‘ড. আনিসুজ্জামান ছিলেন ত্বকী হত্যার বিচারের দাবিতে সোচ্চার ‘

0

দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক, গবেষক জাতীয় অধ্যাপক, ড. আনিসুজ্জামান আজ বিকেলে ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহির রাযিয়ুন)। আমরা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি ও তাঁর শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

আনিসুজ্জামান ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইমেরিটাস অধ্যাপক। তিনি ভাষা-আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।
স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে ডঃ কুদরাত-এ-খুদাকে প্রধান করে গঠিত জাতীয় শিক্ষা কমিশনের সদস্য ছিলেন তিনি। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নিয়ে তাঁর গবেষণা সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। আনিসুজ্জামান শিক্ষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য দেশে ও দেশের বাইরে বহু পুরস্কার লাভ করেছেন।

প্রবন্ধ গবেষণায় অবদানের জন্য ১৯৭০ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। শিক্ষায় অবদানের জন্য তাকে ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন তিনি। শিক্ষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য তাকে ভারত সরকার কর্তৃক প্রদত্ত তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণ পদক প্রদান করা হয়। সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৫ সালে তাকে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কারলাভ করে তিনি। তিনি ১৯৯৩ ও ২০১৭ সালে দুইবার আনন্দবাজার পত্রিকা কর্তৃক প্রদত্ত আনন্দ পুরস্কার, ২০০৫ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি. লিট.ডিগ্রি এবং ২০১৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী পদক লাভ করেন। ২০১৮ সালের ১৯ জুন বাংলাদেশ সরকার তাকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয়।

দেশের মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার বিচারের দাবিতে তিনি সবসময় সোচ্চার ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন ঘটলো।

 

লেখক: সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি
ত্বকীর গর্বিত পিতা ও
সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক

 

 

এলএন/এম/এমএ/০৫১৪-০৭

0