”ডাক্তার-নার্স কেউ ছুঁয়েও দেখেন নাই, হুইলচেয়ারে বসে বসেই মারা গেলেন মা”

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: সারা বিশ্বেরই করোনার ভয়ঙ্ককর ছায়া। চলছে যুদ্ধ। প্রতিরোধ। নেই প্রতিষেধক। বাংলাদেশের সর্বত্র এক রকম লকডাউনে। সরকারী-বেসরকারী নানা প্রস্তুতি, ব্যবস্থা। তব্রু মধ্যে করোনা ভাইরাস আতঙ্কে অন্য সব রোগের চিকিৎসাও ব্যহত হচ্ছে। আবার করোনার মূল উপসর্গ দেখা দিলে তার চিকিৎসা মিলছে না। ভয়ে সবাই। চিকিৎসক নার্স ডিউটি কমিয়েছেন, যারা করছেন তারাও দূরে দূরে। মারা যাচ্ছেন অনেকে। আক্ষেপ থাকছে, কেউ ইকটু চিকিৎসা করালে হয়তো বেচে যেত নিজেদের আপন জন।

নারায়ণগঞ্জে মার্চের প্রথম সপ্তাহে করোনা রোগী সনাক্ত হয়। দেশের প্রথম তিন রোগীর দুই জনই ছিল নারায়ণগঞ্জের। এর মধ্যে দুই জনই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। আর নারায়ণগঞ্জে প্রথম করোনায় মারা গেলেন এক নারী। যার মৃত্যুতে গত তিন দিনে তিনটি পৃথক স্থান একরকম লকডাউন করা হয়েছে, হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে প্রায় অর্ধশত।

মৃত্যু মানব জীবনে অবধারীত, তবে কিছু মৃত্যু অনেক যন্ত্রনার, কষ্টের, তাড়নার। বন্দরের ওই নারীর মৃত্যুতে তার ছেলের বুক ফাটা আর্তনাদ হয়ত আমরা কেউ বুঝতে পারবো না।

পুতুল (৫০) নামের ওই নারী মারা যাওয়ার পর তার ছেলে মোহাম্মদ পাভেল গণমাধ্যমের কাছে জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর থেকে ডাক্তার-নার্স কেউ ছুঁয়েও দেখেন নাই। হুইলচেয়ারে বসে বসেই মারা গেলেন মা। বেডে পর্যন্ত তুলতে পারি নাই। এই কষ্টের কথা কারে গিয়া বলমু?

গত ৩০ মার্চ করোনা উপসর্গ নিয়ে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে মারা যান পুতুল (৫০) নামের ওই নারী। এরপর গত ২ এপ্রিল তার নমুনা পরীক্ষায় করোনা আক্রান্তের বিষয়টি শনাক্ত হয়।

নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি পাইকারি দোকানে কাজ করেন মোহাম্মদ পাভেল। তিনি আরও জানান, গত ২৯ মার্চ অসুস্থবোধ করায় মাকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে যান। কোনো চিকিৎসা না দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয় চিকিৎসক। করোনা সন্দেহে সেখানেও চিকিৎসা পাননি ওই নারী। নিয়ে যেতে বলা হয় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে না গিয়ে মাকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ ফিরে আসেন পাভেল।

পাভেল বলেন, নারায়ণগঞ্জের অনেকগুলা প্রাইভেট ক্লিনিকে খোঁজ নিছি। কিন্তু কোনো ক্লিনিক মাকে ভর্তি নিতে রাজি হয় নাই। তারা জানায়, ক্লিনিকে কোনো চিকিৎসক নাই। উপায় না দেখে ৩০ তারিখ কুর্মিটোলা নিয়ে যাই। সেখানে গিয়েও কোনো চিকিৎসা পাই নাই।

তিনি বলেন, দুপুর ১২টায় হাসাপাতালে নিয়ে যাই। সোয়া দুইটায় মারা যান মা। এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালের ডাক্তাররা মায়রে ছুঁয়েও দেখে নাই, একবারের জন্যও না। নার্সদের ধরতে বললেও ধরে নাই, দাড়িয়ে দাড়িয়ে গল্প করছেন। তাদের কাছে হেক্সিসল চাইছি তাও দেয় নাই। রোগীরে যে ধরমু সেটাও দেয় নাই। অক্সিজেনও দেয় নাই। চেয়ারে বইসা থাইকা থাইকা, আমার মায় মইরা গেলো। মারা যাওয়ার পর ডাক্তারের অভাব নাই। চারদিক দিয়া ঘিইরা ধরলো ডাক্তার। এই পরীক্ষা, সেই পরীক্ষা করলো। কিন্তু ততক্ষনে তো মা আর নাই।

করোনায় মারা গেলেও ওই নারীর ডেথ সার্টিফিকেটে ব্রেন স্ট্রোকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান ছেলে পাভেল। তিনি বলেন, নাক দিয়া রক্ত বের হইছিল। জিজ্ঞেস করাতে ডাক্তার বলে, ব্রেন স্ট্রোক কইরা মারা গেছে। করোনার কথা বলেও নাই। ডেথ সার্টিফিকেটেও ব্রেন স্ট্রোকের কথা লেখা আছে। বৃহস্পতিবার বাসায় আইসা ডাক্তাররা জানাইলো, মা করোনায় মারা গেছেন।

0