ছোটদের বড় নির্বাচন

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: লট বাক্স, ব্যালট পেপার, ভোট কেন্দ্র, নির্বাচন কমিশনার, প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং এজেন্ট, নিরাপত্তা কর্মী সবই আছে। ভোটাররা সারিবদ্ধভাবে ভোট দিচ্ছে। প্রার্থীরাও ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন। জাতীয় সংসদ কিংবা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দৃশ্য নয়। এটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্টুডেন্টস কাউন্সিল নির্বাচন।

রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্টুডেন্টস কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার ৫৪৮টি প্রাইমারি স্কুলে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত স্টুডেন্টস কাউন্সিল নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয়।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানান, চলতি বছর ৫৪৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্টুডেন্টস কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় ১ লাখ ৫ হাজারের বেশি খুঁদে ভোটারের এ নির্বাচনে ভোট দেয়ার কথা ছিল। সকাল ৯টায় শুরু হয়ে দুপুর ১টায় ৫৪৮টি হাজার স্কুলে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

শিশুকাল থেকে গণতন্ত্র চর্চা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধাশীল হওয়া, অন্যের প্রতি সহিষ্ণুতা বৃদ্ধি, ঝরেপড়া রোধে সহযোগিতার লক্ষ্যে প্রাথমিকেও স্টুডেন্টস কাউন্সিল গঠনের গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশে ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে স্টুডেন্টস কাউন্সিলের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দ থেকে সারাদেশে স্টুডেন্টস কাউন্সিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে প্রেক্ষিতে ২০২০ খ্রিষ্টাব্দেও স্টুডেন্টস কাউন্সিল নির্বাচনের আয়োজন করা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে আমাদের প্রতিনিধি জানান, সারাদেশের মত সদর উপজেলারও ১২১টি স্কুলে (রোববার) একযোগে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রামারবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন সুলতানা জানান, স্কুলের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ৪৭৩ জন শিক্ষার্থী নির্বাচনে ভোটার ছিল। নির্বাচনে ১৩ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেছে।

ওই বিদ্যালয়ের বিদ্যালয়ের সহকারি এক শিক্ষক জানান, আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে স্টুডেন্টস কাউন্সিল নির্বাচন। নির্বাচনে ছাত্র-ছাত্রীরাই ভোটার। উপস্থিতি বেশী। তারাই প্রার্থী এবং নির্বাচনের সব দায়িত্ব পালন করে। শিক্ষকরা তাদের সহযোগিতা করেন মাত্র।

0