তৈরী পোশাকে বেড়েছে ঝোঁক, ফাঁকা দর্জির দোকান

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: এক সময় ঈদের পোশাক মানেই ছিল নিজস্ব ডিজাইন ও পছন্দের কাপড়ের তৈরি পোশাক। পোশাক তৈরির জন্য আগে-ভাগেই গজ-কাপড়ের দোকান থেকে পছন্দের বস্ত্র কেনা-কাটা করে রাখত নগরবাসী, পরে ভিড় জমাতো দর্জির দোকানে। কাপড়ে মাপজোখ, মজুরিতে দর-কশাকশিতে দর্জিদের ব্যস্ত সময় পার হতো। কিন্তু এক বছরের মাথায় তৈরি পোশাকের দিকে ঝুঁকে পড়েছে নগরবাসী। ফাঁকা হয়ে গেছে দর্জির দোকান।

মঙ্গলবার (১৪ মে) কালিবাজার ও ডিআইটির দর্জিপাড়ায় গিয়ে এমনটাই দেখা মিলে। ঘন্টার পর ঘন্টা পেরিয়ে যাচ্ছে অথচ তেমন কোন ক্রেতার দেখা মিলছে না। এতে দর্জিদের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা। আর যারা দর্জি পাড়ায় আসছেন তাদের বেশির ভাগই বড় বড় নামি-দামি শপিং মলগুলোয় পছন্দের কাপড় জুটবে না বলেই এখানে পা বাড়িয়েছেন।

বেশ কয়েকজন ক্রেতাদের সাথে কথা হলে তারা জানান, সবার পক্ষে শপিংমলের সুন্দর পোশাক ক্রয় করা সম্ভব নয়। তৈরি পোশাকের বেশি দাম দিয়ে কেনা যাদের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠে না, তারাই গজ-কাপড় কিনে দর্জির দোকানে আসছেন; এই ঈদে নিজের ইচ্ছানুযায়ী ডিজাইনের পোশাক করবে বলে। দাম যেমনই হোক না কেন, এমন নতুন নকশার জামা বানাতে চায় সবাই।’

এদিকে, ‘মিতু মনি’ টেইলার্স এর মালিক মো. জসিম উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বৈশাখের পর থেকে কাজের পরিমাণ খুব কমে গেছে। যেখানে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ পিছ পোশাকের অর্ডার পড়ার কথা, সেখানে সে তুলনায় অর্ডার পাচ্ছি মাত্র ১০ থেকে ১২ পিছ। যেখানে দৈনিক ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার মতো উপার্জন হওয়ার কথা, সেখানে মাত্র ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার উপার্জন হচ্ছে। ৯ রামজান পর্যন্ত সর্বমোট ৬০ থেকে ৭০ পিছ পোশাকের অর্ডার পরেছে।

তিনি জানান, গরমকে প্রধান্য দিয়ে এবারের ঈদে অন্যান্য পোশাকের তুলনায় সুতি পোশাকের অর্ডারই বেশি পরেছে।

অর্ডারের পরিমাণ কমের কারণ নিয়ে তিনি বলেন, ৩’শ টাকা থেকে ৫’শ টাকার মধ্যে বিভিন্ন রকমের তৈরির পোশাক পাওয়া যায় বলে বর্তমানে ক্রেতারা বানানো পোশাককে ব্যয় বহুল বলে মনে করছে।

অন্যদিকে, ‘স্বপ্নের ছোয়া টেইলার্স’ এর মালিক ও প্রোপাইটার সুশান্ত বলেন, অর্ডারের পরিমাণ গড় সিজনের থেকেও খারাপ। বর্তমানে ঘরে ঘরে দর্জির কারিগরি থাকায় ও স্বল্প মূল্যে পোশাক পাওয়া যায় বলে অর্ডারের পরিমাণ খুবই খারাপ। তবে প্রত্যাশা করা যায়, ১০ রমজানের পর থেকে অর্ডারের পরিমাণ বেশি হবে।

রিমা টেইলার্স এর স্টাফ মো. আহাম্মেদ বলেন, দৈনিক ৮ থেকে ১০ টা পোশাকের অর্ডার পরে। ৯ রমজান পর্যন্ত সর্বমোট ৬০ থেকে ৭০ পিছ অর্ডার জমা হয়েছে। অর্ডার নেওয়া পোশাকের মধ্যে পাকিস্তানী লোন ও সুতি কাপরের সংখ্যাই বেশি। তবে প্রত্যাশা করি, ১০ রমজানের পর থেকে অর্ডারের সংখ্যা আরো বাড়বে।

এছাড়া, নতুন ধাচের, নতুন ডিসাইনের কাপড় তৈরী না করলেও তৈরী পোশাক ফিটিং এর জন্যেও কয়েকজন দর্জিদের কাছে সরণাপন্ন হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, দর্জির দোকান গুলোতে পোশাক তৈরির মজুরী নেওয়া হচ্ছে সর্বনিম্ন ৩’শ থেকে শুরু করে পোশাকের ডিজাইন অনুয়ায়ী সর্বোচ্চ ১৫’শ টাকা পর্যন্ত। বেশ কয়েকটি দোকানে ২০ রমজান পর্যন্ত পোশাকের অর্ডার নেওয়া হবে। তবে বেশির ভাগ দোকানেই ঈদের আগের দিন পর্যন্ত পোশাক তৈরির অর্ডার নেওয়া হবে।

0