ডিএনডি প্রজেক্টের মেয়াদ ২০২৩ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে: সচিব জাকির

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ডিএনডি (ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা) প্রকল্পটি ২০১৬ সালে হাতে নিয়েছিল। যা ইতিমধ্যে ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পটির কাজ সম্পূর্ণ করতে প্রজেক্টের পূর্বের নির্ধারণকৃত মেয়াদ ২০১৬-২০২০ সালের জায়গায় প্রজেক্টের মেয়াদ ২০২৩ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে, এমনটাই জানিয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনের (কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের) সদস্য মো. জাকির হোসেন আকন্দ।

এসময় সচিব মো. জাকির হোসেন বলেন, ডিএনডি’র উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে মোট ৫’শ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে ১৩’শ কোটি টাকা লাগবে। তাই বরাদ্দকৃত ৫’শ ৫৮ কোটি টাকা শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে প্রকল্পটির কাজের সময়সীমা ২০২১ জুন থেকে বৃদ্ধি করে ২০২৩ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২ টার সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে ডিএনডির পানি নিস্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।

তিনি আরও বলেন, ২০১৬ সালে যে প্রজেক্ট অবজেকটিব ছিল আর এখন যে প্রজেক্ট অবজেটিব তা সম্পূর্ন আলাদা। এখন যে কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে এর ২টি পার্ট রয়েছে। প্রধান পার্টটা হলো নারায়ণগঞ্জ শহরের মধ্যে যে খালগুলো রয়েছে, তা পুনরায় উদ্ধার করা। সরকারের জমিগুলো উদ্ধার করা । খালগুলো সচল করা । খালের অতিরিক্ত পানি নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে আমাদের পার্শ্ববর্তী যে ২টি নদী আছে সেই নদীতে এই পানিগুলোকে ড্রেন আউট করা। এই ২টি কার্যক্রম গুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং।

পরিকল্পনা কমিশনের (কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের) এই সদস্য বলেন, কার্যক্রমগুলো জনগণ, সিটিকর্পোরেশন, জেলা প্রশাসক, পরিবেশ  অধিদপ্তর সম্পৃকততার মাধ্যমে সেনাবাহিনীরা এই খালগুলো পুনরাদ্ধার করবেন। এই খালগুলোর ভিতরে ছোট ছোট কালবার্ট রয়েছে। সে সমস্ত কালবার্ট গুলো পর্যবেক্ষণ করে যেগুলা চওড়া করা হবে। সে সমস্ত কালবার্ট আমরা হিউমিলেন করে। সেখানে আর্টস টাইপের নতুন আর্টস কালবার্ট করব। পুরাতন যে সমস্ত কালবার্ট রাখা যাবে সেগুলো আমরা রেখে দিব। খালের দুই দিকে যে সমস্ত আবাসন বাড়ি রয়েছে। সে সমস্ত বাড়ির যে সব গ্যাস লাইন,পানির লাইন গুলো থাকবে তা আমরা একটি সিস্টেমে নিয়ে আসব। খালের যে জমি রয়েছে তা সরকারের হাতে চলে আসবে। খালের দু’পাশে মানুষ যাতে হাটাহাটি করতে পারে এবং ব্যবহার করতে পারে তার জন্য জায়গা তৈরি করে দিবো।

সচিব মো.জাকির হোসেন বলেন, পানি নিষ্কাশনের জন্য সিদ্দিরগঞ্জ সিমলাইয়ে ৬টি এবং আদমজিতে ৭টি মোট ১৩টি অত্যাধুনিক পাম্প জার্মান থেকে আনা হয়েছে। এই পাম্পগুলোতে আর্টিফেশিয়াল ও ইনটেলিজেন্স দেওয়া আছে যা খালের পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে সেল অপরেশনে চলে যাবে। সমস্ত কাজগুলো সেনাবাহিনী একটি ট্রিম সমাপ্ত করবে বলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হতে সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন- পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহা-পরিচালক মোহাম্মদ আলী, ডিএনডি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক লে. কর্ণেল মাসফীক আলম ভূইয়া, ১৯ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের মেজর সৈয়দ মোস্তাকীন হায়দার, ডিএনডি প্রজেক্টর কমান্ডার মেজর মাহতাব, বাংলাদেশ পানি উন্নয় বোর্ডের অতিরিক্ত মহাসচিব মো. আলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফ, নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোশারফ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো.সেলিম রেজা, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহিন্দ্র কুমার মন্ডল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার  নাহিদা বারিক, নারায়ণগঞ্জ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গির আলম, পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী পরিচালক সাঈদ আনোয়ার সহ আরও অনেকে।

0