জিউস পুকুর: ৬ দলিলে মেয়রের মা-ভাইসহ ১০

0

কোর্ট করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় জিউস পুকুর ও দেবোত্তর সম্পত্তি, যা নারায়ণগঞ্জ ছাড়িয়ে দেশ-বিদেশেও রটিয়েছে নানা সংবাদ। এ সম্পদ রক্ষায় নারায়ণগঞ্জে সংখ্যালঘূ সম্প্রদায় করেছেন প্রতিবাদ আন্দোলন, হয়েছে মানব বন্ধন ও গণঅনশন। এমনকি এ সম্পত্তি ইস্যুতে কথা বলতে গিয়ে মামলা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধেও। এদিকে, জিউস পুকুর সম্পত্তির তথ্য সন্ধানে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সূত্র অনুযায়ি, ৬টি পৃথক পৃথক দলিলে নাম পাওয়া গেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর মা, দুই ভাই, নানা, নানী, চাচা ও চার মামাদের।

আইনজীবীরা বলছেন, ওয়াকফ কিংবা দেবোত্তর সম্পত্তি কখনও বিক্রয় হয় না, ক্রয় করা-বিক্রয় করা উভয়ই দন্ডনীয় অপরাধ।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শ্রী শ্রী রাজা লক্ষী নারায়ণ বিগ্রহ মন্দিরের পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জের বিজ্ঞ দ্বিতীয় যুগ্ম জেল জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়( মামলা নং ৬৬৫/১৯)। ঐ মামলায় বিবাদী করা হয় মেয়র আইভীর মা, দুই ভাই, নানা-নানী, মামা, চাচার বাড়ির সদস্যদের।

একটি সূত্র মতে দেখা যায়, ২২/৪/১৯৭৯ তারিখে জিউস পুকুরের আংশিক সম্পত্তির দলিল করা হয় মেয়র আইভীর মা মমতাজ বেগমের নামে, যার দলিল নং ৩২৪২৩। এই একই তারিখে জিউসপুকুরে আংশিক সম্পত্তি মেয়র আইভীর দুই ভাই আহমেদ আলী রেজা, মোহাম্মদ আলী রেজা ও মেয়রের মামা গোলাম মোরশেদ এর নামে দলিল করা হয়, যার নং ৩২৫১৫।
উক্ত তারিখে ৩২৪২১ নং দলিলে নাম পাওয়া যায় আইভীর চাচা জমির আহমেদের। একই তারিখে মেয়রের নানা হাজী মাহতাব উদ্দিন এর নামে দলিল হয়, যার নং ৩২৫১৮।

জিউস পুকুর সম্পত্তির আরেক অংশে মেয়রের নানী সালেহা খাতুনের নাম পাওয়া যায় ৩২৪২৪ নং দলিলে। অপরিবর্তিত তারিখের আরেকটি দলিলে, যার নং ৩২৪২২, তাতে মেয়র আইভীর তিন মামা ফারুকুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, আহাদুল ইসলাম সর্ব পিতা মহাতাব উদ্দিনের নামে করা হয়

৬টি পৃথক দলিল ২২/৪/১৯৭৯ এই একটি তারিখেই করা হয়েছে সূত্রমতে জানা যায়। যারা সবাই মেয়র আইভীর আপনজন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শ্রী শ্রী রাজা লক্ষী নারায়ণ বিগ্রহ মন্দিরের সিএস খতিয়ানে দেখা যায়, সেবায়েত প্রতাপ চন্দ্র শর্মা গং। ২০১৭ সালে মেয়রের আত্মীয় স্বজনরা নাম জারি করার জন্য সহকারী কমিশনার ভূমি নারায়ণগঞ্জের আদালতে একটি মোকদ্দমা করেন। মামলা নং ৪৩৮/১৭-১৮। তবে, মন্দির কমিটির ভক্তবৃন্দে আপত্তিতে ঐ নামজারিটি মেয়রের স্বজনরা করতে পারেনি।

পরবর্তীতে এ সম্পত্তি উদ্ধারকল্পে নারায়ণগঞ্জের বিজ্ঞ দ্বিতীয় যুগ্ম জেল জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের হয় করা হয় ১৫/১০/১৯ তারিখে, মামলা নং ৬৬৫/১৯।
নারায়ণগঞ্জের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় জিউস পুকুরের দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষায় প্রতিবাদী হয়ে উঠে। মিছিল, মানববন্ধন, গণঅনশনের মতো কর্মসূচী করে তারা। উক্ত কর্মসূচী গুলোতে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশা ধর্মনির্বিশেষে একাত্মতা পোষণ করেন। যা স্থানীয়, জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এ বিষয়ে একটি গণমাধ্যমে কথা বলার ইস্যুকে কেন্দ্র করে মেয়র আইভী নিজ দলের মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী এ্যাড. খোকন সাহার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার বিষয়ে এ্যাড. খোকন সাহা বলেন, সত্য-চিরদিন সত্য। আমি প্রমান করে দিবো কারা জিউস পুকুর গিলে খেতে পায়তাঁরা করছেন। ইতপূর্বে হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিয়ে কটুক্তি করায় আমি তীব্র নিন্দা জানিয়েছি। তেমনি, আমার বক্তব্য স্পস্ট, ‘যারাই মসজিদ-মন্দির, দেবোত্তর কিংবা ওয়াকফ সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করবেন, আমি তাদের বিরুদ্ধে কথা বলবোই। আর, তা করতে গিয়ে শুধু মামলা কেন, হাসিমুখে মৃত্যুও বরণ করবো’।

0