তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কী করণীয় জানালেন না.গঞ্জের শীর্ষ কর্মকর্তারা

0

স্টাফ করেসপেন্ডন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: প্রধানমন্ত্রীর ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ’ প্রত্যয় বাস্তবায়নে নারায়ণগঞ্জে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১২ জুন) সকাল ১১ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দের সাথে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যুথিকা সরকার, নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জনের ডা. ইমতিয়াজ, নারায়ণগঞ্জ জেলা তথ্য অফিসার সিরাজদ্দৌল্লাহ, তামাক অর্থসংস্থার চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কামিজা ইয়াসমিন, বিভিন্ন এনজিও কর্মকর্তা সহ আরো অনেকে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যুথিকা সরকার বলেন, যারা শিক্ষিত, তারা জানানে তামাক দেহের জন্য কতটা ক্ষতিকর। কিন্তু যারা অশিক্ষিত তারা তামাকের ক্ষতি সম্পর্কে জানেন না। তামাকের ব্যবহার বন্ধ করতে হলে আমাদের শিক্ষিত সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। শিক্ষিত মানুষ হিসেবে আমাদের দায়বন্ধতা আছে তাদের সচেতন করার।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. ইমতিয়াজ বলেন, পুরুষের থেকে মহিলাদের ক্ষেত্রে ধূমপান বেশি ক্ষতিকর। বর্তমান আধুনিক যুগে পুরুষদের সাথে তাল মিলিয়ে মেয়েরাও ধূমপান করছে, যা দু:খজনক। গর্ভবতী অবস্থায় মেয়েরা ধূমপান করলে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়াসহ নানা রকমের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। গর্ভাবস্থায় ধূমপান শিশুর অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ধূমপানে মস্তিষ্কের ২৫% ক্ষতি হয়। এছাড়াও হৃদরোগ, ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধির কারণও ধূমপান।

তিনি আরও বলেন, যে ধূমপান করে তার চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ধূমপানকারীর আশেপাশের লোক জন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা তথ্য অফিসার সিরাজউদ্দৌলা বলেন, তামাক সংক্রান্ত রোগের জন্য সরকার প্রতি বছর ৩০ কোটি টাকা ব্যয় করে। তামাক বিক্রি করায় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু তামাক জাতীয় পণ্যর প্রচার করা নিষেধ। তাই আইনের আওতায় ও বিভিন্ন সচেতনতার মাধ্যমে তামাক জাতীয় পণ্যের ব্যবহার কমাতে হবে। একটা সময়ে তার ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, স্কুল-কলেজের আশেপাশে ধূমপান মুক্ত পরিবেশ গড়তে হবে। এবং শিক্ষা জীবনের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের ধূমপানের কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।


প্রশিক্ষণ কর্মশালার এক পর্যায়ে বিদায়ী জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া বলেন, বৃহস্পতিবার বা আগামী সপ্তাহের মধ্যেই বদলি হয়ে চলে যেতে পারি। এক সাপ্তাহের মধ্যে সিনিয়র জেলা প্রশাসকের প্রমোশন পেয়ে বদলি হওয়ার আবেদন পাবেন বলে জানান তিনি।

সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি সকল স্থানেই পরির্বতন আনার চেষ্টা করেছি। আপনারাও সবাই সবার স্থান থেকে কাজ করে যাবেন। নিজেকে ভালবাসবেন। সব সময় হাসি খুশি থাকবেন এবং পরিবারকে ভালবাসবেন। মানুষ যেন আপনাকে নিয়ে গর্ব করে। মনে রাখবেন যখন কোন ভাল কাজ করতে যাবেন, তখন অনেক বাধা-বিপদ আসবে। তাই বলে কখনও থেমে যাবেন না। ইনশাআল্লাহ আপনার কাজের মধ্যে দিয়েই একদিন সফল হবেন।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তামাকের অপ-ব্যবহার, ক্ষতি, এর প্রতিকার, আইনের দিক দিয়ে নানা নিয়ম-নীতি ও বিভিন্ন বিধিমালা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।

পরিশেষে, তামাক ও ধূমপান মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে কর্মশালার সমাপ্তি ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১২ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় থেকে নতুন জেলা প্রশসক নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করা হয়েছে। আদেশটিতে পাবনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিম উদ্দিনকে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট করা হয়।

0