জীর্ণ শরীরে রিকশা চালাতেন মুক্তিযোদ্ধা, পাশে দাঁড়ালেন অয়ন ওসমান

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: শক্তিতে কুলোয় না বলে কখনো রিকশা চালিয়ে যেতেন, কখনো নিয়ে যেতেন টেনে। এভাবেই ভোর ৪টায় রিকশা নিয়ে বের হতেন। সকাল ১০টা পর্যন্ত চালিয়ে আয় করতেন দু’শত টাকা। একশ টাকা রিকশা জমা দিতেন বাকি একশ টাকা নিয়ে ফিরতেন বাড়িতে।

জীর্ণ শরীরের প্রায় ৭০ বছর বয়সী এই রিকশা চালকের নাম পরেশ চন্দ্র দে। সে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় ছোট একটি ভুলে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা পাচ্ছে না তিনি।

থাকেন নীতাইগঞ্জের একটি মাটি ভাড়া বাসায়। পরিবারে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে। বাড়ি ভাড়া ছাড়াও প্রতিদিন লাগে এক কেজি চাল ও তরকারি। তাতে ২‘শ ৫০ টাকার মতো খরচ। এর মধ্যে ছেলে চা বিক্রি করে দিতে পারতেন ১‘শ টাকা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা পরেশ চন্দ্র দে

কীভাবে বাকি টাকার জোগাড় করবে? তাই পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার অবলম্বন হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা পরশ চন্দ্র দে বেছে নিয়েছেন পায়ে চালিত রিকশাটিকে।

বীর মুক্তিযোদ্ধার অসহায়ত্বের সেই কথা শুনে পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের পরিবারের সন্তান অয়ন ওসমান। অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে নিজ অর্থায়নে একটি ব্যাটারী চালিত মিশুক কিনে দিয়েছেন। মু‌ক্তি‌যোদ্ধা পরশ চন্দ্র যেন, মিশুক ভাড়া দিয়ে কিছুটা হলেও স্বচ্ছল ভাবে চলতে পারেন।

অয়ন ওসমানের পক্ষে রোববার মিশুক রিক্সার কাগজপত্র ও চাবি তুলে দেন মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসমাঈল রাফেল, যুবলীগ নেতা আহাম্মেদ কাউছার, তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান প্রমূখ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা পরশ চন্দ্র দে’র ছেলে কিংকর জানান, ‘আমি একটি চাকরি করতাম। করোনার সময় চাকরী চলে গেলে সংসারের স্বচ্ছল হারিয়ে যায়। তাই বাবাও রিকশা চালানো শুরু করেন। আমার বাবার কথা শুনে অয়ন ওসমান ভাই এগিয়ে এসেছে। আমাদের স্বচ্ছল ফিরাতে তিনি মিশুক রিক্সা কিনে দিয়েছেন। তার এই ঋণ আমি কখনো পরিশোধ করতে পারবো না।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা পরশ চন্দ্র দে জানান, ‘এখন মিশুক ভাড়া দিয়ে যে টাকা আয় হবে, আশা করছি সুন্দর ভাবেই চলে যাবে সংসার। একজন মুক্তিযোদ্ধার কষ্ট একজন মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সন্তানই বুঝে। অয়ন ওসমানকে ধন্যবাদ জানাই এবং তাঁর ও তাঁর পরিবারের সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।’

0