ভয়ঙ্কর চক্র, চু‌রি ক‌রে বি‌য়ে বা‌ড়ি‌তে!

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: তাদের টার্গেট বিয়ে বাড়ি। দলের এক সদস্য প্রথমে বিয়ে বাড়ি ও বিয়ের দিন-তারিখ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। অতঃপর বিয়ের নির্ধারিত তারিখে বরযাত্রীর ছদ্মবেশে বিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে অন্যরা। সুবিধাজনক সময়ে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বিয়ে বাড়ির বাইরে অবস্থানরত তাদের দলের অন্যান্য সদস্যের কাছে সে জিনিসপত্র হস্তান্তর করে মূল চোর।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রূপগঞ্জের নোয়াপাড়া, সিদ্ধিরগঞ্জের বাঘমারা এবং ঢাকার ডেমরা থানাধীন পূর্ব বক্সনগর এলাকা থেকে এ চক্রের মূলহোতাসহ ৭ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১১।

এ সময় তাদের দখল হতে চোরাইকৃত ৫টি অত্যাধুনিক স্মার্ট ফোন, ১টি স্বর্ণের চেইন, ১ জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, ১টি হাই কনফিগারেশন ল্যাপটপ ও নগদ ৫ হাজার ৯০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

অপরাধীরা হলেন মো. শাহাজালাল ওরুফে শাংখা (৩৫), আব্দুল কাদির জিলানী (১৯), মোঃ সাদ্দাম (২৪), আরিফুল ইসলাম ওরুফে মিঠু(২৮), মো. নুর উদ্দিন ওরুফে বাবু (২৯), মো. সুজন (২৩) ও মো. শাহিন মিয়া (৪০)। এদের মধ্যে মো. শাহাজালাল ওরুফে শাংখা চক্রেটির মূলহোতা।

র‌্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাজমুল হাসান জানান, প্রায় ১০ বছর যাবৎ এই সংঘবদ্ধ চোর চক্রটি জড়িত। তাদের চাতুর্য্যরে কারণে বিগত দিনে তারা কখনোই ধরা পড়েনি। চুরিই তাদের একমাত্র পেশা। সম্প্রতি চোর চক্রের প্রধান শাহজালাল @ শাংখা তার শ্যালক আব্দুল কাদের জিলানীকে চুরি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে এই পেশায় নিয়োজিত করেছে। এভাবে বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণ দিয়ে নতুন নতুন সদস্য তাদের দলের সাথে যুক্ত করে থাকে।

এছাড়া বাস, ট্রেন ও লঞ্চে তাদের প্রধান টার্গেট পাঞ্জাবী ও ঢোলা কাপড় পরিহিত বিভিন্ন সাধারণ যাত্রী। এক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে টার্গেটকৃত ব্যক্তির চারপাশে তারা অবস্থান নেয়। পরে ব্যক্তির পাঞ্জাবী বা ঢোলা কাপড়ের পকেট হতে ঔ ব্যাক্তির অজ্ঞাতসারে মোবাইল, মানিব্যাগ ও নগদ টাকা ইত্যাদি চুরি করে। চুরির কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়া মাত্রই পূর্বের ন্যায় চোরাইকৃত মালামাল দলের অন্যান্য সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে, যাতে মূল চোর ধরা পড়লেও তার কাছে চোরাই মালামাল পাওয়া না যায়।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

0