ঢাকা থেকে আসার পথে আমার গাড়ির ব্লু-বুক চেক করা হয়েছিল: শামীম ওসমান

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: জার্মানে ব্যবসা করতে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে এক প্রতিষ্ঠিত জার্মানীকে প্রশ্ন করেছিলাম, তোমরা হিটলারের দেশে হওয়ায় সব দেশের হামলার শিকার হয়েছিলে। তোমাদের দেশ অর্থনীতিতে পঙ্গু হয়ে গিয়েছিল। কিভাবে তোমরা ঘুরে দাঁড়ালে? ওই ব্যবসায়ীর জবাব ছিল- আমরা সে সময় থেকে দেশকে দাঁড় করাতে এক বেলা রুটি খেয়েছি ও আরেক বেলার খাবারের অর্থ পরের প্রজন্মের জন্য জমিয়ে রেখেছি। এভাবেই আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি।

বুধবার (১৫ জুলাই) নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘ক্যান্সারে আক্রান্ত ক্রিকেট কোচ শাওনের পাশে দাঁড়াই’শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো.জসিম উদ্দিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ডিআইজি মালিক খসরু।

ক্যান্সারে আক্রান্ত শাওনের চিকিৎসায় এগিয়ে আসে স্পিকআউট নামের সংগঠন। অনুষ্ঠান থেকে শাওনের হাতে চিকিৎসা সহায়তা তুলে দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- স্পিকআউট এর উদ্যোক্তা বিশিষ্ট সাংবাদিক সুপন রায়, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ টিটু, কোষাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর হোসেন মোল্লা, ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক খোরশেদ আলম নাসির, সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, ফিরোজ মাহমুদ সামা, মাহবুব হোসেন বিজন, এনটিভির জেলা প্রতিনিধি নাফিজ আশরাফ, বিশিষ্ট সমাজসেবী রাজিব আহমেদ প্রমুখ।

করোনাকালের ভয়াবহ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, আগামী ৩ মাস পর ঝড় আসছে, এ ঝড়ে কতটুকু ক্ষতি হবে তা জানি না। কিন্তু, যে ঝড় আসছে তা অনেক মারাত্মক ঝড়। সেটা হবে অর্থনৈতিক মহামন্দা। কারণ, সারা পৃথিবী কিন্তু একসাথে মহামন্দায় আটক আছে।

এমন অবস্থায় কিভাবে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, আমরা পরের প্রজন্মের জন্য কি কিছু করতে পারছি? কিন্তু হায় আফসোস আমাদের দেশে যে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা এনেছিলাম। আমার সেই নেতাকে সাড়ে তিন বছরের মধ্যে হত্যা করেছি। সেই বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়তে আজ তার সুযোগ্য কন্যা রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন ।

তরুণ প্রজন্মের প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, আমি হতাশ হই না সহজে। আমি আশবাদী হয়েছিলাম সেই দিন। কয়েক বছর আগে যখন রাস্তায় শিক্ষার্থী সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুর পর সারাদেশের স্কুলের ছাত্ররা জেগে উঠেছিল।  আমি মনে করেছিলাম এরা মনে হয় ফেসবুক দেখতে দেখতে শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু, দেখলাম এদের প্রতিবাদ এবং দেশের প্রতি এদের দরদ ও এদের ন্যায় বিচারের আন্দোলন আমার মন কেড়েছে। এই ছাত্ররা ঢাকা থেকে আসার পথে পথে আমার গাড়ী চেক করে ব্লু বুক দেখেছে ঠিক আছে কিনা। যখন দেখেছে ঠিক আছে আমার গাড়ী ছেড়ে দিয়েছে। যে দেশের ওই ছোট ছোট ছাত্ররা গাড়ীর ব্লুক বুক চেক করতে পারে। আমি সম্পূর্ণ আশাবাদী, এদেশের ওই ছাত্ররা দেশের ভবিষ্যৎতকে এগিয়ে নিতে দূর্নীতি চেক করতে পারবে।

করোনাকালে যাকাত ফান্ড প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, দেশে করোনা মহামারীর সময় থেকে যে কোন সময় দেশের দুস্থ মানুষদের রক্ষায় আমার কাছে একটি উত্তম ফর্মূলা রয়েছে । তা হলো যাকাত ফান্ড তৈরী করা। আর তার প্রধান হবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী। এরপর সর্বজন স্বীকৃত আলেম ওলামা যাদের নিয়ে কোন বিতর্ক নেই । সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। শিল্পপতি, মিডিয়া, রাজনীতিবিদ, পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী, সাংবাদিক ও সরকারি কর্মকর্তা সকলকে নিয়ে একটি কমিটি হতে পারে। দেশে ১ কোটি লোক আছে যারা ৫ লাখ করে যাকাত দেয়ার সামর্থ্য আছে। সবার সমন্বয়ে আমার ভূমিহীন ও কর্মহীন মানুষের মধ্যে যাকাত ফান্ড দিয়ে বাড়ি নির্মাণ ও কাজের সংস্থা করতে পারি। এ থেকে সুদমুক্ত ঋন নিয়ে মানুষ ব্যবসা করে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তাহলে দেখবেন দেশে এক সময় যাকাত দেয়ার লোক খুঁজে পাবেন না।

0