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় যেনে অভিযোগ না করা হয়। সে অনুযায়ী অভিযোগও হয়নি। এ ঘটনার পর ২৯ জুন ঘটনাস্থলে এসে হাজির হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন মিয়া মিমাংসা করার প্রতিশ্রুতিও দেন।

অথচ, গত ১ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় গিয়ে ‘পূর্ব শত্রুতার জেরে হামলা ও নগদ টাকা লুট’ করার অভিযোগ তুলে মামলা করে চাঁদাবাজী করতে গিয়ে মারধরের শিকার সেই আসলাম হোসেন রুবেল নিজেই। সেখানে আসামী করা হয় নাজু মিয়া, বাদশা, মাসুদ, বিল্লাল, আব্দুল কাদির, ফজলু, মাসুম, মাসুম ২ ও আলমগীরকে। এদের মধ্যে নাজু মিয়া ও মাসুম ২ ছাড়া সকলেই ওই বাজারের ব্যবসায়ী।

অন্যদিকে, ১ জুলাইয়ের পর থেকে প্রতিদিনই বাজার এলাকা ও ব্যবসায়ীদের বাড়ির আশপাশে ২০ থেকে ৩০টি মটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দিচ্ছে আসলাম হোসেন রুবেল ও তার সহযোগীরা।

বাজারের ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন ও ফজলুর হক জানান, ‘চাঁদা তুলার সময় হাতে নাতে ধরেও কিছুই করতে পারিনি। উল্টো আমরাই হয়েছি মামলার আসামী। থানার ওসি সাহেবের সাথে কথা বললে, উনি এসপি স্যারের নির্দেশ ছাড়া মামলা নিতে পারবেন না বলেও জানিয়েছেন। এ অবস্থায় আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

ব্যাপারটি নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ফারুক লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘কাউন্সিলর ও ব্যবসায়ীরা ভ্রান্ত তথ্য দিতে পারে। মামলা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত শেষে রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ব্যাপার নিয়ে আশ্বস্ত করে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জায়েদুল আলম লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, চাঁদাবাজরা ব্যবসায়ীদের ভয় পাবে। সেখানে চাঁদাবাজদের কারণে ব্যবসায়ীদের আতঙ্ক দুঃখজনক। আমি সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসির সাথে আলোচনা করছি। অবশ্যই ব্যাপারটি নিয়ে সুষ্ঠ তদন্ত হবে।

0