জিকে শামীম কার, যুবলীগ ও না.গঞ্জ আ.লীগের অস্বীকার!

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: যুবলীগ নেতারা জানান, জিকে শামীম এক সময় যুবদল করতেন। যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদকও ছিলেন। ছিলেন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের ডান হাত। কিন্তু সদা ক্ষমতাপিয়াসী শামীম আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পাল্টাতে থাকেন ভোল।

যুবদল ছেড়ে ভিড়তে থাকেন যুবলীগের দিকে। এক সময় পান যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদকের পদ। তবে যুবলীগের নেতারা বলছেন আসলে তার যুবলীগের কোনো পদ নেই। তিনি নিজে নিজেই যুবলীগের নেতা এবং কেন্দ্রীয় সমবায় বিষয়ক সম্পাদক দাবি করতেন। আবার নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বলেও শোনা যাচ্ছে।

যুবলীগের সংগঠনটির শিক্ষা সম্পাদক মিজানুল ইসলাম মিজু বলছেন, শামীম যুবলীগের কেউ নন, তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।

অপরদিকে, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই জানান, ‘জি কে শামিম তার কমিটির কেউ নন। আমরা প্রথমে গণমাধ্যমের বরাতে জানতে পারলাম সে যুবদল থেকে এখন যুবলীগের নেতা। এরপর দেখলাম যুবলীগের নেতারা বলছেন সে যুবলীগের নয় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি! আমাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গণমাধ্যমে আছে, আপনারা চাইলে দেখতে পারেন, এ নামে আমাদের কমিটিতে কেউ নেই।’

সোনারগাঁ উপজেলার একটি গ্রামের মাস্টারের ছেলে বর্তমানে টাকার কুমির জিকে শামীম। যাকে বলা হয় আন্ডার ওয়ার্ল্ডের ডন। সেই মাফিয়া ডন জিকে শামীকে আটকের পর তার সাংগঠনিক পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

আটক শামীমকে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সমবায় সম্পাদক এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেয়া হলেও কোনো সংগঠনই তাকে নিজেদের নেতা বলে স্বীকার করেনি।

জি কে শামীম আটক হওয়ার পর যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর জানান,‘জি কে শামিম যুবলীগের কেউ নন। তার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। জানতে পেরেছি শামীম নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।’

তবে, জিকে শামীম ঠিকাদার হিসেবেই পরিচিত। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত মো. আফসার উদ্দিন মাস্টারের ছেলে শামীম। আফসার উদ্দিন মাস্টার ছিলেন হরিহরদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিন ছেলের মধ্যে শামীম মেজো।

রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে আটক করেছে র‌্যাব। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর নিকেতনে শামীমের কার্যালয় থেকে তাকে আটক করা হয়।

শামীমের সঙ্গে তার ৭ দেহরক্ষীকেও আটক করা হয়েছে। র‌্যাব সদর দফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। শামীমের কাছ থেকে অত্যাধুনিক একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও তার সাত দেহরক্ষীর কাছ থেকে আরও সাতটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া তার কার্যালয় থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ অভিযান ১ কোটি ৮০ লাখ নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ১৬৫ কোটি টাকার ওপরে এফডিআর (স্থায়ী আমানত) ও ডলার (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) জব্দ করা হয়েছে। একইসঙ্গে একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং কিছু মাদকও উদ্ধার করা হয়।

0