জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সিপিবি’র বিক্ষোভ সমাবেশ

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটি।

রোববার (৭ আগস্ট) বিকাল ৫ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।

সিপিবি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শিবনাথ চক্রবর্তী’র সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা কমিটির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য আঃ হাই শরীফ, বিমল কান্তি দাস, শাহানারা বেগম, আব্দুস সালাম বাবুল, জেলা কমিটির সদস্য দুলাল সাহা, জাকির হোসেন, শ্রমিক নেতা এম এ শাহীন ও ইকবাল হোসেন প্রমুখ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এমনিতেই জনগণ চরম সংকটে কষ্টকর জীবন যাপন করছে। এই অবস্থার মধ্যে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি সাধারণ জনগণের জন্য মরার উপর খাড়ার ঘাঁ হয়ে দাঁড়াবে। জনজীবন ভীষণভাবে বিপর্যস্ত হবে। জ্বালানি তেল পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল-কেরোসিনের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির প্রভাব কৃষিসহ সব কিছুর উপরে পড়বে। ইতিমধ্যে পরিবহনের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ জনগণকে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। সার, জ্বালানি তেল, ভোজ্যতেল, ওষুধ ও পানির দামসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে সরকার জনগণের পেটে লাথি মারছে। দেশকে নজিরবিহীন বিপদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার পরেও সরকার জনস্বার্থের কথা ন্যূনতম বিবেচনায় না নিয়ে আইএমএফ এর পরামর্শে তাঁদের কাছ থেকে ঋণ পেতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। আইএমএফ-এর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে দেশকে বিপদের ফেলার কোন নৈতিক অধিকার সরকারের নেই। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে। মধ্যরাতের সরকার মধ্যরাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে জনগণের জীবনযাত্রা অসহনীয় করে তুলেছে। সরকারের এই গণবিরোধী নীতি পরিহার করে জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানি তেলের বর্ধিত দাম প্রত্যার করতে হবে। বাজার অর্থনীতির বিপরীতে জনস্বাথের্র অর্থনীতিতে দেশ পরিচালনা করতে হবে। নয় তো দেশের অবস্থা আরও শোচনীয় হবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশ ও দেশের জনগণকে রক্ষা করতে হলে লুটেরা ধনীক শ্রেণীর ব্যবস্থা বদলাতে হবে। তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে জনগণের বিকল্প শক্তি গড়ে তুলা ছাড়া কোন পথ নেই। সরকার গণবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে সিপিবি জেলা-উপজেলায় ঘেরাও, অবরোধ ও প্রয়োজনে হরতালের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। সেই সংগ্রামে সকল সাধারণ মানুষকে অংশ গ্রহণ করার জন্য নেতৃবৃন্দ উদাত্ত আহ্বান জানান।