“তোমরা আমার বাজানরে কই নিয়া যাও”

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: একদিন আগেও হাসি ঠাট্টায় মুখর ছিল ছেলেটি, সেখানে আজ মায়ের দু-চোখের সামনে চিরনিদ্রায় ঘুমিয়ে আছে! সাবদি বেড়াতে যাবার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। সাড়ে ৭ ঘন্টা পর বাড়িতে ফিরলো ঠিকই, কিন্তু লাশ হয়ে। এই নির্মম বাস্তবতা মেনে নিতে পারছে না ছেলে হারা মা। বাড়িজুড়ে মায়ের আত্মচিৎকার থাকলেও বাড়ির দরজায় নিস্তব্ধ বসে আছে পিতা। চোখ বেয়ে পরছে নোনা জল।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে বন্দরের শীতলক্ষ্যা নদীতে মৃত মিহাদের বাড়িতে গিয়ে এ দৃশ্য দেখা যায়।

এ সময় মুরুব্বিরা বলছিলেন “লাশকে তো বেশীক্ষন রাখা যাবে না, লাশরে দাফন দিয়ে দেই।” ছেলেকে চোখের সামনে থেকে নিয়ে যাবার জন্য সবাই প্রস্তুত হলেও মায়ে মন তখনও বিশ্বাস করছে না ‘তার ছেলে আর নেই’। তখনও চিৎকার আর বাধা দিয়ে বলে “তোমরা আমার বাজানরে কই নিয়া যাও?’

কান্নায় ভেঙ্গে পরা নিহত মিহাদের চাচাতো ভাই আসিফ খান বলেন, ইস্পাহানী ঘাট এলাকার বড় শামীম আর শাকিল এই হত্যাকান্ডের মূল আসামী। এর আগেও ওই এলাকার ছেলেরা এমন কান্ড ঘটিয়েছে। ওরা আমার ভাইটারে নিয়া খুন করছে, তারপর নদীতে ফেলে দিসে। মিহাদের মাথার পিছনে সেই আঘাতের চিহ্নও আমরা পাইছি। ওই ঘটনায় আরও ছেলেরা মাইর খাইসে। অন্যরা হাতে পায় কোপ খাইয়া পলাইতে পারলেও আমার ভাই পারে নাই।

এদিকে জিসানের চাচা শরীফ বলেন, জিসানের কাছে কল আসছিলো। তারপরই হুটহাট করে বের হয়। আমরা জিজ্ঞাসা করেছিলাম কোথায় যাও, উত্তরে বলছে, একটু আসতাসি। এই যে গেল, ফিরলো লাশ হয়ে।

বন্দর থানার ওসি ফখরুদ্দিন ভুঁইয়া লাইভ নারায়ণগঞ্জকে জানান, ১০ আগস্ট বিকালে একদল কিশোর, অন্য দলকে ধাওয়া করে৷ সে সময় ওই মিহাদ-জিসান ঘাটের একটি নৌকাতে ওঠে৷ পরে সেখানেও এই কিশোর দল উঠলে ভয়ে তারা নদীতে ঝাপ দেয়৷ তখন নিখোঁজ হয় তারা৷ রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদের লাশ পাওয় যায়৷ ৬ জন আসামীকে আমরা আটক করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছি।

এ ঘটনায় মামলার বাদী দৈনিক কালের কথা পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক অভিযোগে উল্লেখ করেন, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের কারণে লোক মারফতে আমার ছেলে জিসান ও তার বন্ধু মিহাদকে ১০ আগস্ট বিকাল সাড়ে ৪টায় একরামপুর ইস্পাহানী খেয়াঘাটে কৌশলে ডেকে নেয় বিবাধীরা। পরে পূর্বে থেকে ওৎ পেতে থাকা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তাদের দুই জনকে এলাপাথারী ভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। লাশ গুম করার জন্য নদীতে ফেলে দেয়।

এদিকে, আজ বিকালে আদালতকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সাথে আসামীদের জড়িত থাকার তথ্য প্রমান পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, এজাহার নামীয় অপরাপর আসামীদের গ্রেপ্তার ও অজ্ঞাতনামা আসামীদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ পূর্বক গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।

পরে আদালতের বিচারক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ুন কবির আসামীদের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড প্রাপ্তরা হলেন-ঢাকার বাড্ডা থানার মেরুল বাড্ডা এলাকার গোলাম মাবুদ ওরফে হিমলাবের ছেলে আলভী (২০), নবীগঞ্জের বাগবাড়ী এলাকার আলফাজ উদ্দিনের ছেলে মোক্তার হোসেন (৫৫), একই এলাকার ছাবেদ আলীর ছেলে আহাম্মদ আলী (৪৫), তার পুত্র কাশেম (২০), মৃত মোহার আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন (৪৫) ও নশু মিয়ার ছেলে শিপুল (২৩)।

 

নিউজ পড়তে ক্লিক করুন

কিশোর গ্যাংয়ের ধাওয়া: শীতলক্ষ্যায় নিখোঁজ ২ জনের লাশ উদ্ধার

কিশোর গ্যাংয়ের ধাওয়ায় দুই জন নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৬

শীতলক্ষ্যায় দুই লাশ: পরিবারের দাবী ‘জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধে হত্যা’

 

0