টার্গেট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, আড়তে নেয়ার নামে টাকা ছিনিয়ে নিতো তারা

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ডাকাতি, হত্যাকাণ্ডসহ নানা অপরাধে জড়িত জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১৯ জানুয়ারী (মঙ্গলবার) রাতে রূপগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সজল, মুসা, বাচ্চু, সজীব, মুন্না ও সিদ্দিক। এসময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ, চাকু এবং লুণ্ঠন করা ৭ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (২০ জানুয়ারি) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার।

তিনি বলেন, রাজধানীর কাওরান বাজারসহ বেশ কয়েকটি স্থানে পাইকারি সবজির আড়ত বসে। স্বল্প আয়ের ব্যবসায়ীরা আড়ত থেকে সবজি কিনে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে। একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল সাধারণত রাত ১১টা বা ১২ টার পর থেকে ভাড়া করা পিকআপ নিয়ে ডাকাতি করতে বের হয়। ডাকাত দল আড়তে আসা ক্ষুদ্র ব্যসায়ীদের টার্গেট করে। টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের আড়তে নেওয়ার উদ্দেশ্যে সুকৌশলে তাদের গাড়িতে তোলে। গাড়িতে তোলার পর যাত্রীবেশে থাকা ডাকাত দলের সদস্যরা ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এরপর চলন্ত গাড়ি থেকে তাদেরকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, গত বছর ২৮ ডিসেম্বর আপন মিয়া ও তার সঙ্গী নজরুল ইসলাম দক্ষিণখান তার বাসা হতে কাওরান বাজারের উদ্দেশ্যে বের হয়। বিমানবন্দর থানার কাওলা ফুটওভার ব্রিজের পূর্ব পাশে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। অজ্ঞাতনামা ডাকাতরা পিকআপ ভ্যানযোগে এসে কারওয়ান বাজার যাবে মর্মে যাত্রী ওঠায়। ভিকটিম কারওয়ান বাজারগামী পিকআপে উঠে বসে। পিকআপে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পিকআপের পেছনে যাত্রীবেশে বসে থাকা ডাকাতরা তাদের টাকাসহ মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে চলন্ত গাড়ি হতে ভিকটিমকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় ভিকটিম আপন মিয়া মারা যায়।

এ বিষয়ে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা রুজু হয়। থানা পুলিশের পাশাপাশি মামলাটি তদন্ত  শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশ। এ মামলার ঘটনা তদন্তে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে গোয়েন্দা বিভাগ। এরপর অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিবি পুলিশের এই প্রধান কর্মকর্তা জানান, রাজধানীতে দিনের বেলা পিকআপ ও ট্রাক চলাচল করে না রাতে চলাচল করে। তাই রাজধানীর দিন ও রাতের চিত্র ভিন্ন। স্বল্প আয়ের ব্যবসায়ীরা এমন ঘটনার সম্মুখীন হলেও সাধারণত থানায় কোনও অভিযোগ জানায় না। তাই এ ঘটনাগুলো পুলিশের অজানাই থেকে যায়। এমন ঘটনার শিকার হলে পুলিশকে অবহিত করতে সবাইকে অনুরোধ করেন তিনি।

0