দলে প্রতিযোগিতা থাকবেই, অনেকেই মনোনয়ন চাইবে

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডের একটি রাস্তা মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণ করছি। আপনাদের সকলের সম্মতিতেই আমি এই পাঠাগারের নামকরণ করেছি মুক্তিযোদ্ধা সিটি কমপ্লেক্স। আজ এর ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন, যত দ্রুত সম্ভব এই কাজটি হয়ে যাবে। ২১ নং ওয়ার্ডের সব রকমের কাজ শেষ, শুধু কিছু কিছু কাজ বাকি আছে। নারীদের অধিকার রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এখনো স্লোগান দেয়ার সময় আসে নাই। যেহেতু নেত্রী আমাকে এখনো নমিনেশন দেয়নি। আমাকে যখন নমিনেশন দিবে তখন আমি অবশ্যই আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসবো। আপনাদের নিয়েই আমরা স্লোগান দিবো। দলে প্রতিযোগিতা থাকবেই, অনেকেই মনোনয়ন চাইবে। প্রধানমন্ত্রী যাকে দিবেন সেই নির্বাচন করবে। আমার দৃর বিশ্বাস যে আমি এই নমিনেশন পাইতেই পারি। কারন আমার এমন কোন কর্মকান্ড ছিলো না যেটা আমার দলকে বিতর্কিত করেছে বরং আমি বলবো, আমি যেখানেই গেছি প্রধানমন্ত্রীর কথা বলেছি, মুক্তিযুদ্ধের কথা বলেছি এবং আপনাদের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি।


শনিবার (২ অক্টোবর) বিকেলে বন্দর ২১ নং ওয়ার্ডের শাহী মসজিদ এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা সিটি কমপ্লেক্স ভবনের ভিত্তি প্রস্তর ও মুক্তিযোদ্ধা সড়ক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র আইভী বলেন, ২০০৯ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ছিলো ৯০০ টাকা এখন হয়েছে ২০ হাজার টাকা। এটি পুরোটাই আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান। সব রকমের ভাতার জন্য এ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের এমন কোন ওয়ার্ড নেই যেখানে কাজ হয়নি। এখানে অনেক মাঠ আছে, পুকুর আছে এখানে কাজ করে সুবিধা আছে। এগুলোর বর্ননা দিতে গেলে অনেক সময় চলে যাবে। এই ওয়ার্ড গুলোর কাউন্সিলররা যথেষ্ট কাজ করেছেন আশা করি সেগুলো আপনারা মনে রাখবেন। এখানে আমরা যত গুলো পুকুর পেয়েছি সবগুলোতে কাজ করার চেষ্টা করেছি। ২৩ নং ওয়ার্ডে শ্মশানের কাজ চলমান। ২৬ নং ওয়ার্ডেও শ্মশান আছে সেটারও কাজ চলমান। যেখানেই যাবেন সেখানেই দেখবেন সিটি কর্পোরেশন কাজ করেছে। তারা এতোদিন দাড়িয়ে যে জায়গায় অনুষ্ঠান (কর্মীসভা) গুলো করেছে সেগুলো প্রতিটাই সিটি কর্পোরেশনের রাস্তা বা মাঠ। ঠিক তার উপরেই দাড়িয়ে তারা বলে রাস্তা ঘাটের কাজ হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আমি সকল মুক্তিযোদ্ধাদের বলতে চাই, যদি আপনারা আমাকে বলেন যে এই সমর ক্ষেত্রটি আছে তুমি উন্নয়ন করে দাও। তাহলে যত টাকা লাগুক উন্নয়ন করে দিবো মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য। এই কমপ্লেক্সটি যেভাবে পরিচালনা করতেন আগামীতেও সেভাবেই পরিচালনা করবেন। যেহেতু এতো বড় একটি ভবন করে দিবো তাই আমি আশা করি পাশেই যে হসপিটালটা, সেটার জন্য আপনারা সহযোগিতা করবেন। এখানে যে ডাগোনস্টিক সেন্টার ছিলো এটা আমাদের হসপিটালের তত্বাবধানে পরিচালিত হবে। আগামী ৫ তারিখ আমাদের দেওভোগ যে একটা হসপিটাল আছে সেখানে একটি ডাগনেস্টিক সেন্টার করতে যাচ্ছি। আমরা ৭টা বেড নিয়ে শুরু করবো। ডাগনস্টিক যে সেন্টার টা সেটা আমরা সোনার বাংলা ফাউন্ডেশন নামে এক এনজিও’র সাথে শুরু করেছি। ১৯ নং ওয়ার্ডে আর একটি হসপিটাল এর জন্য আমাদের টেন্ডার হয়ে গিয়েছে। অতি শিগ্রিই এটার কাজ শুরু হয়ে যাবে।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সেলিম ওসমানকে উদ্যোশ্য করে মেয়র আইভী বলেন, অনেকে ধমকের সুরে কথা বন্ধ রাখতে বলে। কীভাবে কথা বন্ধ রাখবো? আমার কাজই তো জনগণের সাথে কথা বলা। আমি তো ঢাকায় বসে থাকি না। আমার তো ঢাকায় ফ্ল্যাট না। যারা বড় বড় কথা বলে তারা কিন্তু সবাই ঢাকায় থাকে। নারায়ণগঞ্জে ব্যবসা করে, চাঁদাবাজি করে সব গুছিয়ে রাতের বেলা সেগুলো নিয়ে ঢাকায় চলে যায়। আর দিনের বেলা আইসা বড় বড় কথা বলে। ৪০ বছর যাবৎ এই নারায়ণগঞ্জ শহরকে লুটপাট করে খাচ্ছেন। মানুষ মারছেন, হত্যা করছেন। মাথা আর মাথা দেখা যাবে বলে হুমকি দেন। মানুষকে পিষে মারতে চান। মুক্তিযোদ্ধাদের দুই টাকার সম্মান দেন না। তাদেরকে তাদের মতো কাজ করতে দেন না। মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে স্বাধীনতা নাই। কোনো মুক্তিযোদ্ধা কথা বলতে পারে না। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের সংগঠন করতে দেন না। বড় বড় কথা তাহলে কেন বলেন? নারায়ণগঞ্জ শহরের মানুষ আপনার কথা বলা বন্ধ করে দেবে।

মেয়র আইভী আরও বলেন, কাকে ধমক দেন। নদীর এ পারে আসলেই কলিজা বড় হয়ে যায়। এই পাড়ের মানুষদের জুজুর ভয় দেখায়। কিন্তু নদীর ওইপাড়ে আবার বড় কথা বলতে পারে না। তারা মনে করে মানুষ নদী পাড় হয়ে যায়। কখন কারে গুলি করবে, কারে নিয়া আটকাবে, কারে নিয়া অত্যাচার করবে। আমি কথা বলতে বলতে আজ এসব বন্ধ হয়েছে। সুতরাং এইসব বাদ দিয়া মানুষের কাতারে আসেন। আপনি আপনার কর্মচারী কাজলকে মেরে, গলায় জুতার মালা পড়িয়ে আপনি বের করে দিয়েছিলেন। আবার কি কারনে জানি, ওকে আবার মাথায় তুলেছেন। ওই রাজাকারের ছেলেকে দিয়ে সবকিছু লুটপাট করে খাচ্ছেন। একটি কথা মনে রাখবেন, মায়ের জাত, সম্মান করে কথা বলবেন। আপনে আমারে ক্ষমা চাইতে বলেন, এতো বড় দুঃসাহস আপনার কিভাবে হয়। দুঃসাহস বেশি দেখাবেন না মিস্টার ওসমান। কখনো কিছু বলিনাই, যেদিন বলার সময় আসবে সেদিন আপনি পালাতেও পারবেন না।

২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান সরকারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজ বিভা হাসান, নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাড. এবি সিদ্দিক, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান, মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা জালালউদ্দিন, বন্দর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার আব্দুল লতিফ, নাসিকের ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহমেদ ভূঁইয়া, ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফয়সাল মো. সাগর, সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর শিউলী নওশাদ, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির এলিন, মহানগর যুবলীগের সহসভাপতি আহাম্মদ আলী রেজা রিপন, কামরুল হুদা বাবুসহ অনেকে।

0