সংসারে অশান্তি ও বিচ্ছেদ হয় ফেসবুকের মাধ্যমে: জসিম উদ্দিন

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মানে জনগনের আইটি বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধিতেই ব্র্যাক আইটি সেন্টারের উদ্দ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় আমন্ত্রন কনভেনশেন সেন্টারে ওই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক আইটি সেন্টার নারায়ণগঞ্জের প্রধান মামুন। ব্র্যাকের আইটি হেড তানভীর আরাফের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বেদৌরা বিনতে হাবিব, ইনোভেস্ট টেকনোলজি লিমিটেড এর এমডি মিনাজ খানসহ প্রমুখ৷

জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন বলেছেন, ‘পরকীয়ার অন্যতম মাধ্যম এখন ফেসবুক। সংসারে বিভিন্ন অশান্তি ও বিচ্ছেদ হয় ফেসবুকের মাধ্যমে। মেয়েরা যারা এখানে ট্রেনিং করলা তারা এ ট্রেনিংয়ের ভালো দিকটি গ্রহণ করতে হবে। বিয়ের পর যাতে স্বামী না মনে করে এ কেমন আইটি এক্সপার্ট বিয়ে করলাম এ তো কয়দিন পর থাকবে না, সে ভয়টা যাতে না থাকে। কারণ এ তো সারাদিন ফেসবুকে পড়ে থাকে‘।

তিনি বলেন, দেখা যায় অনার্সে পড়াশোনা করে ডিসি অফিসে পিয়ন নিয়োগের সময় গিয়ে অনার্স পাস মাস্টার্স পাস পড়ুয়ারা আবেদন করে। সেটি আমরা না করে আমাদের এক্সপার্ট তৈরির জায়গাগুলো করতে চাই। এই শহরে আমরা নতুন একটি টেকনিক্যাল কলেজ করছি। সারা বিশ্বে মানবসম্পদের চাহিদা অনেক। আমি মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবে রাস্তার পাশে ঝাড়ু নিয়ে দাড়িয়ে থাকা কোন বাঙালি ভাইকে দেখি আমার অনেক কষ্ট লাগে। সে জায়গা থেকে আমাদের বেড়িয়ে আসতে হবে। পাবনার দুই সন্তান আছে যারা নাসার বিজ্ঞানী। দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে এই নারায়ণগঞ্জ। আমাদের অনেক পরিকল্পনা আছে। একটা প্লাম্বার খুজতে গেলে জীবন শেষ। ফ্রিজের মেকানিক খুজতে মাংস নষ্ট হচ্ছে৷ বিশ্বের বিভিন্ন বড় বড় হোটেলে আমার এক্সপার্ট যেতে পারছে না। কারণ অন্যদেশের এক্সপার্ট ৫ মিনিটের মধ্যে কাজ করে দেয়। আর বাংলাদেশের একজনকে দিলে ১০ মিনিট লাগে। তাহলে তারা আমাদের থেকে লোক কেন নিবে ? সে জায়গা থেকে আইটি সেক্টর কিংবা টেকনিক্যাল সেক্টরে এক্সপার্ট তৈরি করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী অনেক কাজ করছে কিন্তু রুড লেভেলে যেতে পারছে না।

জেলা প্রশাসক বলেন, একজন নারীর সবচেয়ে বড় ক্ষমতা হলো আর্থিক সক্ষমতা। এর মাধ্যমে তিনি তার মত প্রকাশ করতে পারেন। পরনিন্দা ও পরশ্রী বাদ দিয়ে নিজের কাজ করতে হবে এবং অন্যদেরকেও উৎসাহিত করতে হবে। একটি মেয়ের উৎসাহ যদি একটি ছেলে পায় তারা অনেক ভাল কিছু হবে এবং করে দেখাবে। হয়ত সে একজন বড় রাজনীতিবিদ বা সে এজন সফল উদ্যোক্তা হয়ে যাবে। দেশে আইসিটি উন্নয়নের ফলে সকলের হাতে হাতে এখন স্মার্টফোন পৌঁছে গেছে। জাফর ইকবালের কথা ধরে বলতে হয়, এখন যেমন আমরা বলছে মাদকের হাত থেকে বাঁচুন। তেমনি মোবাইল ব্যবহার করতে করতে যাতে ফেইসবুকের হাত থেকে বাঁচুন এমন স্লোগানে উপনীত আমাদের না হতে হয়।

তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে সরকার যখন ডিজিটাল প্রস্তাবনা নিয়ে আসে তখন অনেকেই তা ভালো চোখে নেয়নি। আবার অনেকে বলেছেন এটা বাস্তবায়ন হবে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তা বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন। আইটি কোর্স করে ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে উপার্জন করা যায়।

0