‘আজ থেকে ১০-১২ বছর আগেও থামিয়ে রাখা যায়নি এই আইভীকে’

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ‘এভাবে ধমক দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে এখানে আসা বন্ধ করে দিলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তাদের নাম নেয়াতে আসলেন না। এতো জুজুর ভয় কেন? আমি এই অনুষ্ঠানের আয়োজকদের বলেছিলাম, মাত্র পাঁচজন ছেলে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে কেউ না আসলেও আমি আসবো। এতো ভয়ের কিছু নেই। ধমকি দিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরকে থামিয়ে রাখা যাবেনা।’

বুধবার (২৯ মে) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবনের সিননামুন রেস্টুরেন্টে স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ (স্বাচিপ) নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

মেয়রের দাবি, ‘নারায়ণগঞ্জে কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোক এটা আমরা চাইনা। আমি হুশিয়ার করে সেসব ডাক্তারদের বলতে চাই যারা ডিজিএফআই দিয়ে সারাক্ষণ হুমকি ধমকি দিয়েছেন এটা বন্ধ করার জন্য এটা মোটেও উচিত হয়নি। একটা সংগঠন অনুষ্ঠান করতেই পারে, আপনারা অনুষ্ঠান করবেন সেটিও করতে পারেন। আজ থেকে ১০-১২ বছর আগেও থামিয়ে রাখা যায়নি এই আইভীকে। সবসময় ভয় দেখানো যায়না। মারামারি নয়, একজনের বিরুদ্ধে আরেকজনের কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি না এটা শৃঙ্খলার একটি সংগঠন। নিজের অধিকার লঙ্ঘন করা, কটুক্তি করা এবং এটাতে হস্তক্ষেপ করা উচিৎ নয় বলেই আমি মনে করি।’

স্বাচিপ সংগঠনের মুরুব্বিদের উদ্দেশ্যে মেয়র বলেন, আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে উভয় পক্ষকে ডেকে নিয়ে কি করা যায় সেটি দেখবেন। আজ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে, তাই আমরা সকলেই নেতা বনে যাচ্ছি। কিন্তু দল যখন ক্ষমতায় থাকেনা তখন দেখা যায়, আসলে কারা কাজ করে। আমি জানি দুঃসময় হলে আমরা অনেককে খুঁজে পাবনা। তাই বিভ্রান্তি এড়াতে একটি সংগঠন করে দেন।

মেয়র আইভী বলেন, চিকিৎসাক্ষেত্রে কোন বিভক্তি থাকুক এটা আমরা চাইনা। নিজেদের মধ্যে এধরণের বিভক্তি তৈরি করা ঠিক না। যখন তারা আমার সাথে ছিলো তখন তারা ঠিক ছিলো। আজ তারা কেন রাতের আধারে কমিটি করবে। আজ কেউ কাউকে মানেনা। মুরুব্বিদের তারা কোন তোয়াক্কা করেনা। এমন হওয়ার কথানা। এর কারণ হলো কেন্দ্রীয় গ্রুপিং এর কারণে সারা বাংলাদেশে গ্রুপিং তৈরি হচ্ছে। প্রথমে কেন্দ্রের গ্রুপিং কমাতে হবে, এরপর সবজায়গার গ্রুপিং বন্ধ করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাচিপ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক ডা.উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, একটি সংগঠনের মধ্যে বিভিন্ন মত থাকতে পারে। আমাদের মধ্যে সংগঠনে পক্ষ বিপক্ষ থাকতে পারে। আমাদের স্বাচিপের সংবিধানে লিখা আছে আমাদের এক একটি ব্রাঞ্চ স্বতন্ত্রভাবে একটি সংগঠন। এটি কেন্দ্রীয় স্বাচিপের আন্ডারে থাকলেও প্রত্যেকটি ব্রাঞ্চের স্বতন্ত্রিক অধিকার আছে। গঠনপ্রক্রিয়ায় স্পষ্ট ভাবে বলা আছে, সরাসরি ভোটে ব্রাঞ্চ তাদের নির্বাচনের মাধ্যমে একটি শাখা কমিটি গঠিত হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় আমরা লক্ষ করছি আমাদের স্বাচিপের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, মহাসচিব কখনো কখনো দপ্তর সম্পাদক অথবা অন্যান্য ছাত্রলীগের কমিটির মতো একটা ফেসবুকের মাধ্যমে একটি কমিটি ঘোষণা করে দিয়ে তাদের সংগঠনকে খন্ডিত করে গঠনতন্ত্রকে ধংস করে দিচ্ছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আমরা এর প্রতিবাদ জানার জন্য কেন্দ্রীয় পরিষদে সাধারণ সভা ডাকার জন্য আহবান করেছি কিন্তু বার বার আহব্বান করার পরেও তারা সেই সভা ডাকেনা এই জবাবদিহিতার ভয়ে।

স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ডা. আতিকুজ্জামান সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাচিপের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মো.জামাল উদ্দিন চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক ডা.উত্তম কুমার বড়ুয়া, ডা.পুরভী দেবনাথ, ডা.মাহবুবুর রহমান বাবু, ডা.হাফিজুর রহমান, ডা.রাকিবুল ইসলাম, ডা.সালেহ মো.আতিক, ডা.নিজাম আলী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জিএম আরমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত, কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাসসহ স্বাচিপ নারায়ণগঞ্জ জেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

২৩৩
0