টেস্ট হচ্ছে না বলেই অজানা করোনা রোগীর সংখ্যা

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: পরীক্ষা হচ্ছে না বলেই পাওয়া যাচ্ছে না দেশে করোনায় আক্রান্ত রোগীর প্রকৃত সংখ্যা। বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা, ভেতরে ভেতরে সংক্রমণ হতে থাকলে নিয়ন্ত্রণের বাহিরে যেতে পারে দেশের করোনা পরিস্থিতি। আর এই লক্ষ্যে করোনা’র পরীক্ষা বাড়ানোর পাশাপাশি লকডাউন ও কোয়ারেন্টাইনের উপর গুরুত্বের তাগিদ দেওয়ার জন্য বলেছেন তারা।

বিশ্ব জুড়ে আতঙ্ক করোনা ভাইরাস নিয়ে। প্রতিটি দেশেই ক্রমান্বয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বাংলাদেশে প্রথম ৮ই মার্চ প্রথম আক্রান্ত হন এক ব্যক্তি। তারপর থেকে কখনোও শূন্য কখনও ৩-৪জন আক্রান্ত হচ্ছেন করোনায়। হটলাইনে করোনা সংক্রান্ত ফোন দিয়েছেন ৮২হাজারের বেশি। আর এ যাবত করোনার পরীক্ষা করা হয়েছে ১হাজার ৬৮জনের, যার মধ্যে পজিটিভ ৪৮জনের।

জনস্বাস্থ্য বিজ্ঞান বলছে, এসব ক্ষেত্রে কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের সূচক প্রথমে বাড়ে, পরে সমতল এবং এরপর তা নিয়ন্ত্রণে আসতে থাকে। তবে বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতি কেন?

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেছেন, WHO খুব জোড় দিয়েছেন টেস্ট-টেস্ট এবং টেস্ট। সীমাবদ্ধ টেস্ট করার ফলেই আমরা সবগুলো টেস্ট করতে পারছি না।

সংক্রামণব্যাধী বিশেষজ্ঞ ডা.ফজলে রাব্বি বলেছেন, সংক্রমণের অঙ্ক অনুযায়ী প্রতি ৩-৭দিনে এ সংখ্যা পুনোপুনিক হারে বাড়ার কথা। গত ৭দিনে দেখা গিয়েছিল ৩দিন কোন কেইসই ছিল না। সংক্রমণ হার আর-নট। তাহলে আজ যদি ৪৮রোগী থাকে ২-৩দিন পর ১২০-১৩০রোগী থাকার কথা। কিন্তু সেটা হচ্ছে না কারণ আমরা বেশি টেস্ট করতে পারছি না। মূলত সমস্যা সীমাবদ্ধ টেস্ট।

তবে বাংলাদেশে কেন করোনা রোগী কম জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

গত দুই দিনে বাংলাদেশে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বা মৃত্যুর কোনো খবর দেয়নি সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। এই ভাইরাসে বিশ্বে রোগীর সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। কিন্তু দেশে গত ৮ মার্চ প্রথম শনাক্তের পর ২২ দিনে আক্রান্ত হয়েছেন মাত্র ৪৮ জন।

সরকারের উদ্যোগের কারণেই মানুষ এই ভাইরাসে কম সংক্রমিত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে মহাখালীতে আইইডিসিআরের সম্মেলন কক্ষে এক ব্রিফিংয়ে অনলাইনে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নিজেদের উদ্যোগে দুই মাস আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়েছি। আমাদের উদ্যোগটি কাজে লেগেছে। পৃথিবীর সাথে তুলনা করলে বাংলাদেশ এখনো অনেক ভালো আছে।

যথেষ্ট পরিমাণ পরীক্ষা করা হচ্ছে না বলে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সঠিক সংখ্যা জানা যাচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক হাসপাতালে পরীক্ষা করার ব্যবস্থা থাকলেও সেখানে মানুষ পরীক্ষা করতে যাচ্ছে না। যা ইঙ্গিত করে যে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা কম। চট্টগ্রামে যেই কেন্দ্রে পরীক্ষা করা হচ্ছে সেখানে গত চার পাচদিনে ৫-৭ জনও পরীক্ষা করতে আসেনি। কক্সবাজারের পরীক্ষা কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত কেউ পরীক্ষা করতে আসেনি।’

জাহিদ মালেক আরও বলেন, ‘অনেকে বলছে আমাদের দেশে সংখ্যা এত কম কেন? ভাইরাস সংক্রমণের সংখ্যা কম হলেই তো আমাদের খুশি হওয়া উচিত।’

0