থেমে থাকেনি রেল কর্তৃপক্ষের উচ্ছেদ

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেন নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশনে প্রবেশের আগেই বাধার মুখে পরে। ওই সময় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বঙ্গবন্ধু সড়কের যানচলাচলও বন্ধ করা হয় ‘রেলক্রসিং বার’ ফেলে রেখে। বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) ২নং রেলগেইট সংলগ্ন থান কাপাড় মার্কেট এলাকার সকাল পৌনে নয়টার সময়ের চিত্র।

গত কয়েক দিনের রেল উচ্ছেদের ধারাবহিকতায় বৃহস্পতিবার সকালে কয়েকটি ভেকু আসে ২নং রেলগেইট সংলগ্ন থান কাপাড় মার্কেট এলাকায়। উচ্ছেদের প্রস্তুতি নিতে থাকে কর্তৃপক্ষ। অন্য দিকে জড়ো হতে থাকা ব্যবসায়ীরা নানা শ্লোগান দিতে থাকে। তারা মার্কেট এলাকাসহ ২নং রেলক্রসিং বার এর সড়কটিতে অবস্থান নিতে শুরু করে। পৌনে ন’টার সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি নারায়ণগঞ্জ স্টেশনে প্রবেশ করতে পারে নি। উত্তেজিত বিক্ষোভরত ব্যবসায়ীরা ওই সময় ট্রেনলাইন অবরোধ করে রাখে। ড্রাইভার দ্রুত ট্রেনটিকে থামিয়ে দিতে বাধ্য হয়। ওই সময় বঙ্গবন্ধু সড়কের যানচলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। পরিবহন গুলো বিকল্পপথে (১নং রেলগেইট হয়ে কালিরবাজার সড়ক) চলাচলের চেষ্টা করে। চরম দুর্ভোগে পরে অফিস ও স্কুলগামীরা।

বিষয়টি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। শেষ পর্যন্ত ট্রেনটি সকাল ৯টায় নারায়ণগঞ্জ ষ্টেশনে গিয়ে পৌঁছায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য উপস্থিত থাকা পুলিশের এসআই আমিনুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমরা বেশি কিছু বলতে পারছি না। উপরের কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা পদক্ষেপ গ্রহন করেছি। আমরা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করছি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য।

পুলিশ ১ঘন্টার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে। এর পর সকাল সাড়ে ৯টা থেকে  ডিপুটি কমিশনার (বাংলাদেশ রেলওয়ে) মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ১৬ কিলোমিটার রেললাইন ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নগরীর দুই নং রেলগেট এলাকায় থানকাপড়ের মার্কেটে দ্বিতীয় বারের মতো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় নেমে বাধার মুখে পরে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তবে, কোন বাধাই কাজে আসেনি।

মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমি আসার পর কেউ কোন অবরোধ করেনি এবং আমার কাছে ব্যবসায়ীরা কোন দায়-দাবিও করেনি। দেখেন এখানে রেল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৮৯৫ সালে। অতএব এখানে অবৈধ দখলও অনেক পুরানো। তাই অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে গেলে তাদের কক্ট ও খারাপ লাগে। তাদের যেমন খারাপ লাগে আমাদেরও তেমন খারাপ লাগে। অনেকের সুযোগ-সুবিধা ও অসুবিধার কথা ভেবে তাদের সময় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা যে সব চাচ্ছে তা বৈধ না।

রেলওয়ের ভূমি বিষয়ক এই কর্মকর্তা আরও বলেন, আমরা চাইলে ব্যবসায়ীদের উপরে লাঠিচার্জ করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে পারতাম। কিন্তু আমরাও বুঝি যে, তাঁরা ক্ষতিগ্রস্থ। তাই বিষয়টি আমরা ঠান্ডা মাথায় নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছি।

এদিকে, ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আমাদের ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য সরকার যেন একটি ব্যবস্থা গ্রহন করে। আমাদের কষ্ট হচ্ছে সরকারের কাছে একটাই যে, আমাদের ব্যবসায়ীদের জন্য কোন একটা ব্যবস্থা না নিয়েই এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে। এতে করে আমাদের মতো ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের কি হবে? আমরা তো আর অবৈধ ব্যবসা করছি না। আমার ব্যবসায়ীরা তো সরকারকে ভ্যাট দিয়ে থাকি। অন্যদিক দিয়ে দেখলে বাংলাদেশের অন্যতম একটি বাণিজ্যিক স্থান এই থান কাপড়ের মার্কেট। রেলওয়ের জন্য যতটুকু জায়গা প্রয়োজন তা রেখে অবশিষ্ট জায়গা গুলো ব্যবসায়ীদের জন্য রেখে দিতো। তাহলে আমরা উপকৃত হতাম।

0