তল্লা ট্রাজেডি: ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র চূড়ান্ত

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদের পাশে থাকা গ্যাসের লাইনগুলোর মধ্যে মোটে দুটি বৈধ আর অনেকগুলো অবৈধ। তিতাস গ্যাসের দেওয়া এ রকম একটি অবৈধ গ্যাসলাইনের ওপর মসজিদ কমিটি জেনেশুনেই মসজিদটি নির্মান করে। এতে গ্যাসের পাইপ ফেটে ছিদ্র হয়। ফলে ফাটা লাইন থেকে গ্যাস নিঃসরিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। ওই মসজিদের মুসল্লিরা প্রায়ই গ্যাসের গন্ধ পেতেন। মেরামতের সঙ্গে যুক্ত তিতাসের কর্মীদের এ ব্যাপারে জানানো হলেও তারা তা মেরামত করেনি।

৪ সেপ্টেম্বরও ওই মসজিদে সকাল থেকেই মুসুল্লিরা গ্যাসের গন্ধ পাচ্ছিল। রাতে এশার নামাজের সময় সুগন্ধী ছড়িয়ে ও শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) চালু করে মসজিদের সকল দরজা, জানালা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময়ই হঠাৎই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মসজিদের অবৈধ বিদ্যুৎ লাইন চালু করতে কাটআউট যুক্ত করার সময় বৈদ্যুতিক সুইচে স্ফুলিঙ্গ (স্পার্ক) হয়। স্ফুলিঙ্গ পেয়ে ভিতরে জমা থাকা গ্যাসের কারনে বিকট শব্দের সাথে একটি বিস্ফোরণ হয় এবং আগুন ধরে যায়। এতে ভেতরে নামাজ পড়তে থাকা ৩৭ জন মুসল্লির মধ্যে ৩৪ জন পুড়ে মারা যান।

পশ্চিম তল্লার ওই মসজিদে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে করা মামলাটি তদন্তের পর এতগুলো মানুষের মৃত্যুর জন্য সিআইডি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির (ডিপিডিসি) কর্মকর্তা ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের লোভ ও অবহেলাকেই দায়ী করেছে। কিন্তু একে অপরকে দোষারোপ করতে ব্যস্ত সবাই। তবে তিতাস অবশ্য তার কর্মীদের দোষ দেখছে না।

মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি-ঢাকা বিভাগ) মো. ইমাম হোসেন ১৭ অক্টোবর গনমাধ্যমকে জানান, মামলাটির তদন্ত শেষ পর্যায়ে। অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগে তিতাস, ডিপিডিসি ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির মোট ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র চূড়ান্ত হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

মসজিদের দুটি বিদ্যুতের লাইনের মধ্যে একটি অবৈধ। ঘুষ নিয়ে মিটার রিডার আরিফুর ও মিস্ত্রি মোবারক ওই অবৈধ বিদ্যুৎ–সংযোগটি দেন।
মামলা তত্ত্বাবধান ও তদন্ত তদারকের যুক্ত সিআইডির কর্মকর্তা

সিআইডি সূত্রে জানাগেছে, ৩৬ জনের মধ্যে তিতাসের আটজন, ডিপিডিসির দুজন ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ ২৬ সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে তিতাস গ্যাসের ফতুল্লা অঞ্চলের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, উপব্যবস্থাপক মাহমুদুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী সহকারী এস এম হাসান শাহরিয়ার, সহকারী প্রকৌশলী মানিক মিয়া, কর্মী মো. ইসমাইল প্রধান, সাহায্যকারী হানিফ মিয়া, সিনিয়র উন্নয়নকারী আইউব আলী ও সিনিয়র সুপারভাইজার মনিবুর রহমান চৌধুরী এবং অভিযোগপত্রে ডিপিডিসি নারায়ণগঞ্জ পূর্ব অঞ্চলের মিটার রিডার আরিফুর রহমান ও বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি মোবারক হোসেন রয়েছেন।

তাঁদের মধ্যে তিতাসের আটজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ডিপিডিসির দুজন গ্রেপ্তার হন। তাঁদের মধ্যে বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি মোবারক হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিতাসের আটজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জামিনে বেরিয়ে গেছেন। আর আগুনে পুড়ে মসজিদে পাঁচজনের মৃত্যু হওয়ায় তাঁদের অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে।

মামলা তত্ত্বাবধান ও তদন্ত তদারকের সঙ্গে যুক্ত সিআইডির একাধিক কর্মকর্তা গনমাধ্যমকে বলেন, তদন্ত ও গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের জবানবন্দিতে অবৈধ গ্যাসলাইনগুলোর বিষয়ে অনেক কিছু জানা গেছে। আর মসজিদের দুটি বিদ্যুতের লাইনের মধ্যে একটি আবার অবৈধ। ৪০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে মিটার রিডার আরিফুর রহমান ও মিস্ত্রি মোবারক হোসেন ওই অবৈধ বিদ্যুৎ–সংযোগটি দেন।

0