‘দিপু-চন্দন-বাদল-খোকন-শামীমের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই’

0

স্টাফ করেসপন্ডেট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ : আইনজীবীদের দু’গ্রুপের দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে ঐক্যর বন্ধনে আবদ্ধ করলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।

১৯জানুয়ারি ( রবিবার ) দিপু-পলু প্যানেলের আংশিক প্রার্থীতা প্রত্যাহারের পর আদালত পাড়ায় এসে উপস্থিত সাংবাদিক ও আইনজীবীদের সামনেই আওয়ামী আইনজীবীদের দুই গ্রুপের কোলাকুলির মাধ্যমে মিলিয়ে দেয়া হয়।

দিপু-পলু প্যানেলের অ্যাড. আনিসুর রহমান দিপু ও মোহসীন-মাহবুব প্যানেলের অ্যাড. মো. মোহসীন মিয়া একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। এসময় পাশে দাড়িয়ে ছিলেন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।

এর পর উপস্থিত আইনজীবী ও গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশ্যে শামীম ওসমান তার বক্তব্যে বলেন, রাজনীতি একটা কৌশল। এখানে অনেক সময় অনেক কৌশল করতে হয়। আমরা রাজনীতি করতে এসেছি, আমরা একটা পরিবারগত ভাবে রাজনীতি করি। আমি, খোকন সাহা, চান্দন আমরা ৭৫এর পর থেকে আওয়ামীলীগ করে আসছি। তখনও জানতাম না আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসবে কিনা। কারণ, তখন আমাদের নেত্রী দেশে ছিলেন না। ৭৯এর শেষ দিকে আমরা জিয়াউর রহমানের গাড়ী আটকিয়ে দিয়েছিলাম, তখন অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলাম ।

তার এই বক্তব্যের সময় তার দুই পাশেই আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ও আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। অ্যাড. আনিসুর রহমান দিপু, অ্যাড. হাবিব আল মুজাহিদ পলু, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ্ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, পাবলিক প্রসিকিউটর ওয়াজেদ আলী খোকন, সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অ্যাড. সামসুল আলম ভূইয়া।

শামীম ওসমান আরও বলেন, আমি ভিপি থাকা অবস্থায় শাহ আজিজুর রহমানসহ জিয়াউর রহমানের ১৯জন মন্ত্রী তোলারাম কলেজে প্রবেশ করতে পারে নাই।

তিনি আরও বলেন, দিপু, চন্দন, বাদল, খোকন, শামীমের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই। আমাদের নামে পার্থক্য আছে , কিন্তু আত্মার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। আমার বিশ্বাস মৃত্যুর আগ মূহুর্ত পর্যন্ত পার্থক্য হবে না। কিছু কিছু জায়গায় গ্যাপ হয়, পরিবারের মধ্যে ৩টা ভাই থাকলে তিনজনের তিন রকম মন্তব্য থাকতেই পারে। অনেক সময় দেখা যায় অনেক যোগ্যতা সম্পন্ন লোককে বাদ দিয়েও অনেক অযোগ্য লোককেও দিতে হয়, কৌশল হিসেবে । নির্বাচন একটা কৌশল, দল একটা কৌশল। যারা আজকে ত্যাগ স্বীকার করলো তাদের অন্য জায়গায় পুরষ্কৃত করা হবে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়েছিল আমি দেশের বাহিরে ছিলাম। আমি ১১জানুয়ারি দেশে এসেছি। তখন অনেক কিছুই কমপ্লিট হয়ে গিয়েছিল।

শামীম ওসমান বলেন, আমি মনে করি আদালত পাড়া হলো ন্যায়ের পক্ষে কথা বলার জায়গা। আদালতের কমিটি মানুষকে ন্যায্যতা দিতে পারে এবং যারা রাজনীতি করে তাদের এ জায়গায় থাকা দরকার। জনাব সেলিম ওসমানের নেতৃত্বে এবং সহযোগীতায় বার ভবন নির্মান হয়েছে।

বারের নির্বাচন প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, আমরা একটা পরিবার, আমৃত্যু পরিবার হিসেবে থাকবো। এই পরিবারে ভাঙ্গন দেওয়ার জন্য অনেকে অনেক খেলার চেষ্টা করছে। টাকা, পয়সা, কালো-টাকা, বন্দুক, হত্যা, বোমা-হামলা সবকিছু দিয়েই চেষ্টা করছে। শেষ পর্যন্ত কিছু হয়তো করতে পারছে। কিন্তু এই পরিবার ভাঙ্গতে পারে নাই, আগামীতেও কেউ ভাঙ্গতে পারবে না। এবার এই বার নির্বাচনে নিরঙ্কুস সংখ্যাগরিষ্ঠের মাধ্যমে ও মহোসীন-মাহবুব প্যানেল জয়লাভ করবো আশা করি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন,শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া সাজনু, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এহসানুল হক নিপু, সাবেক জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাফায়েত আলম সানি, অ্যাড. রুবেল আমিন রনি, অ্যাড. মশিউর রহমান, অ্যাড. আলআমিনসহ নেতাকর্মী ও আইনজীবীবৃন্দ।

0