ছয় শর্তে খুলছে সেই তল্লা মসজিদ

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের তল্লায় ভয়াবহ আগুনে বহু হতাহতের ঘটনায় বন্ধ সেই বাইতুস সালাত জামে মসজিদে অবশেষে নামাজ আদায় করার অনুমতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন। ৬টি শর্ত পূরণ করে ওই মসজিদে নিয়মিত নামাজের আয়োজন করা যাবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ।

রোববার (২৯ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল গফুরের কাছে মসজিদটি ব্যবহারের অনুমতিপত্র তুলে দেন জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ। মসজিদটি ব্যবহারের জন্যে কমিটিকে অনুমতিপত্রে লিখিতভাবে ছয়টি শর্ত দিয়েছে জেলা প্রশাসন। শর্তগুলো হলো:-

* মসজিদে একাধিক দরজা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে এবং আপাতত মসজিদটিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) যন্ত্রের ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। * বিদ্যুতের প্যানেল বোর্ড মসজিদ ভবনের বাইরে অথবা বারান্দায় বসাতে হবে। * প্রতি ৩ মাস পর পর অনুমোদিত প্রকৌশলী, এবিসি লাইসেন্সপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ান দ্বারা পরীক্ষা করে রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করতে হবে। * স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক মসজিদের বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সকল কার্যক্রমের সঠিকতা নিশ্চিত করতে হবে।

* মসজিদের নিচে বা পাশে গ্যাস লাইন নেই অথবা গ্যাস লাইন সঠিক আছে মর্মে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ থেকে প্রত্যয়নপত্র নিশ্চিত করতে হবে। * মসজিদের প্রতিটি তলায় পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামাদি রাখতে হবে। * ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এবং তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাযথভাবে মনিটরিং করাসহ এসব শর্তাবলি পালন নিশ্চিত করতে হবে।

এব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, মসজিদ খোলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের চিঠি চাওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এই বিষয়ে ইতিবাচক সুপারিশ করেছেন। পরিপ্রেক্ষিতে মসজিদ খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মসজিদ সংস্কার করে যেকোনো সময় মুসুল্লিরা নামাজের আয়োজন করতে পারবেন।

তল্লার এ মসজিদ খুলে দেয়ার জন্য দীর্ঘূদিন ধরে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচী পালন করে আসছে এলাকাবাসী ও স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের নিকট দেয়া হয়েছে একাধিকবার স্মারকলিপি। সর্বশেষ গত ২০ আগস্ট বাইতুস সালাত জামে মসজিদ নামাজ আদায়ের জন্য খুলে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করে। এ সময় মানববন্ধনের মুসল্লিরা তিতাস গ্যাস অফিস ঘেরাও করার ঘোষণাও দিয়েছিলো।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকায় বাইতুস সালাত জামে মসজিদে গ্যাসের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণে মুসল্লিসহ ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে ৩ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়েছেন।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় ‘অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে’ মামলা করে। মামলায় মসজিদ পরিচালনা কমিটি ছাড়াও তিতাস গ্যাস, ডিপিডিসিসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। পরে সড়কের মাটি খুঁড়ে তিতাস গ্যাসের পরিত্যক্ত সরকারি তিনটি (রাইজারের পাইপলাইন) পাইপলাইনে ৯টি ছিদ্র পাওয়া যায়। ওই পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ চালু ছিল। ওই ছিদ্র দিয়ে মাটি ভেদ করে গ্যাস মসজিদের ভেতরে জমা হয়ে বিস্ফোরণ ঘটে।

এ ঘটনায় তিতাস গ্যাসের ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাসহ ৮ জন, ডিপিডিসির মিটার রিডারসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করে। পরে ওই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর সিআইডি মসজিদ কমিটির সভাপতিসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। সে সময় সিআইডির কর্মকর্তা জানান, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তিতাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। বর্তমানে মামলাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। মামলার আসামি সবাই জামিনে আছেন।

0