জিটিইউসি’র ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (জিটিইউসি)’র উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬ টায় সংগঠনের হাজীগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন- সংগঠনের আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ছুলেমান, অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আলোচনা করেন জিটিইউসি’র কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা দুলাল সাহা, জেলা কমিটির সভাপতি এম এ শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার দাসসহ আরও অনেকে।

এসময় আলোচকবৃন্দ বলেন- ঈদ মানে আনন্দ খুশি কিন্তু এদেশের বৈষম্য মূলক সমাজ ব্যবস্থায় ঈদ হয়ে উঠেছে ধনীদের অতিরিক্ত বিলাস আর গরিব মানুষের সীমাহীন বেদনার দীর্ঘ শ্বাস ও বাড়তি বিড়ম্বনা। গরিব মানুষের ঈদের দিন আর সাধারণ দিনের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। ঈদ উপলক্ষে কারো কারো পক্ষে নতুন কাপড় কেনা তো দুরের কথা এক পেকেট সেমাই ও চিনির ব্যবস্থা করাটাই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। গরিব মানুষের এমনিতেই দুঃখ কষ্টের শেষ নেই এরমধ্যে করোনা সংকট তা অনেক গুণ বাড়িয়ে তুলেছে। ঈদ উৎসব পালনে কর্মহীন শ্রমিক মেহনতি মানুষের অসহায়ত্ব ও নানা সংকটের চাপে তাদের ঈদের আনন্দ নিরানন্দের যন্ত্রনায় নীল হয়ে উঠেছে। দারিদ্রতার শিকলে আটকে থাকা এই মানুষ গুলোর ঈদের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থা। করোনা দুর্যোগের কারণে গত ঈদে শহরে অবস্থানরত শ্রমজীবি মানুষের পক্ষে বাড়ি ফেরা সম্ভব হয়নি। তবে নানা সংকটের মধ্যেও ঈদে আপনজনদের সাথে মিলিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এবার ঈদে অনেকেই নাড়ির টানে বাড়ি ফিরেছে। ঈদের ছুটি কাটিয়ে ইতিমধ্যে অনেকে কর্মস্থলে চলে এসেছে। সংগঠনের আয়োজনে ঈদ পরবর্তী আমরা পুনরায় একত্রিত হয়ে সকলে মিলে এক সাথে সেমাই-রুটি খেতে পেরে খুবই আনন্দিত।

তারা আরো বলেন- ঈদের দিনটি ধনী-গরিব সকলকে ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে শামিল হওয়ার আহ্বান জানায়। কল্যাণের পথে ত্যাগ-তিতিক্ষার মূল মন্ত্রে দীক্ষিত করে। মানুষকে ভুল-ভ্রান্তি, পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হয়ে সৎ পথে ফিরে সম্প্রীতির আনন্দ ধারায় উন্নত জীবন লাভের নির্দেশ করে। সমাজের ধনী-গরিবের সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার মধ্য দিয়ে দিনটি উৎসব তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠে। কিন্তু আমাদের সমাজে তা হয়ে উঠেনি। শ্রেণী বৈষম্য বিসর্জনের মাধ্যমে এর আনন্দ ও উদ্দেশ্য সার্থক করে তুলতে হবে। ঈদ-উল আজহার ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে হবে। সকল শ্রেণী পেশার মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন সুদৃঢ় করার মাধ্যমে প্রতিটি দিন আনন্দময় করে তুলতে হবে। সকল মানুষের জীবন আনন্দ খুশিতে ভরে তুলার লক্ষ্যে আলোচকবৃন্দ শ্রমিক শ্রেণীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও শোষণ বৈষম্যমুক্ত সমাজ নির্মাণের চলমান সংগ্রাম বেগবান করতে নেতা কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

0