তৈরী পোষাক শিল্প প্রসারে বড় বাধা আইভী!

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জে ব্যবসা-বানিজ্য প্রসারে বড় বাধা এখন সিটি কর্পোরেশন। যেখানে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ সুবিধা দিয়ে চলেছে। কঠোর লক ডাউনের মধ্যেও গার্মেন্টস শিল্প খোলা রেখে জাতীয় অর্থনীতিকে সচল রাখার পথ তৈরী করে দিয়েছে, সেখানে বিকেএমইএ’র মতো জাতীয় সংগঠনের কার্যালয় নির্মাণে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। শুধু তাই নয়, তাদের আগ্রাসী নীতির কারনে ইতিমধ্যে টানবাজার, নিতাইগঞ্জের বড় বড় প্রতিষ্ঠান ব্যবসা-বানিজ্য অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। এমন অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। এসব কারনে দিন দিন তাদের ক্ষোভও বেড়েই চলেছে। ইতিমধ্যে বিকেএমইএর ভবন নির্মাণে প্রতিবন্ধকতা দূর না করলে সিটি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার ঘোষনা দিয়েছে ব্যবসায়ী নেতারা।

জানা গেছে, প্রচ্যের ডান্ডিখ্যাত নারায়ণগঞ্জ বরাবরই ব্যবসার জন্য প্রসিদ্ধ। বৃটিশ আমল থেকে উপমহাদেশের পাট বানিজ্যের সুতিকাগার ছিলো এই নারায়ণগঞ্জ। পাট যুগের অবসান হলে তৈরী পোশাক শিল্প সেই স্থান দখল করেছে। ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের মোট রপ্তানী আয়ের ৮৩ শতাংশ তৈরী পোশাক শিল্প থেকে এসেছে। সেই ব্যবসা বান্ধব নারায়ণগঞ্জকে আরও এগিয়ে নিয়ে গেছে নীট ব্যবসায়ীদের জাতীয় সংগঠন বিকেএমইএ। গার্মেন্টস শিল্পের সার্বিক উন্নয়ণে এই সংগঠন কাজ করলেও নিজস্ব কার্যালয়ের অভাবে আরও গতিশীল হচ্ছেনা। এজন্য বিকেএমইএ শহরের চাষাড়ায় স্থায়ী ভবন নির্মাণকাজ শুরু করে। সেই ভবন বর্তমানে ৩ তলার ছাদ দেয়া হয়ে গেছে। নির্মাণাধীন সেই ভবনের সামনের জায়গা, যেটির মালিকানা রাজউকের। ভবনের সামনের সেই জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রেখেছে সিটি কর্পোরেশন। যেখানে ব্যবসা বানিজ্য প্রসারে সরকারের পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনেরও এগিয়ে আসার কথা। নিজেদের জায়গা দিয়ে হলেও বিকেএমইএর কার্যক্রম আরও জোরদারে সহায়তা করার কথা, সেখানে উল্টো তাদের প্রধাণ কার্যালয় নির্মাণে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে সিটি কর্পোরেশন। যা নিয়ে ব্যবসায়ীদের ক্ষোভের শেষ নেই।

গার্মেন্ট ব্যসায়ীরা জানায়, তৈরী পোশাক খাতের রপ্তানি গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ছিল ৩ হাজার ৪১৩ কোটি ডলারের, যা দেশীয় মুদ্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার ১০৫ কোটি টাকা। করোনার কারণে গত অর্থবছর রপ্তানি কিছুটা কমে ২ হাজার ৭৯৪ কোটি ডলারে নেমে এসেছিল। তারপরও মোট রপ্তানি আয়ের ৮৩ শতাংশই তৈরি পোশাকের দখলে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার তথ্য পর্যালোচনায় উঠে আসে’ ২০২০ সালে তৈরি পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশকে টপকে ভিয়েতনাম হয়েছিল দ্বিতীয় শীর্ষ রফতানিকারক দেশ। তবে, চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে ভিয়েতমানকে পিছনে ফেলে আবার এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। এ সময়ে দুই দেশের রফতানি আয়ের পরিসংখ্যানে দেখা যায় তৈরি পোশাক রফতানি খাত থেকে ভিয়েতনামের চেয়ে ১৯৩ কোটি ৭২ লাখ ডলার বেশি আয় করেছে বাংলাদেশ। আগামী কয়েক মাসে এ ব্যবধান আরও বাড়বে বলে দাবি তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারকদের।

গার্মেন্ট ব্যসায়ীরা বলছে, চলতি বছর শেষ হতে হতে ভিয়েতনাম থেকে অনেক এগিয়ে যাবে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’। পোশাকের বিশ্ববাজারে যেন আর জায়গা হারাতে না হয়, সেদিকে নজর দিয়ে বঙ্গবন্ধু কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্মপরিকল্পনা সাজিয়েছে। তার সুফলও পাচ্ছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের তৈরি পোশাক রফতানি আয়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে ভিয়েতনামের চেয়ে ১৯৩ কোটি ৭২ লাখ ডলার বেশি আয় করেছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ এসময়ে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের মোট রফতানি আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৭৯ কোটি ৮৫ ডলারে আর ভিয়েতনামের হয়েছে ১ হাজার ৬৮৬ কোটি ১৩ লাখ ডলার।

তৈরি পোশাক শিল্পের সম্প্রসারণের সাথে সাথে বস্ত্র, সুতা, আনুষঙ্গিক উপকরণ, প্যাকেটজাতকরণের উপকরণ ইত্যাদি শিল্পেরও সম্প্রসারণ হতে থাকে। এতদ্ব্যতীত পরিবহন, ব্যাংকিং, শিপিং এবং ইন্সুরেন্স সেবার চাহিদাও বৃদ্ধি পেতে থাকে। এর সবটাই অতিরিক্ত কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে। এ ধরনের নতুন পরোক্ষ-কর্মসংস্থান মূলত তৈরি পোশাক শিল্প কর্তৃক সৃষ্টি, যার সুবিধাভোগী প্রায় ৩০ লাখ মানুষ।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার মেনুফেকচারার এন্ড এক্সপোটার্স এসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)’র ২২ তম সাধারণ সভা নারায়ণগঞ্জ শহরের সমবায় মার্কেটের ৬ষ্ট তলায় অনুষ্ঠিত হয়। ২৮ আগস্টের সভায় সভাপতির বক্তব্যে সেলিম ওসমান এমপি ক্ষোভের সাথে বলেন, চাষাঢ়ায় বিকেএমইএ’র নির্মাণাধীন ভবনের সামনের জায়গা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন দখল করে রেখেছে। তিনি এই জায়গা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের যদি কোনো ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে আইনের মাধ্যমে হোক কিংবা অন্য কোনো ব্যবস্থায়, এই জায়গা আমরা উদ্ধার করবো। আমরাও তো হরতাল করতে জানি। আমাদের এতগুলো সদস্য সবারই দুইটা করে হাত আছে। আমি আন্দোলনের ডাক দিলাম না, আমি সবিনয়ে নিবেদন রাখলাম। অতিসত্ত্বর যেন আমাদের জায়গাটা ছেড়ে দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিরা উৎসাহ দিলে ব্যবসায়ীরা ভালো থাকতে পারেন। কিন্তু আমাদের একটা সংস্থা আমাদের জায়গার সামনে পাওয়ার স্টেশন বানিয়ে বসে আছে। আপনার এলাকায় এত বড় উন্নয়নশীল কাজ করে এতগুলো টাকা ট্যাক্স দেয়। আপনারা কেনো আমাদেরকে বাধা দিয়ে রাখছেন?’

সেলিম ওসমান বলেন, ‘আরও দুই বছর আগে আমাদের এই ভবন সম্পন্ন হয়ে যেতো। আমাদের সামনের জায়গাটা ছেড়ে দিয়ে কেন চলে যাচ্ছেন না? আপনি বাড়ি বানালেন এক জায়গায়, আর ট্রান্সফরমার বসালেন আরেকজনের জায়গায়! জায়গাটাতো সিটি করপোরেশনের না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল বলেই আমরা এ জায়গায় ভবন করেছি। সিটি মেয়রের কাছে আমি অনুরোধ করবো, এই জায়গাটা আপনি খালি করে দিয়ে চলে যান।’

বিকেএমইএ’র সভাপতি বলেন, ‘আপনি যে এত বড় ভবন নির্মাণ করেছেন এবং ফ্ল্যাটগুলো বিক্রি করেছেন জায়গাটা কিন্তু সিটি করপোরেশনের ছিল না। ওইটা রাজউকের জায়গা। যাক, করেছেন ভালো কথা, কিন্তু আপনি ওইখানে কেনো ট্রান্সফরমার বসান না? আপনি কেন বিকেএমইএ’র ভবনের সামনে বসাচ্ছেন! আপনি কেন ব্যবসায়ীদের ক্ষতি করছেন? আমার কাছে সিটি করপোরেশন একটি টিনের ঘর করার কথা বলে নিয়ে গিয়েছিল। সেই জায়গা আজকে দখল করে বসে আছে তারা। ওইটা বসানোর জন্যে কিন্তু মাধবী প্লাজার নিচে জায়গা করা হয়েছিল। সেটার মধ্যে রেস্টুরেন্ট করে ভাড়া দিয়ে দেয়া হয়েছে।’

0