জিয়া হলে অবৈধ মেলা, ব্যবসায়ীদের চাপা ক্ষোভ

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের অনাপত্তি ও জেলা পুলিশের কোন প্রকারের অনুমতি ছাড়াই প্রানকেন্দ্র চাষাঢ়ায় কথিক তাঁত বস্ত্র কুটির শিল্প মেলার আয়োজন করেছে একটি সুযোগ সন্ধানী চক্র। এতে করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ঈদ ও পুজাকে সামনে রেখে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের এমন ক্ষতিকে ভাল চোখে দেখছেন না নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্টিজের সভাপতি খালেদ হায়দার কাজল।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্টিজের অনুরোধে জেলা প্রশাসন গত ৭/৮ মাস ধরে জিয়া হলে মেলা আয়োজন করা বন্ধ রাখে। সাবেক জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া বদলী হওয়ার আগের দিন মেলার অনুমোতি দিয়ে যান বলে অভিযোগ।

তিনি আরো জানান, বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা মতে, জেলায় এ ধারণের মেলা আয়োজন করতে হলে স্থানীয় চেম্বার অব কমার্স এন্ড  ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে অনাপত্তি নিতে হবে। এছাড়া জেলা পুলিশের অনুমতি বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ মেলার আয়োজকরা সে সব শর্তের তোয়াক্কাই করেননি।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বাইরে থেকে সুযোগ সন্ধানী কথিত ব্যবসায়ীরা এসে শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় মেলা করবে আর স্থানীয় ব্যবসায়ীরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে তা কি সমর্থন যোগ্য? স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সারাটা বছর প্রতিজ্ঞায় থাকে ঈদ ও পূজা আসলে তাদের মালামাল বিক্রি করবে। এ ধরণের অনাকাঙ্খীত মেলার আয়োজন ব্যবসায়ীদের হতাশ ও ক্ষুব্দ করেছে।

এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ আশা করছেন।

সূত্র জানায়, জিয়া হলে মেলা আয়োজনে সাথে একটি কুচক্রি মহল ও জেলা প্রশাসনের কতিপয় দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত রয়েছেন। এই চক্রটি নতুন জেলা প্রশাসক জসিমউদ্দিনকে বিতর্কিত করতেই এসব কর্মকান্ড করছেন। এছাড়া আগামী ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসকে সমানে রেখে যে কোন অঘটন ঘটানোর পায়তারা করছে কিনা তাও খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন অভিজ্ঞমহল।

সূত্র আরো জানান, চাষাঢ়া জিয়া হলে মেলার আয়োজন করলে শহরের উপর যানজটসহ নানা ভাবে চাপ পরে। এই কথা বিবেচনা করে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্টিজের সভাপতি খালেদ হায়দার কাজল মেলাটি অন্যত্র সরিয়ে নেন। মেলার স্থান পরিবর্তন করার পর একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র পূর্বের স্থান জিয়া হলে মেলা করার ব্যাপারে চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, এ কাজে তাদেরকে সহযোগীতা করেন জেলা প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী। পরে অবশ্য নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্টিজের সভাপতি খালেদ হায়দার কাজলের হস্তক্ষেপে সে চেষ্টা ভেস্তে যায়। এরপর জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়ার কাছে অন্য একটি মেলা উদযাপনকারী পক্ষ গেলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন ‘সামনে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস’ এই গুরুত্বপূর্ণ মাসে চাষাঢ়ার মত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মেলা করার অনুমতি দেয়া যাবে না।

মেলার আয়োজকদের একজন জানান, ডিসি রাব্বি মিয়ার বদলীর একদিন আগে ৪০ লাখ টাকা উৎকোচ দিয়ে ৯০ দিনের জন্য মেলার ইজারা নেন বলে জানা যায়।

এ ব্যাপারে জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক সোহরাব আহাম্মেদ বলেন, চাষাঢ়া জিয়া হলে মেলা হলে পুলিশের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মেলায় যারা রিক্সা দিয়ে আসেন তারা রিক্সা ছেড়ে চলে যান, কিন্তু যারা গাড়ি নিয়ে আসেন তাদের তো গাড়ি পার্কিং এর কোন ব্যবস্থা নেই। এছাড়া মেলা হলে সেখানে মানুষের ঢল নামে, তাদের সামাল দেওয়াটাও কষ্টসাধ্য। সুতরাং মেলা আয়োজনের আগে জেলা প্রসাশনকে পুলিশ সুপারের কাছ থেকে সুবিধা-অসুবিধার ব্যাপারে জেনে নেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

জানাযায়, সোনারগাঁয়ের জনৈক সালাউদ্দিন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও মেয়র আইভীর নাম ভাংগিয়ে গত কয়েকদিন ধরে মেলার প্যান্ডল তৈরীসহ বিভিন্ন কর্মকান্ড চালাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশের ডিআই-টু সাজ্জাদ রোমেল জানান, মেলা করার ব্যাপারে সালাউদ্দিন নামের কেউ পুলিশ সুপারের কাছে কোন প্রকারের আবেদন করেননি। সুতরাং এ ধরনের মেলা সম্পূর্ণ অবৈধ।

0