ঢাবি’র শিক্ষার্থী ধর্ষণ: না.গঞ্জে প্রতিবাদ সমাবেশ

0

স্টাফ করেসপন্ডেট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ : বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস থেকে নেমে বাসায় যাওয়ার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হওয়ার প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে ছাত্র ফেডারেশন মহানগর শাখার।

৭জানুয়ারি (মঙ্গলবার) দুপুরে চাষাঢ়া শহীদ মিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ধর্ষণের প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে ছাত্র ফেডারেশন মহানগর শাখা। এসময় ছাত্র সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

ছাত্র ফেডারেশন মহানগর শাখার আহ্বায়ক ফারহানা মানিক মুনার সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান রিচার্ড, জেলা নারী সংহতির সম্পাদক পপি রানি সরকার, জেলা মহানগর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক তাকবীর হোসেন, সম্পাদক ইমরান হোসেন জাহিদ, সিদ্ধিরগঞ্জ শাখার সাঈদুল রহমান, সদস্য তাবাস্সুম প্রমুখ। এছাড়া এ সময় সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

ফারহানা মানিক মুনা বলেন, ঢাকার কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বাস থেকে নামার পর তাকে অজ্ঞান করে ধর্ষণ ও ধর্ষণ শেষে ফেলে রেখে আসা হয়। সড়কে বিভিন্ন সময় এ ধরণের বর্বরতার ঘটনা ঘটে। প্রতিনিয়ত সড়কে, গণপরিবহনে নারীরা নির্যাতনের শিকার হয়। আমাদের সড়ক, সড়ক নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকা কেউ আমাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। অন্যদিকে আমাদের সড়ক চলে গেছে একটি সিন্ডিকেটের হাতে। যারা প্রতিনিয়ত নির্যাতন, নিপিড়ন করে যাচ্ছে। আর আমাদের প্রশাসন এই সিন্ডিকেটের কাছে বন্ধি হয়ে আছে।

মশিউর রহমান রিচার্ড বলেন, কুর্মিটোলার মত একটি জনবহুল এলাকায় যেখানে সর্বক্ষণ মানুষের আনাগোনা সেখানে বাস থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয় এবং ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণ ঘটনার পর বিভিন্ন প্রতিবেদনে উক্ত এলাকায় হওয়া বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের চিত্র উঠে আসে। সন্ত্রাসীরা প্রশাসনের মদদেই উক্ত এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করে যাচ্ছিল।

তিনি আরো বলেন, আমরা তনুর কথা ভুলে যাইনি। দেশের সবচেয়ে নিরাপদ এলাকা ক্যান্টনমেন্টের মত স্থানে তনু ধর্ষণ ও হত্যা হয়। ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সুবর্ণচরে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণ করা হয়, হত্যা করা হয় কিন্তু এখানো এর কোনো বিচার হয়নি। গত চার বছরে সারা দেশে ১৭ হাজার নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনি ঘরে, বাইরে কোথাও কোনো নিরাপত্তা না দিতে পেরে কেমন উন্নয়ন আমাদের দিতে যাচ্ছেন তা আমাদের বোধগাম্য নয়। ২০২০ সালে যে উন্নয়ন বর্ষ আপনারা পালন করছেন তার সঙ্গে জনগণের কি সম্পর্ক রয়েছে তাও আমরা দেখতে পাচ্ছি না।

পপি রানি সরকার বলেন, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে তনুকে, সোনাগাজিতে নুসরাতকে, ঢাকায় একটি ভবনের অষ্টম তলায় ৭ বছরের শিশু সিমিকে ধর্ষণ এবং ধর্ষণ পর হত্যা করা হয়। গত চার বছরে ১৭ হাজারেরও অধিক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ধর্ষণের পর তাদের হত্যা করা হয়েছে। আমারা দেখছি দেশে ১ হাজার ধর্ষণ মামলার মধ্যে বিচার হয়েছে দুই থেকে তিনটি। এই হচ্ছে বাংলাদেশের চিত্র। যখন কোনো রাষ্ট্র ধর্ষকদের লালন করে, বিচার না করে বাইরে ঘুরে বেড়াতে দেয় তখন সে দেশ কোনোভাবেই নিরাপদ হতে পারে না।

0