ঢাকা থেকে বাবা বঙ্গবন্ধুর ভাষনের ক্যাসেট কিনে এনেছিল: সায়েম প্রধান

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: গভীরভাবে শ্রদ্ধা জানাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সহ তার পরিবারের ১৭ জন শহীদ হওয়া সকলের প্রতি।

শোকের মাস ১৫ আগষ্ট নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার ভাষা আসলে নেই৷ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট বাঙ্গালী জাতির জন্য একটি কলঙ্কময় অধ্যায়৷ যদিও তখন আমার জন্ম হয়নি, কিন্ত একটি ঐতিহ্যবাহী আওয়ামীলীগ পরিবারের সন্তান হিসাবে জন্মের পর জ্ঞান হওয়ার পর থেকে দাদা, জেঠা, বাবা, মা ও বড় ভাইদের কাছ থেকে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের ইতিহাস শুনে, আর জেঠা,বাবার রাজনীতি দেখেই বড় হয়েছি৷ তাদের মুখেই শুনেছি ১৫ই আগষ্টে বঙ্গবন্ধু সহ তার পরিবারের শহীদ হওয়ার ইতিহাস যা অত্যান্ত বেদনা দায়ক৷

কিছুদিন আগে হয়ে গেলো বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী৷ কিন্ত, এই জন্ম শতবার্ষিকীতে এসে আমরা কি একবারও স্মরণ করেছি, বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবার বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কে প্রতিষ্ঠিত করতে এদেশকে স্বাধীন করতে কতটা ত্যাগ স্বীকার করেছে৷ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্টে জাতির জনককে স্ব-পরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা জীবনের মায়া ত্যাগ করে, এদেশে এসে কিভাবে কতটা কষ্ঠ করে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আজকের এই আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠা করেছে৷ আজকে যারা আওয়ামীলীগের ধারক-বাহক তারা কি এই মেসেজ গুলি জনগণের ডোর টু ডোর পৌঁছে দিতে পেরেছে?

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের রেসকোর্সের ময়দানে যে জ্বালাময়ী ঐতিহাসিক ভাষন তা আমাকে সবসময় অনুপ্রানিত করে৷ ছেলে বেলায় আমাদের ঘরে টেপরেকর্ডার ছিলো আমার বাবা ঢাকা থেকে বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষনের ক্যাসেট জোগাড় করে এনেছিলেন এবং তা প্রায়ই আমাদের শোনাতেন৷ ছেলে বেলায়ই যখনই ঐ ভাষন শুনতাম  তখনই রক্তে একটা শিহরন হতো৷ বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চ’র ভাষনের পরে আজও কোন নেতা এমন কোন রক্ত শিহরণ করা বক্তব্য দিতে পারে নাই৷

সায়েম প্রধানের বাবা ও সাবেক জেলার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মো.মোহসীন প্রধান

বর্তমান প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বা তার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে হলে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নে গড়া আওয়ামীলীগ থেকে হাইব্রীডদের সরিয়ে প্রকৃত আওয়ামীলীগ নিয়ে কাজ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস এবং ১৫ ই আগস্টের পর জাতির জনকের সুযোগ্য কন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার কষ্টার্জিত তৈরি করা আওয়ামীলীগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে। যতদিন না আওয়ামীলীগ থেকে হাইব্রীডদের সরানো হবে, ততদিন পর্যন্ত একের পর এক সাহেদ জিকে শামীমরা এসে ঐতিহ্যবাহী আওয়ামিলীগকে কলংকিত করতে থাকবে। হালুয়া রুটির রাজনীতি বন্ধ করে জাতির জনকের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হলে ত্যাগী আওয়ামীলীগ পরিবারদের নিয়ে কাজ করতে হবে৷

১৯৭৫ এর ১৫ ই আগষ্ঠের সময় আমার বাবা মো.মোহসীন প্রধান( বি এ) সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের আহবায়ক ছিলেন ও জেলার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ছিলেন ১৯৯২ সনে এবং আমার জেঠা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. হাসান আলী প্রধান গোদনাইল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ছিলেন৷ জেঠা ও বাবার মুখে শুনেছি ১৯৭৫ এর পর কেউ আওয়ামীলীগ এর নাম উচ্চারণ করতে ভয় পেতো কিন্তু আমার পরিবার তখনও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে হৃদয়ে ধারন করে আওয়ামীলীগ এর কার্যক্রম পরিচালনা করে গেছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমার বাবা ১৯৭৭ সালে গোদনাইল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সাধারণ সম্পাদক এর দায়িত্ব্য নিয়ে কার্য্যক্রম চালিয়ে যান। তাই একটি খাটি আওয়ামীলীগ পরিবারের সন্তান হিসেবে বলতে চাই, আমরা হালুয়া রুটির রাজনীতি করি না। নেত্রীর সুঃসময়ে এখন কর্মীর অভাব নেই। আল্লাহ না করুক কখনও দুঃসময় আসলে তখনই দেখা যাবে সত্যিকারের আওয়ামীলীগ কারা। তখনও আমি ও আমার পরিবার নেত্রীর পাশে থাকব। হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু কে আজিবন লালন করে যাব।

সায়েম প্রধান
সাবেক আওয়ামীলীগ নেতার সন্তান

0