তোলারাম কলেজে ছাত্রলীগের হাতে এবার মারধরের শিকার সাংবাদিক

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: শনিবার এক সাংবাদিককে প্রকাশ্যে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে মহানগর ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। ওই সময় ছাত্রলীগের নেতারা বলেন ‘এই কলেজেই পড়ো আবার সাংবাদিকতা করো। সততা দেখাও? নারায়ণগঞ্জের সব সাংবাদিকরে খাইয়া দিমু’। মারধর করে চলে যাওয়ার আগে মারাত্মক আহত সেই সাংবাদিককে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে বলে, ‘আজকে বাঁইচা গেলি। তোর পুলিশ বাবাদের গিয়ে এই কথা বললে একেবারে জানে মাইরা ফেলমু।’

শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে সরকারি তোলারাম কলেজের চতুর্থ তলায় প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ওই মারধরের ঘটনা ঘটে। ৩য় বর্ষের ফরম ফিল-আপ করতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জের অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘প্রেস নারায়ণগঞ্জ’ এর চিফ রিপোর্টার সৌরভ হোসেন সিয়াম ছাত্রলীগের বিতর্কিতদের মারধর শিকার হন। সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে আহত সৌরভ মহানগর ছাত্রলীগের নেতাদের হামলা ঘটনা গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে বর্ণনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সৌরভ বলেন, কয়েকদিন আগে তোলারাম কলেজে মার্কশিট তুলতে গিয়ে এক ছাত্রকে বেধড়ক পেটানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেটি নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকা ও অনলাইনগুলোতে সংবাদ প্রকাশিত হয়। আজ ফরম ফিলাপের কাগজপত্র তৈরি করে ফরম ফিলাপের জন্য কলেজে গেলে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক পিয়াস প্রধান, সহ-সম্পাদক তামিম, উপ সাংস্কৃতিক সম্পাদক মেহেদী প্রিন্স, তোলারাম কলেজ ছাত্র সংসদের লোক হিসেবে কলেজে পরিচিত মেহেদী হাসান প্রিন্স ও শাহরিয়ার পরশ (হৃদয়), সার্থক আহমেদ তোফা, শেখ হাবিবুর রহমান তামিমসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১২ জন ছেলে আমার ডিপার্টমেন্টের ভেতরে আসে। আমাকে দীর্ঘক্ষণ যাবৎ অনুসরন করতে থাকে। তারা আমাকে ২০১৮ সালের ২৩ এপ্রিল কলেজ ক্যাম্পাসেই মারধর করেছিলো বিধায় তাদের উপর আমার সন্দেহ হয়। ঘটনাটা একজন শিক্ষককে জানাই। তার পরামর্শে আমি ডিপার্টমেন্ট থেকে বের না হয়ে সেখানেই বসে থাকি। আমি ভেবেছিলাম, ওটা আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (ডিপার্টমেন্ট), সেখানে আমার পিতৃতুল্য শিক্ষকরা আছেন, শিক্ষার্থীরাও আছে। তাই সেখানে আমি নিরাপদ। এদিকে সেই ছেলেরা বারবার ডিপার্টমেন্টে আসা-যাওয়া করছিল।

আনুমানিক সোয়া বারোটায় পিয়াস প্রধান, শাহরিয়ার পরশ, মেহেদী. তোফা ও তামিমসহ অন্যান্যরা এসে আমাকে ডিপার্টমেন্টের ভেতরেই ঘিরে ধরে। তাদের মধ্য থেকে একজন আমাকে বলে, চল নিচে আয়। উত্তরে আমি বলি, আমি নিচে যাবো কেন? কিছু বলার থাকলে এখানেই বলো। আমি যেতে না চাইলে তারা আমাকে টেনে নিচে নিয়ে যেতে চায়। এক পর্যায়ে আমি স্যারদের ডাকাডাকি করলে ওরা ডিপার্টমেন্টের ভেতরেই আমাকে এলোপাথারি কিল-ঘুষি-লাথি মারতে থাকে। মারতে মারতে তারা বলে, এই কলেজেই পড়ো আবার সাংবাদিকতা করো। সততা দেখাও? নারায়ণগঞ্জের সব সাংবাদিকরে খাইয়া দিমু। একথা বলতে বলতে তারা মারতে মারতে তারা আমাকে ডিপার্টমেন্টের বাথরুমের দিকে টেনে নিয়ে যেতে চাইলে আমি চিৎকার করতে থাকি। এক পর্যায়ে ওরা মারধর করে চলে যাওয়ার আগে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে বলে, আজকে বাঁইচা গেলি। তোর পুলিশ বাবাদের গিয়ে এই কথা বললে একেবারে জানে মাইরা ফেলমু। এক শিক্ষকের সহায়তায় আমি সেখান থেকে বের হয়ে আসি। পরবর্তীতে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সৌরভ জানান, এর আগেও গত বছরের ২৩ এপ্রিল সংবাদ প্রকাশের জেরে তোলারাম কলেজের ছাত্রছাত্রী সংসদ কক্ষের ভেতরে নিয়ে গিয়ে আমাকের বেধরক মারধর করে। পিয়াস প্রধান, পরশ, মেহেদী। এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছিল। জিডি নম্বর- ১৩৩২। তারিখ-২৪/০৪/২০১৮। আজ কোন কারণ ছাড়াই তারা আমাকে মারধর করে। কলেজের শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি, এতে করে ঐতিহ্যবাহী তোলারাম কলেজের সুনাম ক্ষুন্নসহ শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে সাহসী সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ হচ্ছে। এমন অবস্থায় আমি জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি পাশাপাশি তোলারাম কলেজের শিক্ষার পরিবেশ ও নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছি।

ছাত্রলীগ নেতাদের এমন বেপরোয়া ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে নিন্দার ঝড় উঠেছে সাংবাদিক সমাজে। অবিলম্বে এবিষয়ে ব্যবস্থা না নেয়া হলে কঠিন কর্মসূচি তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

সরকারি তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ বেলা রানি সিংহ গণমাধ্যমকে জানান. আমি এ বিষয়টি শুনেছি তাও পুলিশের কাছ থেকে। তারপরেও সেই ছাত্র আমার কাছে অভিযোগ জানালে আমি বিষয়টি দেখবো।

উল্লেখ্য, বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে সরকারি তোলারাম কলেজ ক্যাম্পাসের সামনে ছাত্রদল নেতা শাহ্ জাহানের উপর ৩ দফা হামলা চালিয়েছিলো ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

0