জনগনের জন্য মিলু জীবনের শেষ দিন লড়াই করেছে: রাজেকুজ্জামান রতন

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কমরেড জাহেদুল হক মিলু’র প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে আজ বিকেল ৫টায় ২ নং রেল গেইটস্থ সংগঠনের কার্যালয়ে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের অন্যতম শীর্ষ নেতা কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন। বক্তব্য রাখেন বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্র্টি নারায়নগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল, সমাজ অনুশীলন কেন্দ্রের সংগঠক কবি রঘু অভিজিৎ রায়, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম গোলক, সহ-সভাপতি সাইফুল ইসমাম শরীফ,্ রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক এস এম কাদির।
কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, একটা মহৎ আদর্শে জীবন-সংগ্রাম পরিচালনার এক অনন্য নজির স্থাপন করে গেছেন কমরেড জাহেদুল হক মিলু। স্কুল জীবনেই মানবমুক্তির মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে লড়াইতে শরিক হন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত একটি বিপ্লবী দলের নেতৃত্বে থেকে দায়িত্ব পালন করেন। এই চলার পথে শ্রমিক-কৃষকের ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশি নির্যাতন-কারাবরণ সহ্য করেছেন। কিন্তু জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই থেকে একদিনের জন্যও পিছপা হননি।
তিনি বলেন, সামাজিক প্রয়োজনে সাড়া দেয়ার ক্ষমতা দিয়েই মানুষের চরিত্র নির্ধারণ করা যায়। নিজের প্রয়োজনে সাড়া দেয়ার মধ্যে মানবিক কৃতিত্ব থাকে না। আগামীর কথা ভেবে নিজের প্রয়োজনকে তুচ্ছ করার ক্ষমতা সবাই অর্জন করতে পারে না। এটা করার জন্য স্বপ্ন দেখতে হয়, সাহস নিয়ে এগিয়ে আসতে হয় আর মানুষের প্রতি থাকতে হয় গভীর ভালোবাসা। আপামর মানুষের দুঃখ কষ্টকে নিজের মধ্যে ধারণ করে লড়াই করতে গেলে উন্নত রুচি ও সংস্কৃতিরও প্রয়োজন হয়। অনেকগুলো গুণাবলী অর্জনের মাধ্যমে তা করতে হয়। এ না হলে আজীবন সংগ্রামে থাকা যায় না। কমরেড জাহেদুল হক মিলু সেটা অর্জন করতে পেরেছিলেন বলেই আজীবন বিপ্লবী থেকে লড়াই করতে পেরেছেন।
কমরেড রতন বলেন, জাহেদুল হক মিলু মানবমুক্তির যে আদর্শ মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে পাথেয় করে সংগ্রাম করেছেন সেই সংগ্রামই তাকে আমাদের মাঝে বাঁচিয়ে রাখবে। আজকে পুঁজিবাদ সা¤্রাজ্যবাদ একাট্টা হয়ে শোষণ লুন্ঠনে নেমেছে। মানব জাতির সকল অর্জনকে ধ্বংস করে চলেছে। এ দানবীয় শক্তিকে পরাস্ত করার মধ্য দিয়েই মানবজাতি শোষণহীন সাম্যসমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। সে লড়াইয়ে কমরেড জাহেদুল হক মিলু প্রেরণা হয়ে থাকবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশে শ্রেণি সচেতন বিপ্লবী ধারার ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন গড়ে তোলার সংগ্রামে আজীবন নিয়োজিত ছিলেন কমরেড মিলু। স’ মিল শ্রমিক, তাঁত শ্রমিক, চা শ্রমিক, গার্মেন্টস, রি-রোলিং, পাদুকা, পরিবহন, মোটর মেকানিক্স, নির্মাণ, হালকা যানবাহনসহ এমন কোন শ্রমিক আন্দোলন নেই যেখানে কমরেড মিলু ছিলেন না। গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়নের সংগ্রাম, ন্যায্য মজুরির সংগ্রাম, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম সব ক্ষেত্রেই কমরেড মিলু ছিলেন সামনের সারির নেতা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী আন্দোলন, গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের প্রতিটি আন্দোলনেই তাঁর সংগ্রামী পদচারণা ছিল।
উল্লেখ্য,কমরেড জাহেদুল হক মিলু ১৩ মে ২০১৮ কুড়িগ্রামে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায়ুু কবলিত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে মাসাধিককাল মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ১৩ জুন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

৫০
0