ছেলে ধরা অপরাধ, গণপিটুনি জঘন্য অপরাধ

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ:

হঠাৎ ছেলে ধরা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জে। যতটা না সত্যি তার চেয়ে বেশী গুজব রটছে প্রতিদিন-প্রতিনিয়ত। মানুষ বুঝে না বুঝে এ রটনা রটিয়ে চলছে। যা নিয়ে বিষ্মিত ও ক্ষুব্দ সচেতন মহল। তাদের মতে, শিশু ধরা বা ছেলে ধরা যেমন অপরাধ তার চেয়ে জঘন্য ও ঘৃণিত অপরাধ গণপিটুনি।

শনিবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জে ৬ বছরের এক স্কুল ছাত্রিকে অপহরণের অভিযোগ এনে ‘একদল ভয়ঙ্কর’ লোক এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে নিহত যুবকের ফিঙ্গার প্রিন্ট করে পরিচয় মেলে। তার নাম সিরাজ। সে বাক প্রতিবন্ধি।

একই দিন সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদি শাপলা চত্বরে ৫ বছরের এক শিশুকে অপহরণের অভিযোগ এনে শারমিন নামের এক নারীকে পিটুনি দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ আহত অবস্থায় শারমিনকে উদ্ধার ও আটক করে।

এর আগে ১০ জুলাই নিজের সন্তান ও প্রতিবেশী সন্তানদের রিকশায় করে বাড়ির দিকে ফেরার পথে শহরের ২ নং রেলগেটে গণপিটুনির শিকার হন এক যুবক। পরে পুলিশ ওই শিশুদের জিজ্ঞাসা করে জানতে পারেন, ওরা বাড়িতে না বলে শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় এসে ঘোরাঘুরি করছিলো। ওদের মধ্য থেকে এক শিশুর বাবা এখানে তাদের দেখতে পেয়ে রিকশায় করে বাড়িতে নেয়ার পথে শিশুদের কান্নাকাটি দেখে মানুষ মনে করে ‘ছেলে ধরা।’

সূত্র মতে, কিছু দিন যাবত পদ্মসেতু নিয়ে একটি গুজব ছড়াচ্ছে কুচক্রি মহল। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে প্রচার করছে, পদ্মা সেতুর পাইলিং কাজ শেষ করা যাচ্ছে না এ জন্য মানুষের মাথা লাগবে। তবে বাস্তব সত্য হলো পদ্মা সেতুর পাইলিং কাজ শেষ হয়েছে। গত ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় পদ্মা সেতুর ২৬ নম্বর পিয়ারের ৭ নম্বর পাইলটি বসানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে এই সেতুর পাইল বসানোর কাজ।

পদ্মা সেতুর প্রকৌশলীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মা সেতু নির্মাণকাজের শুরুতে মূল নদীর প্রতিটি পিয়ারে পাইলের সংখ্যা ছিল ৬। আর দুই প্রান্তে ১ ও ৪২ নম্বর পিয়ারে ১২টি করে মোট ২৪টি পাইল। সব মিলিয়ে ৪২টি পিয়ারে পাইল ছিল ২৬৪টি। কিন্তু নদীর গভীর তলদেশে কাদামাটির স্তর থাকায় নতুন নকশা করতে হয়। নতুন এই নকশায় ১ ও ৪২ নম্বর পিয়ারের ১৬টি করে মোট ৩২টি পাইল করা হয়। আর ২২টি পিয়ারে সাতটি করে পাইল ১৫৪টি এবং ১৮টি পিয়ারে ছয়টি করে মোট ১০৮টি পাইল রাখা হয়। সব মিলিয়ে ২৯৪টি পাইলে ৪২টি পিয়ারে থাকবে পদ্মা সেতু।

এদিকে নদীর তলদেশে কাদামাটির স্তর থাকায় আগের নকশা মতো পাইল বসানো সম্ভব না হওয়ার বিষয়টিকে পুঁজি করে সরকার ও দেশ বিরোধী একটি চক্র। তারা গুজব ছড়ায় সেতুর জন্য মানুষের গলা কাটা লাগবে।

সচেতন মহলের মতে, এই গুজব যারা ছড়িয়েছে তারাই দেশকে অস্থিতিশিল করতে নানা অপকর্ম করছে। ছেলে ধরা সন্দেহে গণ পিটুনি ও আহত-নিহতের ঘটনার পেছনেও তাদের হাত থাকতে পারে বলে মনে করেন তারা।

সচেতন মহলের মতে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এখনি কঠোর হাতে এসব দমন করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনে নুতন আইন করে এইসব গুজব রটনাকারী, তাদের পেছনের কারিগর ও গণপিটুনির শাস্তি সর্বোচ্চ করতে হবে। তবেই পিছু হটবে ষড়যন্ত্রকারীরা।

0