চিত্রাঙ্কন আবৃত্তি অভিনয় সংগীতসহ নানা বিষ‌য়ে ভর্তি নি‌চ্ছে ‘উঠান’

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: আমরা স্বপ্ন দেখি একটি সোনালী সকালের। যে সকালটায় শিশুরা ঘুম থেকে উঠে ব্যাচে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত না হয়ে, হারমোনিয়ামে গলা বাঁধবে।

তারপর পাঠশালার পাঠ চুকিয়ে টিফিনে ফাঁকে হাত তালি দিয়ে গাইবে দেশের গান, দশের গান। ইট-পাথরের রবোটিক জীবন ও শিক্ষা বাণিজ্যে অভিশপ্ত পর্বততুল্য স্কুল ব্যাগের অমানুষিক চাপের ক্লান্তি কাটিয়ে শরতের বৃষ্টির আকাশে আঁকতে চাইবে রঙের ভুবন।তাঁদের একটা স্বতন্ত্র রাজ্য থাকবে, যে রাজ্যে তারা সবাই রাজা। সকলেই স্বপ্ন দেখি দেশীয় সংস্কৃতি ধারণে মাদক মুক্তিতে প্রাণচঞ্চল এক বিশুদ্ধ ভবিষ্যৎ প্রজম্ম। আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে উম্মুক্ত দ্বারে শহরের আমালাপড়ায় জেগে উঠে উঠান থিয়েটারের মতো এক চারুনাট শিক্ষাঙ্গন।

অভিনেতা ও চলচিত্র নির্মাতা সো‌য়েব মনির এর উদ্যোগে শহরের আমলাপাড়ার সাহা বিবি রোডের মনোরম পরিবেশ অবস্থিত জেলার স্বনামধন্য চারুনাট শিক্ষাঙ্গন প্রতিষ্ঠান ‘উঠান’।

‘আমার শিখাই না, নিজেরাই শিখি’ স্লোগানে ২০১৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাঙ্গনটিতে বছরব্যাপী চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি, অভিনয়, সংগীত, গীটার ও উপস্থাপনার মতো বিভন্ন প্রশিক্ষণশালার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ‘সৃজনের আশ্রয়’ হিসেবে সাংস্কৃতিক সমাজে স্থান করে নিয়েছে দুর্দান্তরূপে। রঙের খেলায় জেলার ভবিষ্যৎ প্রজম্মের কল্পনা শক্তি সৃষ্টিসহ সাংস্কৃতিক বিভিন্ন শাখায় বিশেষ অবদানে ইতোঃপূর্বে প্রতিষ্ঠানটি কুড়িয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমির সেরা শিশু নাট্যদল ও সেরা পরিচালকের পুরস্কার । এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শাখার শিক্ষার্থীরা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় কৃতিত্বের ছাপ রেখে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত ।

এই প্রতিষ্ঠানটিতে উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন বিখ্যাত অভিনেতা আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ পরিবেশ থিয়েটারের জনক আশিষ খন্দকার ও চলচিত্রকার হাছান জাফরুল বিপুলের মতো ব্যক্তিত্বরা। নির্দিষ্ট কোর্সের সনদ প্রদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে বার্ষিকী প্রতিযোগিতাসহ বছররের বিভিন্ন সময়ে সকল শাখায় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান পালন করে প্রতিষ্ঠানটি।

৪৩/১ কে.বি. সাহা রোডস্থ প্রতিষ্ঠানটিতে এক এক কচি-কাঁচার মেলার আবেশে আনন্দঘন পরিবেশের উপস্থিতি ট্যার পাওয়া যায়। । যেখানে মায়ের কোলের মতো নিরাপদ অনুভূতিতে রঙের মাধুরীতে শিশুরা বিচরণ করছে তাদের কল্পনার রাজ্যে। কেউ কবিতা বা গানের সুরে ছুঁতে চাইছে দিগন্ত । কেউবা নিজেকে অভিনয় ও উপস্থাপনায় ঘঁষেমেঝে নিচ্ছে ভবিষ্যত জীবন সংগ্রামের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে। প্রচলিত নিয়ম-নীতিকে ছাড়িয়ে এসময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মাঝে লক্ষ্য করা যায় এক অকৃতিম বন্ধুসুলভ আচরণের বাঁধন।

জানা যায় শুধুমাত্র জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে ভর্তির সুযোগ থাকায় সৃজনশীল শিক্ষায় পারদর্শী করতে বছরের শুরুতেই অভিবাকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে ভিড় জমান জেলার অন্যতম আস্থার আশ্রয়স্থল উঠান থিয়েটারে। শিক্ষাঙ্গনটিতে শ্রেণীভেদে প্লে থেকে ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষর্থীদের ক ও খ শাখায় চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়াও অভিনয়, সংগীত, গীটার ও উপস্থাপনায় ষষ্ঠ থেকে দশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সর্বসাধারণদের অংশগ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে অভিভাবকরা জানায়, সৃজনশীল শিক্ষার অভাবে সমাজের শিশু-কিশোররা মোবাইল বা ল্যাপটপ কেন্দ্রীক হয়ে পরিণত হচ্ছে গৃহবন্ধী এক রবোটিক প্রাণী। এতে মানসিক ও শারীরিকভাবে পিছেয়ে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজম্ম। তাই গতানুগতিক শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের সৃজনশীল শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একমত্র সৃজনশীল শিক্ষাই পারে মাদকসহ প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে আমাদের শিশুদের ফিরিয়ে আনতে। আর সেই সৃজনশীল শিক্ষায় দিক্ষিত করতে চারুনাট শিক্ষাঙ্গন উঠান কে অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাই।

প্রতিষ্ঠাতা সো‌য়েব মনির জানায়, শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে চার দেয়ালে বন্দি শিশুদের বের করে আনাই হচ্ছে আমাদের মূল লক্ষ্য। সৃজনশীল সংস্কৃত চর্চা ব্যাতীত একটি মাদক মুক্ত প্রাণচঞ্চল প্রজম্মের স্বপ্ন দেখা সম্ভব না। তাই প্রাণচঞ্চল প্রজম্মের স্বপ্নকে পূর্ণতা দিতে আপনাদের হাতগুলোও বড্ড প্রয়োজন। তাই একদিন আসুন, আমাদের উঠান প্রাঙ্গণে ! হতে পারে আপনার আদরের সন্তানটিই আমাদের স্বপ্নের শিশুদের একজন।

0