জিম্বাবুয়েকে ইনিংস ব্যবধানে হারালো বাংলাদেশ

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: মিরপুরে একমাত্র টেস্টে মুশফিকের দ্বিশতকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ও ১০৬ রানে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ফলে ৬ টেস্টে হারের পর অবশেষে জয়ের ধারায় ফিরল মুমিনুল হকের দল।

প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও টাইগারদের বোলিং তোপে টিকতে পারেনি সফরকারীরা।

২৯৫ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে নেমে মাত্র ১৮৯ রানে অলআউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে তারা।বাংলাদেশের রানের পাহাড় টপকাতে গিয়ে নাঈম ও তাইজুলের স্পিন ঘূর্ণিতে ভেঙে পড়ে সফরকারীদের ব্যাটিং শিবির।

দ্বিতীয় ইনিংসে গতকালের ২ উইকেটে ৯ রান নিয়ে আজ মঙ্গলবার ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসানের আঘাতে খেয়েই হারিয়ে ফেলে সফরকারীরা।

এদিন দলে ৬ রান যোগ করতেই আঘাত হানেন তাইজুল ইসলাম। কেভিন কাসুজাকে (১০) সাজঘরে ফেরান তিনি।

এতে করে চাপে থেকেই দিন শুরু করতে হয় সফরকারীদের। তার কিছুক্ষণ পরই চতুর্থ দিনে নিজের প্রথম ওভার করতে এসে আঘাত হানেন গতকালের দুই উইকেট পাওয়া নাঈম হাসান। এবারও তার শিকার হন অভিজ্ঞ টেইলর।

দলীয় ৪৪ রানের মাথায় নাঈমের বলে তাইজুলের তালুবন্দি হয়ে ১৭ রান করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরতে হয় অভিজ্ঞ এ ব্যাটসম্যানের।

এ নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটের তিনটিই নাঈমের ঝুলিতে। প্রথম ইনিংসে নিয়েছিলেন চার চারটি উইকেট।
সেখান থেকে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া সফরকারীদের দলপতি ক্রেগ এরভিন। তবে তাকেও বেশিদূর যেতে দেয়নি মোমিনুল হকরা।

দলীয় ১০৪ রানের মাথায় টাইগার অধিনায়ক মোমিনুলের থ্রোতে স্ট্যাম্প ভাঙ্গে এরভিনের। মাঠ ছাড়ার আগে এক ছয় আর ৬ চারে ৪৩ রানে মাঠ ছাড়েন তিনি।

এরপর তাইজুলের ঘুর্ণিতে মুশফিকুর রহিমের হাতে তালুবন্দী হন সিকান্দার রাজা। এরপর আর কেউ দাঁড়াতে পারেনি।

২০১৮ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে ২১৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশি কোনও ব্যাটসম্যানের জন্য সেটাই ছিল সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। সেই জিম্বাবুয়েকে সামনে পেয়ে আরেকটা ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিক।

রেকর্ডগড়া সেই ২১৯ রানের ইনিংসের পরের দশ ইনিংসে সেঞ্চুরি পাননি তিনি। ফিফটি পেয়েছেন মাত্র দুটি। রানখরা কাটালেন সেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই। এনদোলোভুর করা ১৫৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে পৌঁছে যান দুইশ রানের ম্যাজিক ফিগারে।

মুশফিকের ডাবলের সঙ্গে সঙ্গেই ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক মোমিনুল হক। যাতে শেষ পর্যন্ত ২০৩ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন মি. ডিপেন্ডেবল। তার ৩১৮ বলের ম্যারাথন ইনিংসে ছিল ২৮টি চারের মার।

এদিকে, মুশফিকের দ্বিশতক আর মোমিনুলের শতকে (১৩২) বাংলাদেশও পৌঁছে যায় ৬ উইকেটে ৫৬০ রানে। এছাড়া এদিন ৫৪ রান করে আউট হন লিটন দাস। আর তাইজুল অপরাজিত থাকেন ১৪ রান করে।

যাতে ২৯৫ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে তাদের প্রথম ইনিংস করে ২৬৫ রান।

0