চিরকুট লিখে অন্তঃসত্ব গৃহবধূর আত্মহত্যা, দায়ি করলেন স্বামী ও ননদকে

বন্দর করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ননদ ও তার স্বামী নির্যাতন সইতে না পেরে অভিমান করে সাথী রানী (৩২) নামে ২ মাসের অন্তঃসত্বা গৃহবধূ সিলিং ফ্যানের সাথে কাপড় পিচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। গত মঙ্গলবার দুপুর বন্দর থানার রুপালী আবাসিক এলাকার সালাউদ্দিন মিয়া দ্বীতল ভবনের একটি ফ্লাটে এ ঘটনাটি ঘটে। সংবাদ পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উক্ত ফ্লাট থেকে গৃহবধূর ঝুলান্ত লাশ উদ্ধার করে র্মগে প্রেরণ করেছে। এ ব্যাপারে নিহত গৃহবধূর পিতা বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে বন্দর থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের মাধ্যমে চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ থানার রাজের গাও এলাকার প্রান ভল্পবের মেয়ে বিধবা ও ২ সন্তানের জননী সাথী রানী সাথে একই এলাকার হরে কৃষœ দেবনাথের ছেলে রতন দেবনাথের পরিচয় হয়। ওই পরিচয়ের সূত্র ধরে গত ৬ মাস পূর্বে তাদের মধ্যে বিয়ে হয়। কিন্তু সাথী রানী পিতা মাতা তাদের এই বিয়ে মেনে নিতে পারেনি। পরে তারা গত ২০১৮ ইং সালে নভেম্বর মাসের ২৫ তারিখে বন্দর রুপালী আবাসিক এলাকার সামছুল মিয়ার ২য় তলার একটি ফ্লাট ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে। ৬ মাসের দাম্পত্ত জীবনে সাথী রানী সাথে ননদ ও তার স্বামী পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ঝগড়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত সোমবার রাতে স্বামী রতন দেবনাথ ও তার ছোট বোন এবং তার স্বামী সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে গত মঙ্গলবার দুপুরে গৃহবধূ সবার অজান্তে মনের ক্ষোভে ফ্লাটের সিলিং ফ্যানের সাথে কাপড় পিচিয়ে গলায় লাগিয়ে আতœহত্যা করে। সংবাদ পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ আলী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছানোর পূর্বে ননদ ও তার স্বামী কৌশলে পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে হোশিয়ারী কর্মী স্বামী রতন দেবনাথ গনমাধ্যমকে জানান, আমার স্ত্রী সাথী রানী পূর্বে বিয়ে হয়েছিল। ওই সংসারে তার ২টি ছেলে সন্তান রয়েছে। স্বামী মারা যাওয়ার পর তার সাথে আমার ফেউসবুকে সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে গত ৬ মাস পূর্বে তাকে বিয়ে করে বন্দরে রুপালী আবাসিক এলাকার একটি ফ্লাটে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছি। সে ২ মাসের অন্তঃসত্ব ছিল।

এ ব্যাপারে বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ আলী গনমাধ্যমকে জানান, এলাকাবাসী সংবাদের প্রেক্ষিতে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে ঝুলান্ত লাশ উদ্ধার করি। এবং লাশের সরুতহাল রির্পোট তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য লাশ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে র্মগে প্রেরণ করি। তিনি আরো জানান, লাশের পাশে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। আমরা চিরকুটের সূত্র ধরে আত্মহত্যার রহস্য উদঘাটন করার চেষ্টা চালাচ্ছি। আত্মহত্যাকারি চিরকুটে ননদ ও তার স্বামীকে আত্মহত্যার জন্য দায়ি করেছে। আমরা বিষয়টি নিবিড় ভাবে তদন্ত করে দেখছি। এ ব্যাপারে বন্দর থানার মামলা দায়ের করা হয়েছে।