তিন দিনে তিন রূপে এমএ রশিদ!

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: তিন দিনে তিন রূপে আবির্ভূত হলেন বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশীদ। রোববার কলাগাছিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও লাঙ্গলের প্রার্থী দেলোয়ার প্রধাণের সাথে মনোনয়ন ক্রয়ের ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মিডিয়ায় তোলপাড় চলছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কলাগাছিয়া ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী কাজিমউদ্দিন প্রধাণসহ অন্যান্য প্রার্থীদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন সোমবার। যেখানে এম এ রশীদ বলেছেন, তিনি নিজের হারানো আইডি কার্ড ফেরত পেতে উপজেলা নির্বাচন অফিসে গেলে সেখানে মনোনয়ন কিনতে আসা জাপার প্রার্থী দেলোয়ার প্রধাণ মনোনয়ন ক্রয় করেন। যেহেতু তিনি বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান তাই মুরুব্বী হিসেবে এমএ রশীদের পায়ে ধরে সালাম করে মনোনয়নপত্র ক্রয়ের সময় ধরতে বলেন। এসময় চতুরতার আশ্রয় নিয়ে এম এ রশীদের অগোচরে ছবি তুলে পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করান। এম এ রশীদ আরও বলেন, আমি আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে অন্য দলের প্রার্থীকে সমর্থণ করার কোন সুযোগ নেই। ছল চাতুরি করে ছবি তুলে প্রচার করার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, আমার ৭০ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যদলের সাথে আপোষ করে রাজনীতি করিনি। এখনো করবোনা। আমার দলীয় নেতা-কর্মীরা যেন এই ছল চাতুরীর ছবি দেখে ভূল না বোঝেন, এজন্য আমি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সবাইকে অবহিত করলাম।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনের পরদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার বিকেলে সাবদী এলাকার পূজা মন্ডপে কাপড় বিতরণ অনুষ্ঠানে আবার একসঙ্গে দেখা গেছে এম এ রশীদ ও দেলোয়ার প্রধাণকে। দুজনে পাশপাশি দাড়িয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে কাপড় বিতরণ করেন। তিনদিনে এমএ রশীদের তিন রূপ দেখে কেউ কেউ বলেছেন, ‘রশিদ সাহেবের কত রূপ? তার এই রূপের রহস্য নিয়ে এখন সর্বত্র চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। স্যোশাল মিডিয়াতে এ নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষের নানা মত পাল্টা মতের পোষ্টে ঝড় উঠেছে।

অপর দিকে অবশ্য অনুষ্ঠানটি কলাগছিয়া ইউনিয়নে হওয়ায় সেখানে স্থানীয় চেয়ারম্যান হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন দেলোয়ার প্রধাণ। আর উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ রশীদ ছিলেন প্রধাণ অতিথি। এটাকে জনপ্রতিনিধিদের রাজনৈতিক সম্প্রীতি হিসেবেই দেখছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।